নিজস্ব প্রতিবেদক: রমজানের প্রথমদিন গ্যাসের সংকটে রাজধানীর অনেক এলাকায় জ্বলেনি চুলা। হঠাৎ করেই এমন সমস্যার ফলে ইফতারি তৈরিসহ রান্নার কাজে ভোগান্তিতে পড়েন রাজধানীবাসী।
চলমান এই গ্যাস সংকট কাটিয়ে উঠতে আরও কয়েকদিন সময় লেগে যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গ্যাস সরবরাহ সমস্যা সমাধান হতে আরও কয়েকদিন অর্থাৎ ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।
এদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী ৭ দিন অর্থাৎ ১০ এপ্রিল পর্যন্ত এ সমস্যায় পড়তে হবে রাজধানীবাসীকে। রোববার সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে বিদ্যুৎ ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় জানায়, বিবিয়ানা ক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলন হঠাৎ করে সমস্যা তৈরি হওয়ায় তার প্রভাব পড়ে সারা দেশে। বিশেষ করে রাজধানীর গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায়। শেভরন পরিচালিত এই গ্যাসক্ষেত্রে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে। অভিজ্ঞ প্রকৌশলীরা মেরামতের কাজ করে যাচ্ছেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে আশা করা যাচ্ছে। গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানা গেছে, দেশের বড় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মধ্যে বিবিয়ানা অন্যতম। সেই ক্ষেত্রের ছয়টি কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের জোগানের সংকট তৈরি হয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে রাজধানী ঢাকায়। সংকট কাটিয়ে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক হতে কমপক্ষে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। বিবিয়ানার ছয়টি কূপ থেকে গত শনিবার রাতে গ্যাস উত্তোলনের সময় বালি উঠতে শুরু করে। এ কারণে গ্যাস উত্তোলন কাজ বন্ধ করে দিতে হয়। আবাসিক এলাকায় সাধারণত প্রায় ২৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এখন সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ১৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট।
রাজধানীর আগারগাঁও, শেওড়াপাড়া, মোহাম্মদপুর, কাফরুল, আদাবর, বনশ্রী, রামপুরা, আজিমপুর, লালবাগ, ধামমন্ডি, সিদ্ধেশ্বরী, কাঁঠালবাগান, মিরপুর, ক্রিসেন্ট রোড, জিগাতলা, শ্যামলী, কল্যাণপুর, এলিফ্যান্ট রোড, গ্রিন রোড, মতিঝিল, সেগুনবাগিচা, নারিন্দা, মিরপুর ১, ২ ও ১০ নম্বর এলাকায় গতকাল গ্যাসের সংকট দেখা দেয়।
রমজানে এমন গ্যাস সংকটের বিষয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।




