নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম : পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর ও উপজেলার ২২৮টি স্থায়ী-অস্থায়ী পশুর হাট বসছে। ২২৮টি হাটের মধ্যে ৭৫টি স্থায়ী এবং ১৫৩টি অস্থায়ী পশুর হাট রয়েছে। এর মধ্যে নগরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ব্যবস্থাপনায় ১৩টি হাট রয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, এবার চট্টগ্রামে কোরবানি পশুর সম্ভাব্য চাহিদা রয়েছে আট লাখ ৯৬ হাজার ২৬৯টি। বিপরীতে চট্টগ্রামে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত গবাদিপশুর সংখ্যা রয়েছে আট লাখ ৬০ হাজার ৮৮২টি। অর্থাৎ চাহিদার বিপরীতে ঘাটতি রয়েছে ৩৫ হাজার ৩৮৭টি কোরবানির পশু।
এ বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর বলেন, স্থানীয় উৎপাদন কম হলেও এবার কোরবানির পশুর সংকট হবে না। কারণ ব্যাপারীরা চট্টগ্রামের কোরবানির পশুর হাটগুলোয় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে গরু নিয়ে আসেন। একই সঙ্গে পার্বত্য জেলাগুলো থেকেও গরু আসে চট্টগ্রামের হাটগুলোয়।
জানা যায়, গত বছরের তুলায় এবার আট হাজার ৫২৩টি গবাদিপশু উৎপাদন হয়েছে হয়েছে। গত বছর চট্টগ্রামে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন হয়েছিল ছিল আট লাখ ৫২ হাজার ৩৫৯টি গবাদিপশু।
চট্টগ্রামে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কোরবানির পশুর মধ্যে গরুর সংখ্যা বেশি। এবার মোট উৎপাদিত কোরবানি পশুর মধ্যে গরু রয়েছে পাঁচ লাখ ৩৫ হাজার ৮১৩টি। এছাড়া ৬৪ হাজার ১৬৩টি মহিষ, দুই লাখ ৫১ হাজার ৭৪টি ছাগল এবং ৫৫ হাজার ৬৯৭টি ভেড়া রয়েছে।
স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পশুর মধ্যে নগরের পাঁচলাইশ থানা এলাকায় ২০ হাজার দুটি, ডবলমুরিংয়ে ১০ হাজার এবং কোতোয়ালিতে চার হাজার ৩৩১টি গবাদিপশু হƒষ্টপুষ্ট করা হয়। এছাড়া সাতকানিয়া উপজেলায় ৪৮ হাজার ১২৪টি, চন্দনাইশে ৪৮ হাজার চারটি, আনোয়ারায় ৬৫ হাজার ২১১টি, বোয়ালখালীতে ৩১ হাজার ১৬০টি, পটিয়ায় ৭৮ হাজার ৭৯১টি, কর্ণফুলীতে ৩৩ হাজার ৬২৯টি, মিরসরাই উপজেলায় ৬০ হাজার ৭৮০টি, সীতাকুণ্ডে ৫৯ হাজার ২১৩টি, হাটহাজারীতে ৪৮ হাজার ২৮০টি, রাঙ্গুনিয়ায় ৫১ হাজার ৮১৪টি, ফটিকছড়িতে ৭৮ হাজার ৫৩০টি, লোহাগাড়ায় ৪০ হাজার ৬২টি, রাউজানে ৩৫ হাজার ৭০১টি, বাঁশখালীতে ৬২ হাজার এবং সন্দ্বীপে ৮৫ হাজার ২৫০টি গবাদিপশু রয়েছে।
নগরে পশুর হাট বসে চসিকের ব্যবস্থাপনায়। সংস্থাটি এবার ১০টি অস্থায়ী পশুর হাটে ইজারাদার নিয়োগ দেয়। এর সঙ্গে আছে তিনটি স্থায়ী হাট। অর্থাৎ নগরে ১৩টি স্থায়ী-অস্থায়ী হাট বসছে এবার। এর মধ্যে স্থায়ী হাটগুলো হচ্ছেÑ সাগরিকা পশুর বাজার, বিবিরহাট গরুর হাট ও পোস্তারপাড় ছাগলের বাজার।
অস্থায়ী হাটগুলো হচ্ছেÑ ৬ নম্বর পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ডের কর্ণফুলী পশুর বাজার (নূরনগর হাউজিং এস্টেট অথবা বহদ্দারহাট এক কিলোমিটার হতে শাহ আমানত ব্রিজের উত্তর পাশ পর্যন্ত), ৪০ নম্বর উত্তর পতেঙ্গা ওয়ার্ডের পূর্ব হোসেন আহম্মদপাড়া সাইলো রোডের পাশে টিএসপি মাঠ, ৩৯ নম্বর দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডের আউটার রিং রোডস্থ সিডিএ বালুর মাঠ, ৩৭ নম্বর উত্তর মধ্যম হালিশহর ওয়ার্ডের মুনিরনগর আনন্দ বাজারসংলগ্ন রিং রোডের পাশে খালি জায়গা, ২৬ নম্বর উত্তর হালিশহর ওয়ার্ডের গলাচিপাপাড়া বারানিঘাটা রোডসংলগ্ন মাঠ, ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের চরপাড়া আলমগীর সাহেবের মাঠ, ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের বাটারফ্লাই পার্কের উত্তরে চেয়ারম্যান মাঠ, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বড়পোল এলাকার খালপাড় অস্থায়ী পশুর বাজার, সল্টগোলা রেলক্রসিং সংলগ্ন খালি মাঠ ও ৩৮ নম্বর দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর ওয়ার্ডের ধুমপাড়া সাগরপাড় লিংক রোডসংলগ্ন রেজাউল আমিন মাঠ।
জানা গেছে, নগরের বাইরে উপজেলার স্থায়ী-অস্থায়ী হাটগুলোর মধ্যে মিরসরাইয়ে ২০টি, সীতাকুণ্ডে ১৫টি, সন্দ্বীপে ২০টি, ফটিকছড়িতে ২০টি, রাউজানে ১৬টি, রাঙ্গুনিয়ায় ২০টি, হাটহাজারীতে ২৩টি, বোয়ালখালীতে ১১টি, পটিয়ায় ১০টি, চন্দনাইশে ১৩টি, আনোয়ারায় ১৫টি, সাতকানিয়ায় ১৮টি, লোহাগাড়ায় ৭টি, বাঁশখালীতে ১২টি এবং কর্ণফুলীতে দুটি স্থায়ী-অস্থায়ী হাট বসছে। নগর ও উপজেলার কোরবানির পশুর হাটগুলো মনিটরিংয়ের জন্য ৬৬টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম গঠন করেছে জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।




