প্রতিনিধি, চবি :চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় ৩ শতাধিক আসন ফাঁকা সত্তে¡ও মেধাতালিকা প্রকাশ করেনি চবি কর্তৃপক্ষ।
ষষ্ঠ মেধাতালিকা প্রকাশ করেও সব আসন পূর্ণ করতে পারেনি চবির প্রশাসন। ৪ হাজার ৯২৬টি আসনের বিপরীতে এখনও তিন শতাধিক আসন খালি রয়েছে। এছাড়া শূন্য আসন পূরণ করতে ৭ম মেধাতালিকাও প্রকাশ করেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজ অনুষদভুক্ত এ ইউনিটে খালি রয়েছে ১০৫ আসন। এছাড়া কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের বি ও বি১ ইউনিটে ৮৩, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের সি, সি১ ও সি২ ইউনিটে ৬৫, সমাজবিজ্ঞান ও আইন অনুষদের ডি ইউনিটে ৫২ আসন খালি। সে হিসাবে মোট খালি আসনের সংখ্যা ৩০৫টি।
বিভাগগুলোয় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ১০০ আসনের মধ্যে ভর্তি হয়েছেন ৭১ জন। নৃবিজ্ঞান বিভাগের মোট ১০৫ আসনের মধ্যে ভর্তি হয়েছেন ৫৯ জন। একই চিত্র উদ্ভিদবিজ্ঞান, মৃত্তিকাবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞানসহ অনেক বিভাগে।
বি ইউনিটের মেধাতালিকায় অপেক্ষমাণ নোয়াখালীর মো. ইমাম হোসেন শেয়ার বিজকে বলেন, আমরা আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি ৭ম তালিকার জন্য। পরবর্তীতে আসন আরও খালি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ পরিচিত অনেকে কৃষিগুচ্ছে ভর্তির জন্য চবি থেকে ভর্তি বাতিল করেছেন।
আরেক ভর্তিচ্ছু নানজিবা নাওয়ার বলেন, অপেক্ষমাণ তালিকায় কয়েকজনের পরেই আমার সিরিয়াল। আসন খালি থাকায় আমরা ভাবছিলাম ৭ম তালিকা দেবে।
আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. খাইরুল ইসলাম শেয়ার বিজকে বলেন, প্রতি বছর এমন কিছু সিট খালি থাকে; কারণ শিক্ষার্থীরা এখানে ভর্তি হওয়ার পর অন্য কোথাও পছন্দের সাবজেক্ট পেলে তারা সেখানে চলে যায়। যার কারণে সিটগুলো খালি থাকে। তবু আমরা এ বিষয়ে ভর্তি কমিটিকে অবহিত করছি। ভর্তি কমিটি মিটিং করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
এ ব্যাপারে ডি ইউনিটের কো-অর্ডিনেটর ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক সিরাজ উদ দৌল্লাহর সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, এ বিষয়ে মিটিং করার জন্য বলেছি। ভিসি ম্যাম চাইলে মিটিং আহŸান করতে পারেন।
ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ও চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার শেয়ার বিজকে বলেন, যেহেতু ক্লাস শুরু হয়ে গেছে সম্ভবত এখন আর ৭ম মেধা তালিকা দেয়া হবে না। ভর্তি পরীক্ষা কমিটিও আর চায় না। ইউজিসি থেকেও নির্দেশনা আছে কম শিক্ষার্থী নেয়ার জন্য। তবে ৭ম তালিকা দিলে যদি শিক্ষার্থীরা উপকৃত হয়, আমরা দেখি, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে বলা যাবে।