চলে গেলেন সাংবাদিক মজনু

প্রতিনিধি, লালমনিরহাট: অর্ধশতাব্ধির সাংবাদিকতার জীবনের সমাপ্তি ঘটিয়ে নাফেরার দেশে বর্ষিয়ান সাংবাদিক মোফাকখারুল ইসলাম মজনু।

২৬ নভেম্বর একটা ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক হবার পরে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা নিউরো সাইন্স হাসপাতালে নেয়া হয়। এর আগেও তার ২ টি মাইল্ড এ্যাটাক হয়েছিল। নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে আজ ভোর ৪.৩০ মিনিটে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

পেশাগত জীবনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ আপাদমস্তক সাংবাদিক ছিলেন। প্রেসক্লাবের দুবারের নির্বাচিত সভাপতি সহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। সংবাদ ও সাংবাদিকতায় তার দরদ প্রতিশ্রুতি ছিলো ইর্ষনীয়।

আশির দশকে রংপুর থেকে প্রকাশিত দৈনিক দাবানল পত্রিকা দিয়ে মোফাখখারুল ইসলাম মজনুর সাংবাদিকতা শুরু। ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকা, বাংলা বাজার পত্রিকায়, সিএসবি টিভি,সময় টিভিতে কাজ করেন।ষাট বছর বয়স হওয়াতে নিজে থেকেই টিভি সাংবাদিকতা থেকে সরে এসে ঢাকা থেকে প্রকাশিত সবুজ বাংলা নামের দৈনিকে কাজ করতেন।

বাংলাট্রিবিউন ও দৈনিক শেয়ার বিজের প্রতিনিধি ফারুক আলম বলেন,সাংবাদিকতায় মজনু ভাই ছিলেন শিক্ষক।ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন অবিভাবক।বলতে গেলে মায়ের মমতা আর বাবার আদরের সমান দরদ ছিলো আমার প্রতি।যেখানেই কাজ করেছি,ওনার সহযোগীতা পেয়েছি।আমার ব্যক্তিজীবনের সবটা সময়ে তিনি বেঁচে থাকবেন।তার ঋণ শোধের নয়।

প্রথম আলোর সিনিয়র সাংবাদিক আব্দুর রব সুজন বলেন,সাংবাদিক মোফাখখারুল ইসলাম মজনু সাংবাদিক আফতাব আলম খান সহ কয়েকজন মিলে নিজেরাও লালমনিরহাট বার্তা নামের একটি পত্রিকা প্রকাশ করে। পত্রিকাটি পরে রেজিষ্ট্রেশন পায়নি। পরবর্তীতে একই নামে সাংবাদিক এসএম শফিকুল ইসলাম কানু ভাই রেজিষ্ট্রেশন নিয়ে পত্রিকা প্রকাশ করেন। সাংবাদিক মোফাখখারুল ইসলাম মজনু লালমনিরহাট প্রেসক্লাবের পরপর দুবারের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। একজন সহজ সরল ও সাদা মনের মানুষ হিসেবে মোফাখখারুল ইসলাম মজনু আমাদের মাঝে চিরদিন বেচে থাকবেন।

সাংবাদিক নেতা ও ফাইনানসিয়াল এক্সপ্রেসের প্রতিনিধি আবু হাসনাত রানা বলেন, তিন দশকের বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতা পেশায় থেকে অনেকের জীবনের সুখ দুঃখের কথা নিজের লেখায় তুলে আনলেও নিজের জীবনের কষ্টগাথা লোকচক্ষু’র অন্তরালেই থেকে গেছে।মানুষটা বড় সংগ্রামী ছিলেন। ছিল না কোন কুটকৌশলের বুদ্ধি। বড় সাদামাটা জীবন ছিল তার। খুব অল্পতেই ছিলেন সন্তুষ্ট। খুব বেশি চাওয়া ছিল না। কোন ভাবে দিনাতিপাত করেছেন। এ বয়সেও পরিবারের সকলের দায়িত্ব ছিল তার কাঁধে। গতকাল একটা ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক হবার তাকে ঢাকা নিউরো সাইন্স হাসপাতালে নেয়া হয়। এর আগেও তার ২ টি মাইল্ড এ্যাটাক হয়েছিল।

মোফাকখারুল ইসলাম মজনুর মৃত্যু সংবাদে সাংবাদিক সমাজ এবং জেলাবাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।