সরকারের হাতে চাল ও গমের মজুত এখন সর্বোচ্চ। সর্বশেষ দুই মৌসুমে ধান আবাদ বড় কোনো দুর্যোগে পড়েনি, বরং উৎপাদন বেড়েছে। সরকার আমদানির সুযোগ দিয়েছে। বিশ্ববাজারেও দাম কম। তারপরও দেশে চালের দাম কমছে না। সব স্বাভাবিক থাকার পরও চালের দাম না কমার কারণ জানতে খাদ্য মন্ত্রণালয় এ মাসে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের চাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। বৈঠকে খাদ্যমন্ত্রী দাম কমানোর কোনো আশ্বাস না পাওয়ায় আবারও আমদানির অনুমতি দেয়ার হুমকি দেন। এখনও চালের দাম নিয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ও চিন্তিত। তারা এক সপ্তাহ ধরে বড় চালকল ও চাল ব্যবসায়ীর কাছে মজুতের হিসাব চাইছে।
অবশ্য ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দেশে চালের দাম বেড়ে গেলে খাদ্য অধিদপ্তর তাদের কাছে চালের মজুতের হিসাব চায়। অন্য সময় তারা এ ব্যাপারে চুপ থাকে। আর চাল ও ধান ব্যবসায়ীরা যে হিসাব কাগজে-কলমে দেন, তা পরীক্ষা করে দেখারও সুযোগ সরকারি লোকজনের নেই। ফলে প্রকৃত বাজার ও বেসরকারি মজুত পরিস্থিতি সরকার জানতে পারে না।’ মানুষ কতটা দুর্ভোগে আছেন, তা কিছুটা বুঝেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। ‘টিসিবির লাইন তো বড় হচ্ছে’ একটি জাতীয় দৈনিকের এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ভালো পোশাক পরা মানুষদেরও এখন টিসিবির লাইনে দেখা যাচ্ছে।’
মধ্যবিত্তরা যখন বিপাকে আছেন, তখন নি¤œ আয়ের মানুষের দুর্ভোগ সহজেই অনুমেয়। গতকাল শেয়ার বিজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুষ্টিয়ায় আবারও বেড়েছে চালের দাম। ভোগান্তিতে রয়েছেন নি¤œবিত্তরা। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকারের নজরদারি না থাকায় মিলগেটে দাম না বাড়লেও খুচরা বাজারের ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে চালের দাম যথেচ্ছ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
দ্রব্যমূল্য, পরিবহন ব্যয়, বাসাভাড়া, শিক্ষার খরচÑসবই বেড়েছে। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়াও চলছে। চারটি খাতেই একসঙ্গে পণ্য ও সেবার মূল্য বেড়ে যাওয়ায় হিমশিম অবস্থা মানুষের। সাধারণ মানুষের চাওয়া-পাওয়া বেশি নয়। দুবেলা দুমুঠো অন্ন। ক্ষুধা লাগলে নুন দিয়েও খাওয়া যায়। এখন তারা চাল কিনতে গিয়েও হতাশ হচ্ছেন।
দারিদ্র্যের হার নিয়ে সরকারের একধরনের অস্বস্তি রয়েছে। এটি বেড়েছে বললে সরকার কেবলই নাকচ করে দেয়। সরকারে উচিত, বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া। এ লক্ষ্যে করছাড় দিতে হবে, খোলাবাজারে পণ্য বিক্রি বাড়াতে হবে এবং নিয়মিত বাজার তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। খাদ্য মন্ত্রণালয় বলছে, এ বছর চালের মজুত ১৭ লাখ টন ছাড়িয়ে গেছে। গম, কিছু ধানসহ মোট খাদ্যশস্য মজুত প্রায় ২০ লাখ টন। মজুত ভালো, উৎপাদনও বেশি; তবু কেন বাজারে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে না। দেশের চালের বাজারে সম্প্রতি কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠী বিনিয়োগ করেছে। তারা বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ চাল কিনে ব্যবসার জন্য মজুত করেছে। ফলে বাজারে চালের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। আমরা আশা করি, চালের দাম বৃদ্ধির কারণ খতিয়ে দেখা হবে এবং চালের দাম নিয়ন্ত্রণে সময়োপযোগী ব্যবস্থা নেয়া হবে।