শেয়ার বিজ ডেস্ক: বোস্টনে সদ্য অনুষ্ঠিত রোবোটিক্স সম্মেলনে প্রথম দেখায় মনে হতে পারে এটি আধুনিক উদ্ভাবনের এক মহোৎসব—নাচছে হিউম্যানয়েড, প্রদর্শনীতে ঘুরে বেড়াচ্ছে রোবোটিক কুকুর, আর ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি নিয়ে আশাবাদী প্রকৌশলীদের ভিড়।
কিন্তু চকচকে এই প্রদর্শনীর আড়ালে ঘুরপাক খাচ্ছিল নিঃশব্দ উদ্বেগ—মার্কিন-চীন শুল্ক দ্বন্দ্ব। যার ফলশ্রুতিতে হিউম্যানয়েড বিপ্লবে মার্কিন নেতৃত্বের আশা কিছুটা ধূলিসাৎ হওয়ার পথে।
কয়েক দিন আগেই টেসলার সিইও এলন মাস্ক সতর্ক করেছিলেন, রোবট তৈরিতে ব্যবহৃত এক প্রকার বিরল খনিজের ওপর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে চীন, যার কারণে টেসলার ‘অপ্টিমাস’ হিউম্যানয়েড প্রকল্প আরও দীর্ঘায়িত হয়েছে।
বিশ্লেষকরা জানালেন, শুল্ক জটিলতায় মার্কিন স্টার্টআপগুলো এমনিতেই ভঙ্গুর সাপ্লাই চেইনের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। এটি তাদের জন্য রাজনৈতিক বিতর্ক নয়, বরং বাস্তব সংকট।
অটো ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যবহৃত অধিকাংশ রোবট জাপান, জার্মানি বা দক্ষিণ কোরিয়ার তৈরি। হিউম্যানয়েড রোবট এখনো সীমিত পরিসরে ব্যবহৃত হচ্ছে, এবং সেন্সর, সেমিকন্ডাক্টর, এআই চিপ—সবকিছুই ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে আছে।
জার্মান প্রতিষ্ঠান শেফলার এখন তাদের যুক্তরাষ্ট্রের কারখানায় ‘ডিজিট’ নামের হিউম্যানয়েড রোবট চালু করেছে। শেফলারের প্রকৌশল পরিচালক আল ম্যাকে মনে করেন, ‘শুল্কের কারণে উৎপাদনের অনেক ক্ষেত্রেই আমদানি বাদ দিয়ে দেশে বানাতে হবে। এতে বাড়বে শ্রমঘাটতি ও খরচ। আবার এক্ষেত্রে অটোমেশনও বাড়বে, যে অটোমেশনের বিকল্প হলো চীনের হিউম্যানয়েড রোবট।
চীনা স্টার্টআপ ইউনিট্রি’র ১৬ হাজার ডলারের হিউম্যানয়েডটি এখন মার্কিন বাজারে প্রদর্শিত হলেও ট্রাম্পের ১৪৫ শতাংশ শুল্কের কারণে এর দাম পৌঁছেছে ৪০ হাজার ডলারে—যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের নাগালের বাইরে। ইউনিট্রি-র ভাইস প্রেসিডেন্ট টনি ইয়াং বললেন, বাজার এখনও সীমিত, তবে ম্যানুফ্যাকচারিং, ফ্যাক্টরি এমনকি বাসাবাড়িতে ব্যবহার করার সম্ভাবনা বিশাল।
সূত্র: সিএমজি