আতাউর রহমান: গত ১১ অক্টোবর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) থেকে ডিএসইর মাধ্যমে ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে গ্রাহকের জমাকৃত চেক নগদায়নের পর ক্রয় আদেশ বাস্তবায়ন করার নির্দেশ দেয়া হয়; যা ২০১০ সালের ৬ ডিসেম্বর জারি করলে বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পরে। ফলে মাত্র দুদিন পর তা স্থগিত করে দেয়া হয়। ঠিক একইভাবে সম্প্রতি জারি করা বিএসইসির এ আদেশের ফলে দেশের পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। তাই গ্রাহকের জমাকৃত চেক নগদায়নের পর ক্রয় বাস্তবায়নের আদেশ প্রত্যাহার বা স্থগিতের দাবি জানিয়েছে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সিইওদের নিয়ে গঠিত ফোরাম এবং ডিএসই ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ)। এ বিষয়ে আদেশ জারির পর দিনই বিএসইসি ও ডিএসইর কাছে দুটি পৃথক চিঠিতে তা বিবেচনার জন্য অনুরোধ করে ডিবিএ ও সিইও ফোরাম।
জানা যায়, ১১ অক্টোবর ব্রোকারেজ হাউসগুলোয় ডিএসইর পাঠানো চিঠিতে বিএসইসির সংযুক্ত নির্দেশনার বিষয়ে বলা হয়, গত ২২ সেপ্টেম্বর কমিশনার আব্দুল হালিমের সভাপতিত্বে ডিএসইর সিআরও এবং বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কমিশনের এসআরআই বিভাগের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষকে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কমিশনকে অবহিত করতে বলা হয়েছে। ওই সিদ্ধান্তের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে, ‘প্রতি ট্রেকহোল্ডার বিনিয়োগকারীর চেক নগদায়নের পরে ক্রয় আদেশ বাস্তবায়ন করবে।’ এক্ষেত্রে ২০১০ সালের ৬ ডিসেম্বরের নির্দেশনা পরিপালন করতে বলা হয়েছে।
এদিকে বিএসইসির এসআরআই বিভাগ ও ডিএসই মধ্যকার সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে ডিবিএ’র পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ৬ ডিসেম্বর ২০১০ সালের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডিএসই কমিশনের নির্দেশনা যথাযথভাবে পরিপালনের জন্য প্রত্যেক ট্রেকহোল্ডার কোম্পানিকে গ্রাহকের জমাকৃত চেক নগদায়নের পর ক্রয়াদেশ বাস্তবায়ন করার জন্য নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশনাটি তৎকালীন কমিশন ৬ ডিসেম্বর, ২০১০ সালে জারি করে। বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাবের ফলে মাত্র দুদিন পর তা স্থগিত করে দেয়া হয়। এ আদেশের ফলে পূর্বের ন্যায় বাজারে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থেকে ডিবিএ আদেশটির স্থগিতাদেশ চায় বলে জানিয়েছে।
ডিবিএ আরও জানায়, আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে গ্রাহকের চেক নগদায়নের রিয়েল টাইম ব্যাংকিং ব্যবস্থা না থাকায় গ্রাহক চেক জমাদানের মাধ্যমে শেয়ার ক্রয়ের প্রচলন বহু আগে থেকেই চলমান। এ প্রক্রিয়ায় ব্রোকারেজ হাউসে চেক প্রদানের মাধ্যমে স্বাচ্ছন্দ্যে প্রয়োজন মাফিক শেয়ার ক্রয় করতে সমর্থ হয়। অন্যদিকে এ প্রক্রিয়ার ফলে ব্রোকারেজ হাউস এক্সচেঞ্জকে তাদের দৈনিক শেয়ার ক্রয়ের ওপর অর্থ নিষ্পত্তিতে কোনোরূপ সমস্যায় পড়তে হয় না। তাছাড়া লেনদেনে সুনাম ও স্বচ্ছতা রয়েছে এমন সুপরিচিত ও নির্ভরযোগ্য গ্রাহকের ক্ষেত্রেই ব্রোকারেজ হাউস কেবল চেক গ্রহণের মাধ্যমে শেয়ার ক্রয়াদেশ বাস্তবায়ন করে থাকে। গ্রাহকের চেক নগদায়ন না হওয়ার ফলে সৃষ্ট ঝুঁকি যেহেতু ব্রোকারকেই নিতে হয়, তাই এ ক্ষেত্রে ব্রোকারেজ হাউস তাদের ঝুঁকির বিষয়টি সর্বোচ্চ বিবেচনা করেই মূলত গ্রাহকভেদে চেকের মাধ্যমে শেয়ার ক্রয়ের অনুমতি দিয়ে থাকে।
তাই ট্রেকহোল্ডার কোম্পানি গ্রাহকের জমাকৃত চেক নগদায়নের পর ক্রয় আদেশ বাস্তবায়ন করার বিষয়ে জারিকৃত নির্দেশনা বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এর ফলে বাজারের দৈনিক লেনদেন কমে বাজার নি¤œমুখী ধারায় অবস্থান নেয়া এবং বিনিয়োগকারীর একটি বড় অংশ বাজার থেকে তাদের বিনিয়োগ তুলে নিতে পারে। এছাড়া তারল্য সংকট সৃষ্টি হয়ে বাজার শক্তি হারিয়ে দুর্বল হয়ে পড়া এবং দীর্ঘমেয়াদে বাজারের ছন্দপতন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ডিবিএ।
এ অবস্থায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে দেশের অর্থনৈতিক ধারা অব্যাহত রাখতে, পুঁজিবাজারের উন্নয়ন সুসংগঠিত রাখাতে নির্দেশনা স্থগিতের অনুরোধ জানিয়েছে ডিবিএ।
অন্যদিকে সম্প্রতি জারি করা নির্দেশনা এবং ২০১০ সালে আদেশ জারি ও স্থগিতের বিষয় উল্লেখ করে সিইও ফোরাম চিঠিতে জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের স্থগিত ইস্যুতে ডিএসইর এই ধরনের আশ্চর্যজনক নির্দেশনা বাজারে আরও আতঙ্ক ও বিপর্যয় তৈরি করতে পারে, যেখানে বাজার ইতোমধ্যে একটি অস্থির পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাই বাজারের স্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে তা প্রত্যাহার করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।
এছাড়া যখনই কোনো ব্যক্তি বা বিনিয়োগকারী যথাযথ নথি-প্রমাণ বা সত্যতা ছাড়া ডিএসই বা বিএসইসির কাছে অভিযোগ করেন, তখনই ডিএসই বা বিএসইসি অবিলম্বে প্রক্রিয়া বা তদন্ত শুরু করে। এসব খবর অনলাইন নিউজ পোর্টাল বা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ হওয়ায় পুঁজিবাজার নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হয়। তাই বিএসইসি বা ডিএসইতে অভিযোগ দায়েরকারী ব্যক্তি বা বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে যথাযথ সহায়ক নথি-প্রমাণ বা সত্যতা পাওয়ার পর প্রক্রিয়া বা তদন্ত শুরু করার অনুরোধ জানিয়েছে সিইও ফোরাম।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সিইও ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও ইবিএল সিকিউরিটিজের এমডি মো. ছায়েদুর রহমান শেয়ার বিজকে বলেন, গ্রাহকের চেক নগদায়নের পর ক্রয় বাস্তবায়নের আদেশ স্থগিতের দাবি জানিয়ে আদেশটি জারির পর দিনই আমরা আবেদন করেছি।
