শেয়ার বিজ ডেস্ক : জয়পুরহাটে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড ও বেগমগঞ্জের হত্যা মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল সোমবার এ রায় প্রদান করে সংশ্লিষ্ট আদালত।
জয়পুরহাট: জয়পুরহাটে স্ত্রী আনোয়ারা বেগমকে হত্যার দায়ে স্বামী জইমুদ্দিন ওরফে জদ্দির মৃত্যুদণ্ড আদেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়। গতকাল সোমবার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২ আদালতের বিচারক আব্বাস উদ্দিন এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত জইমুদ্দিন ওরফে জদ্দি জেলার আক্কেলপুর উপজেলার ভিকনী গ্রামের মৃত কোকড়া সাখিদারের ছেলে। তিনি পলাতক রয়েছেন।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, বিয়ের পর থেকে জইমুদ্দিনের সঙ্গে তার স্ত্রী আনোয়ারার পারিবারিক বিষয় নিয়ে প্রায় ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকত। ২০০২ সালের ১৯ আগস্ট সন্ধ্যার দিকে তাদের আবারও ঝগড়া হয়। এরপর সেই রাতের কোনো এক সময় গাছের ডাল দিয়ে তার স্ত্রীর মাথায় আঘাত করে হত্যা করে পাশের একটি পুকুরে লাশ ফেলে রাখে জইমুদ্দিন। পরের দিন সকালে স্থানীয়রা পুকুরে আনোয়ারার লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় সেদিনই আক্কেলপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন নিহতের ভাই আ. রহমান। এরপর একই বছরের ২১ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এ মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত আজ (সোমবার) রায় দেন।
নোয়াখালী: নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চৌমুহনীর লাইফ কেয়ার হাসপাতালের প্যাথলজিক ল্যাব টেকনিশিয়ান দৌলতুজ্জামান জয় (৩২) কে হত্যার দায়ে ৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। গতকাল সোমবার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক নিলুফার সুলতানা এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা পলাতক ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেনÑউপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার পৌর হাজীপুর এলাকার আহাম্মদ উল্যার ছেলে মো. সোহরাব হোসেন (২৬) একই এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে নওয়াজ শরীফ (২৬) ও ইসমাইল লেবারের ছেলে মো. রিয়াজ (২৭)।
জানা গেছে, ২০২০ সালের ১৩ মে সন্ধ্যা ৬টার চৌমুহনী বাজারের লাইফ কেয়ার হাসপাতালের ল্যাব টেকনিশিয়ান জয়কে আসামিরা চৌমুহনী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পৌর হাজীপুর এলাকার মাওলানা কাসেমের বাড়ির সামনে ডেকে নিয়ে মাথায় ও কানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে ফেলে রেখে চলে যায়। তাৎক্ষণিক স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১৫ মে সন্ধ্যার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে এ ঘটনায় নিহতের পিতা আবদুর রহমান বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে গতকাল দুপুরে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
