‘শান্তি ও সমৃদ্ধির চেতনায় উজ্জীবিত মাহা সাংগ্রাই’Ñএই প্রতিপাদ্যে পার্বত্য জেলা বান্দরবানে আজ থেকে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী মাহা সাংগ্রাই পোয়ে। পুরোনো বছরকে বিদায় এবং নতুন বছরকে বরণ করতে মারমা জনগোষ্ঠীর সাংগ্রাই উৎসবের শুরু হয় মৈত্রী পানিবর্ষণের মধ্য দিয়ে। মারমা সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব সাংগ্রাইয়ের আনন্দঘন ও উল্লেখযোগ্য অংশ জলকেলি বা মৈত্রী পানিবর্ষণ উৎসব (পানি ছিটানো)।
গতকাল বুধবার বিকালে উৎসব উদযাপন পরিষদের ব্যবস্থাপনায় জেলার ঐতিহ্যবাহী রাজার মাঠে জলকেলি উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। ১১টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণে উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন করা হয় এ উৎসবের।
এ সময় মারমা তরুণ-তরুণীরা নৌকার খালি অংশে পানি রেখে দুই পাশে দাঁড়িয়ে একে-অপরকে পানি ছিটিয়ে মৈত্রী বন্ধনের সূচনা করেন; পাশাপাশি চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ বছর সাংগ্রাই জলকেলি উৎসবে কয়েক হাজার মারমা নারী-পুরুষ, যুবক যুবতীরা যোগ দেন। পাহাড়ি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জনসাধারণও এ উৎসবে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া দেশের দূরদূরান্ত থেকে উৎসব দেখার জন্য পর্যটকরাও ভিড় জমান। জলকেলি উৎসবের পাশাপাশি পাহাড়ি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে নৃত্য নজর কাড়ে আগত দর্শনার্থীদের।
ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক মম মোস্তফা বলেন, আমরা সচরাচর এমনটা দেখি না, তাদের অনুষ্ঠানগুলো খুবই কালারফুল হয়। এ অনুষ্ঠান দেখার জন্য থেকে গেছি।
সমাজকর্মী ডনাই প্রু নেলি বলেন, পুরোনো বছরের সব দুঃখকে বিদায় জানিয়ে মৈত্রী পানিবর্ষণের মাধ্যমে সাংগ্রাই উৎসব পালন করা হয়। এ বছর সাংগ্রাই উৎসবে গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া খেলাগুলো উঠে এসেছে।
তিনি বলেন, আগামীতে পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও ঐতিহ্যগত এসব খেলায় অংশগ্রহণ করে সমাজে সমতা ফিরিয়ে আনবে। প্রতিবছর চৈত্রসংক্রান্তি ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ত্রিপুরা সম্প্রদায় ‘বৈসুক’ মারমারা ‘সাংগ্রাই’ এবং চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যারা ‘বিজু’ নামে এই উৎসব পালন করে। তিন ভাষার আদ্যোক্ষর নিয়ে এই উৎসবকে বলা হয় ‘বৈসাবি’। বাংলা বর্ষবরণ ও বর্ষবিদায় উৎসবকে পাহাড়ের সম্প্রদায় ভিন্ন নামে পালন করে আসছে বহুকাল ধরে।
উৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি চনুমং মারমা বলেন, আজ থেকে মৈত্রী পানি বর্ষণের মাধ্যমে তিন দিনব্যাপী উৎসব শুরু হবে, এবারের উৎসবে লোকজ সংস্কৃতির প্রাধান্য দিয়ে উৎসবকে সাজানো হয়েছে। উৎসবের সব কর্মসূচি সুন্দরভাবে পরিচালনায় সহযোগিতার জন্য প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান তিনি। এদিন সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বাঙালিসহ ১২টি সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি এবং হাজারো দর্শনার্থী উপস্থিত ছিলেন এবারের উৎসবে।