নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের খবরে বিপাকে খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (কেপিসিএল) বিনিয়োগকারীরা। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের কোম্পানিটির শেয়ারের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন তারা। যার প্রভাব ফুটে উঠেছে ঢাকা স্টক একচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেনে। গত সপ্তাহের সাপ্তাহিক দরপতনের শীর্ষ অবস্থানে ছিল কেপিসিএল। ডিএসইতে গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া কোম্পানি এবং মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ কেপিসিএলের শেয়ারদর এক টাকা ৮০ পয়সা বা ১৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ কমেছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ডিএসইতে গত সপ্তাহে কেপিসিএলের শেয়ার দর ১৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ কমেছে। আগের সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ারের সর্বশেষ দর ছিল ১২ দশমিক ৯০ টাকা; যা গত সপ্তাহ শেষে কমে ১১ দশমিক ১০ টাকায় নেমেছে। পরিণতিতে কোম্পানিটির শেয়ার ডিএসইর সাপ্তাহিক দরপতনের তালিকায় প্রথম স্থানে উঠে আসে কেপিসিসিএল।
কোম্পানি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যমতে, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানি কেপিসিএলের দুই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সরকার বিদ্যুৎ কেনার চুক্তি দীর্ঘদিনেও কার্যকর করেনি। তাই বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিপি) জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে (ন্যাশনাল গ্রিড) সরবরাহ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেপিসিএল। বিনিয়োগকারীদের গত ৪ মে এ তথ্য প্রকাশ জানিয়েছে কোম্পানিটি।
কোম্পানি সূত্রে পাওয়া তথ্যমতে, কেপিসিএল খুলনার ১১৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র কেপিসি-২ ও যশোরের নোয়াপাড়ার ৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র কেপিসি ৪০ মেওয়াওয়াট নোয়াপাড়া প্লান্ট থেকে বিপিডিপি বিদ্যুৎ কেনা সংক্রান্ত চুক্তির মেয়াদ কয়েক শেষ হয়ে হয়েছে। এরপর কেপিসিএলকে বিদ্যুৎকেন্দ্র দুটির প্লান্ট সচল করার অনুমতি দেয় বিপিডিবি। তবে নতুন চুক্তিতে বলা হয়েছে, সরকারের প্রয়োজন হলে বিদ্যুৎ কিনবে এবং তখন ওই বিদ্যুতের দাম পরিশোধ করা হবে। এর আলোকে কোম্পানিটি ‘নো ইলেকট্রিসিটি, নো পেমেন্ট’ ভিত্তিতে তার প্লান্ট পরিচালনা করতে পারবে।
এদিকে নতুন চুক্তি হলেও কেপিসিএলকে কোনো বিদ্যুতের চাহিদা জানায়নি পিডিবি। গত বছরের ২৪ মার্চ সর্বশেষ এ চুক্তিরও মেয়াদ শেষ হয়েছে। কিন্তু অদ্যাবধি চুক্তি নবায়ন করেনি সরকার।
কেপিসিএলের সঙ্গে ডিএসইর সাপ্তাহিক দরপতনের শীর্ষে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে এনার্জিপ্যাক পাওয়ারের শেয়ারদর ১৩ দশমিক ৫০ শতাংশ, এইচ আর টেক্সটাইলের শেয়ারদর ১২ দশমিক ৬৯ শতাংশ, মিথুন নিটিংয়ের শেয়ারদর ১১ দশমিক ৩৬ শতাংশ, বসুন্ধরা পেপার মিলসের শেয়ারদর ১১ দশমিক ২৭ শতাংশ, সোনারগাঁও টেক্সটাইলের শেয়ারদর ১১ দশমিক ২৪ শতাংশ, গ্লোবাল হেভি কেমিক্যালের শেয়ারদর ১০ দশমিক ৯৬ শতাংশ, ন্যাশনাল টির শেয়ারদর শেয়ারদর ১০ দশমিক ৬৭ শতাংশ, দুলামিয়া কটনের শেয়ারদর ১০ দশমিক ৫৫ শতাংশ ও এসকে ট্রিমসের শেয়ারদর ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশ কমেছে।




