Print Date & Time : 23 April 2026 Thursday 1:48 pm

জার্মানিতে জ্বালানি সহায়তার দাবিতে বিক্ষোভ

শেয়ার বিজ ডেস্ক: জার্মানির ছয়টি শহরে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের সহায়তার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন কয়েক হাজার মানুষ। শহরগুলো হচ্ছে রাজধানী বার্লিন, ডুসেলডর্ফ, হ্যানোভার, স্টুটগার্ট, ড্রেসডেন ও ফ্রাংকফুর্ট। খবর: রয়টার্স।

জ্বালানির দাম বাড়ানোর কারণে ব্যবহারকারীদের ক্ষতিপূরণের ঘোষণা দিয়েছিল জার্মানির সরকার। সম্প্রতি সেই ক্ষতিপূরণ ন্যায্যভাবে দেয়া হচ্ছে না, এমন অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেন কয়েক হাজার মানুষ। দেশটির প্রধান ছয়টি শহরে এ বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে।

স্থানীয় সময় গত শনিবার জার্মানির ছয়টি শহরে সরকারঘোষিত জ্বালানি ত্রাণের ন্যায্য বণ্টনের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন হাজার মানুষ।

জ্বালানির ক্রমবর্ধমান মূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সরকার সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করে। মিছিলে মূল্যস্ফীতি কমানো থেকে শুরু করে পারমাণবিক শক্তি বন্ধ করা এবং দরিদ্রদের জন্য জ্বালানি খাতে আরও ভর্তুকি দেয়ার দাবিতে নানা সেøাগান দেয়া হয়। এতে প্রদর্শন করা হয় বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড ও পোস্টার।

বিক্ষোভের আয়োজক গ্রিনপিস নামের একটি সংস্থা। তাদের দাবি, বিক্ষোভে অন্তত ২৪ হাজার মানুষ উপস্থিত ছিল। পুলিশের দাবি, বার্লিনে মাত্র এক হাজার ৮০০ লোক বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

বিক্ষোভ আয়োজনকারী গোষ্ঠীগুলোর নেতা আন্দ্রেয়া কোসিস বলেছেন, আমরা দেখাতে চাই যে, নাগরিকদের জন্য জরুরিভাবে ও সামাজিকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। সরকার অনেক কিছু করছে, তবে তাদের সহায়তা বণ্টনের বিষয়ে ছোট বোতল দিয়ে তৃষ্ণার্তদের পানি পান করানোর চেষ্টা করছে। ধনীদের চেয়ে নি¤œ আয়ের লোকদের বেশি সহায়তা প্রয়োজন।

গত সপ্তাহে জার্মানির ব্রেমেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অসমতা ও সামাজিক নীতি নিয়ে গবেষণা করা প্রতিষ্ঠানের প্যাট্রিক জাখভেহ জানান, ওইসিডির হিসেবে জার্মানির প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ মানুষ নি¤œ মধ্যবিত্ত (যারা মধ্যবিত্ত শ্রেণির একেবারে শুরুর দিকে আছেন) শ্রেণিতে পড়েন। মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সংকট তাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করেন তিনি। ঋণদাতা ও দেউলিয়াত্ব নিয়ে পরামর্শ দেয়া কোম্পানি ‘ডিয়াকোনিশেস ভ্যার্ক’ ও ‘জার্মান প্যারিটি ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ রাইন ওয়েস্টফালিয়া’ও এমন আভাস দিয়েছে। তাদের মতে, মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে আর পেরে ওঠা যাবে না বলে মনে করছে অনেক মানুষ।