নজরুল ইসলাম: গত সাড়ে তিন মাসে কভিডে মৃতদের মধ্যে টিকা না নেয়াদের হার বেশি। মৃতদের মধ্যে ৯৭ শতাংশ মানুষই টিকা নেননি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এদিকে দেশে কভিড সংক্রমণ পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকায় গত শুক্রবার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা নেমে এসেছিল আট হাজারের নিচে। সেদিন সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৯৪৯ জন। আর শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশে শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত (২৪ ঘন্টায়) করোনাভাইরাসে কারও মৃত্যু হয়নি।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কভিড শনাক্ত হয়েছে ১৯৯ জনের। এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৭৪ হাজার ৮৮ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (এমআইএস) সহকারী প্রধান পরিসংখ্যান অফিসার রাজি উদ্দিন শেয়ার বিজকে জানিয়েছেন, গত সাড়ে তিন মাসে (১ আগস্ট থেকে ১৮ নভেম্বর) কভিডে ৭ হাজার ১৫০ জন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ২০২ জন টিকা নিয়েছিলেন, ২ দশমিক ৮ শতাংশ। আর ৯৭ দশমিক ২ শতাংশ টিকা নেননি।
এর আগে গত ১৫ নভেম্বর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. ইউনুস স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ৮ থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত এক সপ্তাহে কভিডে মৃত ২৭ জনের মধ্যে মাত্র তিনজন টিকা পেয়েছিলেন, যা ১১ দশমিক ১ ভাগ। তাদের মধ্যে ১ জন পেয়েছিলেন প্রথম ডোজ। বাকি দুজন প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছিলেন। মৃত ২৭ জনের মধ্যে বাকি ২৪ জন টিকা নেননি, যা ৮৮ দশমিক ৯ ভাগ। কভিডে মৃত ব্যক্তিদের ভ্যাকসিন উপাত্ত বিশ্লেষণের ৪৫তম সপ্তাহে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। প্রতি সপ্তাহে একবার এ উপাত্ত প্রকাশ করা হয় বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এপিডেমিওলজিকাল বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. মশিউর রহমান শেয়ার বিজকে জানান।
৪৫তম সপ্তাহে মৃত ২৭ জনের মধ্যে ৭০ দশমিক ৬ ভাগ ছিলেন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। উচ্চ রক্তচাপ ছিল ৬৪ দশমিক ৭ ভাগের। হƒদরোগ ছিল ৪১ দশমিক ২ ভাগ রোগীর।
গত ১৭ নভেম্বর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৬ কোটি ৬৪ লাখ ৭৭ হাজার ২২ জন ও পাসপোর্টের মাধ্যমে ৯ লাখ ৮৪ হাজার ৩৮৫ জন টিকার জন্য নিবন্ধন করেছেন।
ডা. মিজানুর রহমান জানান, এ পর্যন্ত ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৯৫ হাজার ৯৪৮ জন টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন। প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৫ কোটি ২৯ লাখ ৮৩ হাজার ৫৫৫ জন। তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৫৯ জন শিক্ষার্থী দ্বিতীয় ডোজ ও ২ লাখ ২৪ হাজার ৭৬৮ জন দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন। এখন পর্যন্ত মডার্নার টিকা দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ২৬ লাখ ১৭ হাজার ৭০২ জন। মডার্নার প্রথম ডোজ নিয়েছেন ২৭ লাখ ১০ হাজার ২২৭ জন। সিনোফার্ম প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৩ কোটি ৯৭ লাখ ৪০ হাজার ২৯০ জন। সিনোফার্ম দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ২ কোটি ৪৭ লাখ ৭২ হাজার ৮৫৪ জন। ফাইজার প্রথম ডোজ নিয়েছেন ১৪ লাখ ৬২ হাজার ৮২৬ জন। ফাইজার দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৩ লাখ ১৬ হাজার ২৫১ জন। আর অ্যাস্ট্রাজেনেকা প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৯০ লাখ ৭০ হাজার ২১২ জন। দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৬২ লাখ ৮৯ হাজার ১৪১ জন।
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে গত বছর ৮ মার্চ। গত ৩১ আগস্ট তা ১৫ লাখ পেরিয়ে যায়। এর আগে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ব্যাপক বিস্তারের মধ্যে ২৮ জুলাই দেশে রেকর্ড ১৬ হাজার ২৩০ জন নতুন রোগী শনাক্ত হন। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গত বছর ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। চলতি বছর ১৪ সেপ্টেম্বর তা ২৭ হাজার ছাড়িয়ে যায়। তার আগে ৫ ও ১০ আগস্ট ২৬৪ জন করে মৃত্যুর খবর আসে, যা মহামারির মধ্যে এক দিনের সর্বোচ্চ সংখ্যা।