Print Date & Time : 30 August 2025 Saturday 2:56 am

ঠাকুরগাঁয়ে আলুর ফলন বেড়েছে দাম নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

শামসুল আলম, ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ের এ বছর আলুর ফলন ভালো হয়েছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন হাটবাজারে উঠতে শুরু করেছে নতুন আলু। শুরুতে ভালো দাম থাকলেও এখন দাম কমে যাওয়ায় লোকসানের আশঙ্কা করছেন চাষিরা। কৃষকেরা জানান, আলুর বাজারদর কম হওয়ায় তাদের লোকসান গুনতে হতে পারে। তবে শহর ও গ্রামের বিভিন্ন হাটবাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণ আলু উঠলেও দাম একটু বেশি বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। এসব আলু কৃষকেরা বেশি দাম পাওয়ার আশায় আগেই লাগিয়েছিলেন। এছাড়া কিছু আলু আর কয়েক দিনের মধ্যেই ওঠানো যাবে। আর কিছু আলু লাগানো হচ্ছে এখন। এ তিন প্রকার আলু নিয়ে বর্তমানে ব্যস্ত কৃষক।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ বছর আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। আর যেগুলো কিছুদিনের মধ্যে ক্ষেত থেকে ওঠানো হবে, সেগুলোর ফলনও আশাতীত হতে পারে। এছাড়া বীজের জন্য দেরিতে লাগানো আলুরও ফলন ভালো হতে পারে বলে জানা যায়। তবে নতুন আলু বাজারে উঠলেও দাম একটু বেশি ছিল, কিন্তু বর্তমানে কমে গেছে।

গত শুক্রবার ও শনিবার স্থানীয় লাইড়ী ও আলদীহাটসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, কার্ডিনাল জাতের আলু কেজিপ্রতি ১৮-২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। গ্যানেলা জাতের আলু কেজিপ্রতি ১০-১২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি আলু প্রতি কেজি (পুরোনো ও নতুন) ২০-২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া এন্টারিজ, গ্যানেলা, ডায়মন্ড, শাগিতা ও ভোজাগোল্ড জাতের আলুও আবাদ করা হচ্ছে। অপরদিকে বাজারে বেশ কিছু কোম্পানির বীজ বিক্রি হলেও কৃষকেরা নিজ উদ্যোগে বীজের আলুর জন্য বীজতলা তৈরি করেছেন। আর সেখানে ভালো বীজ উৎপাদন করতে পারবেন বলে আশা করছেন কৃষকেরা।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এ বছর জেলায় আলুর আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৮ হাজার ৫১৫ হেক্টর জমিতে। আর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ছয় লাখ ৭৯ হাজার ৭৯৮ মেট্রিক টন। এর মধ্যে এ পর্যন্ত আবাদ হয়েছে ২৭ হাজার ৫৭০ হেক্টর জমিতে। আর এক সপ্তাহের মধ্যে পুরো আলু আবাদ শেষ হবে বলে জানানো হয়। গত বছর আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৭ হাজার ৬০২ হেক্টর জমি, যাতে আবাদের লক্ষ্য ধরা হয়েছিল ২৪ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমি এবং উৎপাদনের লক্ষ্য ধরা হয়েছিল পাঁচ লাখ ৯২ হাজার ৮০ মেট্রিক টন।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বোচাপুকুর পোকাতি গ্রামের কৃষক সাইফুর রহমান জানান, তিনি ছয় বিঘা (৩০০ শতক) জমিতে কার্ডিনাল জাতের আলু লাগিয়েছেন। এর মধ্যে কিছুদিন আগে প্রায় অর্ধেক জমি থেকে আলু উত্তোলন করে বিক্রি করেছেন। তিনি বস্তাপ্রতি (৮০ কেজি) বিক্রি করেছেন প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা, কিন্তু বর্তমানে দাম একটু কম। বস্তাপ্রতি (৮০ কেজি) এক হাজার ৪০০ থেকে এক হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তার মতে, গত বছর আলুর ফলন ভালো হওয়ায় এবং দাম চাহিদামতো পাওয়ায় এ বছর তিনি আলু লাগিয়েছেন। এ বছরও আলুর ন্যায্য দাম পাবেন বলে আশা প্রকাশ করছেন তিনি।

এ ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আবু হোসেন জানান, জেলায় এ মৌসুমে গত বছরের চেয়ে বেশি পরিমাণ জমিতে আলুর আবাদ করা হয়েছে। এরই মধ্যে বাজারে নতুন আলু উঠতে শুরু করেছে। আবহাওয়া অনুকূল ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ফলন আশাতীত হয়ে কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য পাবেন বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।