‘ঠিকাদার-প্রকৌশলীর যোগসাজশ: কাজ না করেই ২১ কোটি টাকা আত্মসাৎ’ শীর্ষক যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে গতকালের শেয়ার বিজে, তা আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে অনেকটা স্বাভাবিক ঘটনাই বলা চলে। সাধারণ মানুষের ধারণা, প্রকৌশলী-ঠিকাদার বোঝাপড়ার মাধ্যমে পরস্পরের স্বার্থ হাসিল করেন।
ঠিকার মানদণ্ড পরিপালন যথারীতি করা হয় না। সাধারণ নিয়ম হলো, ঠিকার অধীন নির্বাহযোগ্য কাজ তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তার নির্দেশ এবং সর্বপ্রকার অনুমোদন সাপেক্ষে নির্বাহ করিতে হইবে, যিনি কোনো স্থান বা স্থানগুলোয় এবং কী পদ্ধতিতে কাজ শুরু করতে হবে এবং সময় সময় কাজ চালানোর জন্য নির্দেশদানে অধিকারপ্রাপ্ত হবেন। তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তা হলেন ঠিকা নির্বাহের জন্য নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা। তিনি প্রকৌশলীরও নিয়ন্ত্রকারী কর্মকর্তা এবং প্রকৌশলী নিজ কাজের জন্য তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তার কাছে দায়ী থাকবেন।
শেয়ার বিজের প্রতিবেনের তথ্য, সময়মতো ঠিকাদার কাজ করতে পারেননি। চুক্তির শর্তও লঙ্ঘন করেছেন। কিন্তু কাজ না করেই উল্টো প্রকল্প থেকে আত্মসাৎ করেছেন প্রায় ২১ কোটি টাকা। ওই কাজে সহযোগিতা করে লাভবান হয়েছেন প্রকৌশলীও। বাংলাদেশের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল কার্যালয়ের (সিএজি) কমপ্লায়েন্স অডিটে এই অনিয়ম উঠে এসেছে।
সিএজি’র নিরীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা যায়, ক্যাশবুক ও ব্যাংক বিবরণীতে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কোনো প্রকার বিল দাখিল করেনি, কাজ সম্পাদনের স্বপক্ষে কোনো মেজারমেন্ট বুক (এমবি) সংরক্ষণ করা হয়নি এবং কাজ সম্পাদন ব্যতীত নির্বাহী প্রকৌশলীর একক স্বাক্ষরে হিসাবরক্ষকের স্বাক্ষর ব্যতীত চেকের মাধ্যমে ঠিকাদারকে বিল দেয়া হয়। তাছাড়া জামানত বাবদ ৩ কোটি ২৮ লাখ ২৬ হাজার টাকা কর্তন দেখানো হলেও সংশ্লিষ্ট খাতে জমা না করে ব্যাংক থেকে উত্তোলনের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত প্রকৌশলী আমাদের প্রতিবেদকের কাছে বলেছেন, বিষয়গুলো এককভাবে হয়নি। চক্রান্ত করে তাকে ফাঁসানো হয়েছে। অনেক আগেই আমাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
ঠিকাদার-প্রকৌশলীর যোগসাজশে প্রকল্পের অর্থ হাতিয়ে নেয়া, বেশি দাম দেখিয়ে নিন্মমানের পণ্যসামগ্রী ব্যবহার,কাজে ধীরগতিÑঅনেক অনিয়ম সংঘঠিত হয়। কঠোর পদক্ষেপ ছাড়া অনিয়ম বন্ধ করা সম্ভব নয়। কিন্তু কাজের মান দেখভালের দায়িত্ব তো প্রকৌশলীর, তিনি কী করছিলেন? তিনি নিজেই বিক্রি হয়ে গেছেন। কেন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ‘চক্রান্ত’ করা হবে?
ঠিকাদার ও উন্নয়ন প্রকল্পের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি তথা প্রকৌশলীদের ব্যক্তিদের অলিখিত আঁতাত নতুন নয়। কাজের অভিজ্ঞতা থাকুক বা না থাকুক, ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের কাজ কার্যাদেশ দিতে হয়। এ অবস্থায় উন্নয়নকাজে সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি আশা করা যায় না। দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়ন না করা, পরস্পর যোগসাজশে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ গুরুতর অপরাধ। গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ঠিকাদার-প্রকৌশলী পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি অর্থ আত্মসাতে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেবে বলেই প্রত্যাশা।