নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহজুড়ে সিংহভাগ কোম্পানির শেয়ারদর অপরিবর্তিত থাকলেও সূচকের নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে; একইসঙ্গে দৈনিক গড় লেনদেন ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ কমেছে। তবে গত সপ্তাহে বাজার মূলধন বেড়েছে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ। আগের সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবস লেনদেন হয়েছে আর গত সপ্তাহে চার কার্যদিবস লেনদেন হয়।
সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৩ দশমিক ১৮ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ২১ শতাংশ কমে ৬ হাজার ২৭৫ দশমিক ৮৩ পয়েন্টে স্থির হয়। ডিএসইএস বা শরিয়াহ্ সূচক ১ দশমিক ০৬ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ০৮ শতাংশ কমে এক হাজার ৩৬২ দশমিক ৫১ পয়েন্টে পৌঁছায়। অন্যদিকে ডিএস৩০ সূচক ৪ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ২৩ শতাংশ কমে দুই হাজার ১৩৫ দশমিক ৫৬ পয়েন্টে স্থির হয়। মোট ৪০৩টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৫৩টির, কমেছে ১০২টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২১৬ কোম্পানির শেয়ারদর। লেনদেন হয়নি ৩২টির। দৈনিক গড় লেনদেন হয় ৪৫৮ কোটি ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন হয় ৫০০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট টার্নওভার বা লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ হাজার ৮৩৫ কোটি ৩০ লাখ ১০ হাজার টাকা, আগের সপ্তাহে যা ছিল ২ হাজার ৫০২ কোটি ৭৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে টার্নওভার কমেছে, যা শতাংশের হিসেবে ২৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
গত সপ্তাহে ডিএসইর টপটেন গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে ক্যাপিটেক গ্রামীণ ব্যাংক গ্রোথ ফান্ড। আলোচিত সময়ে ফান্ডটির ইউনিটদর বেড়েছে ৪৫ দশমিক ১১ শতাংশ। গত সপ্তাহে ফান্ডটির প্রতিদিন গড় লেনদেন হয়েছে ১ কোটি ৪১ লাখ টাকার শেয়ার। সপ্তাহ শেষে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ কোটি ৬৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা এম্বি ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির শেয়ারদর বেড়েছে ৩০ দশমিক ৪৪ শতাংশ। গত সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন গড় লেনদেন হয়েছে ৪ কোটি ৪০ হাজার টাকার শেয়ার। সপ্তাহ শেষে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৬ কোটি ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এর পরের অবস্থানগুলোয় থাকা যথাক্রমে লিবরা ইনফিউশনস লিমিটেডের শেয়ারদর বেড়েছে ২৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ। গত সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন গড় লেনদেন হয়েছে ৯ কোটি ৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার শেয়ার। সপ্তাহ শেষে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৬ কোটি ২৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আরামিট লিমিটেডের শেয়ারদর বেড়েছে ১৮ দশমিক ১৮ শতাংশ। গত সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন গড় লেনদেন হয়েছে ৩ কোটি ৭৬ লাখ ৬০ হাজার টাকার শেয়ার। সপ্তাহ শেষে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৫ কোটি ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা। প্রাইম ব্যাংক লিমিটেডের শেয়ারদর বেড়েছে ১০ দশমিক ৩৪ শতাংশ। গত সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন গড় লেনদেন হয়েছে ২ কোটি ৪১ লাখ ৩০ হাজার টাকার শেয়ার। সপ্তাহ শেষে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯ কোটি ৬৫ লাখ ২০ হাজার টাকা। ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস লিমিটেডের শেয়ারদর বেড়েছে ১০ দশমিক ৩৩ শতাংশ। গত সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন গড় লেনদেন হয়েছে ৭ কোটি ৫৯ লাখ ১০ হাজার টাকার শেয়ার। সপ্তাহ শেষে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। বাংলাদেশ মনোস্পুল পেপার ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেডের শেয়ারদর বেড়েছে ৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ। মিরাকেল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের শেয়ারদর বেড়েছে ৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ। গত সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন গড় লেনদেন হয়েছে ৫ কোটি ৫৯ লাখ ৩০ হাজার টাকার শেয়ার। সপ্তাহ শেষে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ কোটি ৩৭ লাখ ১০ হাজার টাকা। সিএপিএম আইবিবিএল ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটদর বেড়েছে ৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ। সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের শেয়ারদর বেড়েছে ৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
গত সপ্তাহে লেনদেনের তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে উঠে আসে এমারাল্ড অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। গত সপ্তাহে কোম্পানিটির মোট ৫৪ লাখ ৯১ হাজার ৮টি শেয়ার ৭২ কোটি ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায় লেনদেন হয়, যা মোট লেনদেনের ৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ। সপ্তাহজুড়ে শেয়ারটির দর ২ দশমিক ৯৩ শতাংশ বেড়েছে।
