Print Date & Time : 20 April 2026 Monday 9:44 am

ডিএসইতে গত সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন ১৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ বেড়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহজুড়ে সিংহভাগ কোম্পানির শেয়ারদর কমায় সূচকের পতন দেখা গেছে। তবে দৈনিক গড় লেনদেন ১৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে গত সপ্তাহে বাজার মূলধন বেড়েছে শূন্য দশমিক ৪২ শতাংশ। আগের সপ্তাহে চার কার্যদিবস লেনদেন হয়েছে, আর গত সপ্তাহে চার কার্যদিবস লেনদেন হয়।

সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত সপ্তাহে মোট ৩৯৬টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৬৪টির, কমেছে ১৮২টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৫০ কোম্পানির শেয়ারদর। লেনদেন হয়নি ১৭টির। দৈনিক গড় লেনদেন হয় ৩৪৮ কোটি ১২ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছিল ২৯৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ১৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

এদিকে গত সপ্তাহে দর বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে ওঠে এসেছে প্রকৌশল খাতের কোম্পানি ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড লিমিটেড। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ৪৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ। সর্বশেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারদর ৯ দশমিক ৫২ শতাংশ বা ৮০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ ৯ টাকা ২০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দরও ছিল ৯ টাকা ২০ পয়সা। দিনজুড়ে ১১ লাখ ৮৯ হাজার ৭৫৮টি শেয়ার ৩৩০ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ১ কোটি ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। দিনভর শেয়ারদর সর্বনিম্ন ৯ টাকা ২০ পয়সায় হাতবদল হয়। তবে গত এক বছরের মধ্যে কোম্পানিটির শেয়ারদর সর্বনিম্ন ৫ টাকা ৬০ পয়সা থেকে সবর্োচ্চ ১৭ টাকা ৪০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে।

কোম্পানিটি ২০১৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘জেড’ ক্যাটেগরিতে অবস্থান করছে। কোম্পানিটির ৬০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ২৩৫ কোটি ২০ লাখ ৪০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ১৫৯ কোটি ৭ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট ২৩ কোটি ৫২ লাখ তিন হাজার ৭৬৯ শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে ৩০ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং বাকি ৫৪ দশমিক ৩১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে।

এদিকে সাপ্তাহিক দরবৃদ্ধির তালিকায় এর পরের অবস্থানে থাকা খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেডের ২৯ দশমিক ১১ শতাংশ, ইয়াকিন পলিমার লিমিটেডের ১৯ দশমিক ০৫ শতাংশ, লিগ্যাসি ফুটওয়্যার লিমিটেডের ১৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ, রূপালী ব্যাংক পিএলসির ১৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ, মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের ১৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ, হামি স্টিলস লিমিটেডের ১২ দশমিক ৯০ শতাংশ, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ১২ দশমিক ২২ শতাংশ, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেডের ১১ দশমিক ৩৪ শতাংশ এবং ওয়ান ব্যাংক পিএলসির ১০ দশমিক ৮৪ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে।

গত সপ্তাহে লেনদেনের তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করে ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি ওরিয়ন ইনফিউশনস লিমিটেডের শেয়ার। আলোচ্য সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনে কোম্পানিটির অবদান ৬ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। সর্বশেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারদর শূন্য দশমিক ৫৬ শতাংশ বা ২ টাকা ২০ পয়সা কমে প্রতিটি সর্বশেষ ৩৮৭ টাকা ২০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দরও ছিল একই। দিনজুড়ে শেয়ারদর ৩৭০ টাকা ৩০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৩৯৭ টাকা ৯০ পয়সায় হাতবদল হয়। এ দিন দুই লাখ ৮৪ হাজার ৯১৭টি শেয়ার দুই হাজার ৮৯৮ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ১০ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। গত এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ারদর ২১৭ টাকা ২০ পয়সা থেকে ৭২৬ টাকা ৯০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে।

চলতি হিসাববছরের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর, ২০২৪) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ওরিয়ন ইনফিউশনস লিমিটেড। আর এ প্রান্তিকে তাদের শেয়ারপ্রতি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, চলতি হিসাববছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর, ২০২৪) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫৪ পয়সা, যা আগের বছর একই সময় ছিল ৬৬ পয়সা। অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি আয় ১২ পয়সা কমেছে। এছাড়া ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৫ টাকা ৯৯ পয়সা। প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থপ্রবাহ দাঁড়িয়েছে ২০ পয়সা, যা আগের বছর একই সময় ৮ পয়সা ছিল।

ওরিয়ন ইনফিউশন ১৯৯৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘এ’ ক্যাটেগরিতে অবস্থান করছে। কোম্পানির ১০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ২০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ১১ কোটি ৯ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট ২ কোটি ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬০ শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে ৪০ দশমিক ৬১ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক ৫ দশমিক ২১ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে শূন্য দশমিক ০৫ শতাংশ এবং বাকি ৫৪ দশমিক ১৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে।