নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহজুড়ে সিংহভাগ কোম্পানির শেয়ারদর কমার পাশাপাশি সূচকের নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে; একইসঙ্গে দৈনিক গড় লেনদেন ১৮ দশমিক ২৫ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে গেল সপ্তাহের বাজার মূলধন কমেছে দুই দশমিক ২৪ শতাংশ। আগের সপ্তাহে চার কার্যদিবস লেনদেন হয়েছে আর গত সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবস লেনদেন হয়।
সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৬৫ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট বা দুই দশমিক ৪১ শতাংশ কমে ছয় হাজার ৭০২ দশমিক ৬১ পয়েন্টে স্থির হয়। ডিএসইএস বা শরিয়াহ্ সূচক ৩৮ দশমিক ৬৬ পয়েন্ট বা দুই দশমিক ৬৪ শতাংশ কমে এক হাজার ৪২৩ দশমিক ৬৫ পয়েন্টে পৌঁছায়। অন্যদিকে ডিএস৩০ সূচক ৭৪ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট বা দুই দশমিক ৮৮ শতাংশ কমে দুই হাজার ৫১১ দশমিক ৯৯ পয়েন্টে স্থির হয়। মোট ৩৮৬টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৮১টির, কমেছে ২৯৫টির এবং অপরিবর্তিত ছিল পাচ কোম্পানির শেয়ারদর। লেনদেন হয়নি পাঁচটির। দৈনিক গড় লেনদেন হয় ৭৬২ কোটি ৯৩ লাখ ২২ হাজার ৪১০ টাকা। আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন হয় ৯৩৩ কোটি ২৭ লাখ ২৩ হাজার ৯৫৪ টাকা টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ১৮ দশমিক ২৫ শতাংশ।
গেল সপ্তাহে ডিএসইতে মোট টার্নওভার বা লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় তিন হাজার ৮১৪ কোটি ৬৬ লাখ ১২ হাজার ৪৯ টাকা। আগের সপ্তাহে যা ছিল তিন হাজার ৭৩৩ কোটি আট লাখ ৯৫ হাজার ৮১৬ টাকা টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে টার্নওভার কমেছে, যা শতাংশের হিসেবে দুই দশমিক ১৯ শতাংশ।
ডিএসইতে গত সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার বাজার মূলধন ছিল পাঁচ লাখ ৫১ হাজার ৫৯০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। শেষ কার্যদিবসে যার পরিমাণ ছিল পাঁচ লাখ ৩৯ হাজার ২৫৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে দুই দশমিক ২৪ শতাংশ।
গত সপ্তাহে ডিএসইর টপটেন গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে এশিয়া ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ৩২ দশমিক ৭৬ শতাংশ। গত সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন গড় লেনদেন হয়েছে ১৭ কোটি ৬০ লাখ ৬০ হাজার টাকার শেয়ার। সপ্তাহ শেষে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৮৮ কোটি তিন লাখ টাকা। সর্বশেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারদর ছয় দশমিক ৬২ শতাংশ বা সাত টাকা ২০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ ১১৫ টাকা ৯০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ১১৫ টাকা ৯০ পয়সা। ওইদিন কোম্পানিটির ২৮ কোটি ৩৯ লাখ ৮০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।
তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের শেয়ারদর বেড়েছে ১৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এর পরের অবস্থানগুলোয় থাকা যথাক্রমে প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের শেয়ারদর বেড়েছে ১৫ দশমিক ২৪ শতাংশ। অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের শেয়ারদর বেড়েছে ১৩ দশমিক ১১ শতাংশ। পঞ্চম অবস্থানে থাকা গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ১২ দশমিক ২১ শতাংশ বেড়েছে। স্টাইলক্রাফট লিমিটেডের ১২ দশমিক ২০ শতাংশ, গত সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন গড় লেনদেন হয়েছে দুই কোটি ১৯ লাখ ২২ হাজার টাকার শেয়ার। সপ্তাহ শেষে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ১০ কোটি ৯৬ লাখ ১০ হাজার টাকা। প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের ১১ দশমিক ১৪ শতাংশ, সোনালী পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস লিমিটেডের ১০ দশমিক ৯২ শতাংশ, সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের ১০ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং জনতা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ১০ দশমিক ১৪ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে।
গত সপ্তাহে লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে বাংলাদেশ এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট কোম্পানি (বেক্সিমকো) লিমিটেড। আর লেনদেনের এ তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে আসে ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড। লেনদেনের এ তালিকায় পরের অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে ফরচুন শুজ লিমিটেড, সোনালী পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস লিমিটেড, জেনেক্স ইনফোসিস লিমিটেড, এশিয়া ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড, সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, আইএফআইসি ব্যাংক লিমিটেড এবং সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড।