ডিএসই পরিচালক নির্বাচন: প্রার্থীদের সিআইবি রিপোর্ট চেয়ে বিএসইসি’র চিঠি

নিয়াজ মাহমুদ : দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) স্টেকহোল্ডার বা শেয়ারধারী পরিচালক নির্বাচন আগামী ২১ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। দুটি পদের জন্য ভোটযুদ্ধে অংশ নিচ্ছেন চারজন প্রার্থী। সাধারণভাবে কোনো ঋণখেলাপি প্রার্থী কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। এ কারণে প্রার্থীদের ব্যাংকঋণ-সংক্রান্ত তথ্য জানতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোতে (সিআইবি) চিঠি পাঠিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

প্রার্থীরা হলেনÑর‌্যাপিড সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হানিফ ভূঁইয়া, ধানমন্ডি সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান খান, কান্ট্রি স্টক বাংলাদেশ হাউজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খাজা আসিফ আহমেদ ও সার সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ আতাউর রহমান।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, চার প্রার্থীর ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণের তথ্য জানতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএএম মাজেদুর রহমান বিএসইসির চেয়ারম্যান বরাবর চিঠি দেন। এ চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসির উপপরিচালক মোহাম্মাদ নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি চিঠি সিআইবির মহাব্যবস্থাপক বরাবর পাঠায় চলতি মাসের ৭ তারিখ।

চিঠিতে বলা হয়, ডিমিউচুয়ালাইজেশনের (স্টক এক্সচেঞ্জের মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনাকে আলাদা করা) শর্ত অনুসারে ডিএসইর শেয়ারধারী পরিচালক নির্বাচন-২০১৭-এ অংশ নেওয়া প্রার্থীদের সিআইবি রিপোর্ট প্রয়োজন।

এদিকে ৭ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো চিঠিতে অতিদ্রুত এ রিপোর্ট দেওয়ার অনুরোধ জানানো হলেও গতকাল পর্যন্ত বিএসইসির হাতে রিপোর্টটি এসে পৌঁছায়নি বলে জানা গেছে। এদিকে ১৪ মার্চ চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। পরিচালক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২১ মার্চ। এর জন্য ইতোমধ্যে তিন সদস্যের একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে।

কমিটিপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সুপ্রিমকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. আবদুস সামাদ। নির্বাচন কমিশনের অন্য দুই সদস্য হলেনÑ হারুন সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হারুন-উর-রশিদ এবং এমঅ্যান্ডজেড সিকিউরিটিজ লিমিডেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. মনজুর উদ্দিন আহমেদ।

ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, ডিমিউচুয়ালাইজেশন নিয়ম অনুযায়ী, পরিচালক পদে থাকার মেয়াদ শেষ হচ্ছে দুজনের। বর্তমান শেয়ারহোল্ডার পরিচালক শাকিল রিজভী ও খাজা গোলাম রসুলের স্থলাভিষিক্ত হবেন ২১ মার্চ নির্বাচিত দুই পরিচালক। এদিন স্টক এক্সচেঞ্জ বিল্ডিংয়ের নিচতলায় সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ হবে। একই দিন নির্বাচনের ফল প্রকাশ করা হবে। তবে ডিএসইর ৫৫তম এজিএমে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হবে।

ডিমিউচুয়ালাইজেশনের (স্টক এক্সচেঞ্জের মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনাকে আলাদা করা) শর্ত অনুসারে প্রথম বছর চারজন শেয়ারহোল্ডার পরিচালক নির্বাচিত হবেন। এক বছর পর তাদের মধ্য থেকে একজন বিদায় নেবেন। তার বিপরীতে নতুন একজন পরিচালক নির্বাচিত হয়ে পর্ষদে যুক্ত হবেন। পরের বছর অপর তিনজন থেকে একজন পরিচালক অবসরে যাবেন। তার বিপরীতে নির্বাচনের মাধ্যমে আরও একজন নতুন পরিচালক যুক্ত হবেন। একই নিয়মে তৃতীয় বছরেও অপর একজন পরিচালক অবসরে যাবেন এবং নতুন একজনকে নির্বাচিত করা হবে। এভাবে প্রতিবছর একজন পরিচালক অবসরে যাবেন এবং তার বিপরীতে নতুন একজনকে যুক্ত করা হবে।

ডিমিউচুয়ালাইজেশনের আইন অনুসারে, স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালনা পর্ষদে মোট ১৩ জন সদস্য থাকেন। এর মধ্যে সাতজন স্বতন্ত্র পরিচালক, চারজন শেয়ারহোল্ডার পরিচালক, একজন কৌশলগত বিনিয়োগকারী পরিচালক ও স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদাধিকারবলে পর্ষদ সদস্য হিসেবে থাকেন। শেয়ারহোল্ডার পরিচালকরা স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে তিন বছরের জন্য নির্বাচিত হন। কারও মেয়াদ শেষ হওয়ার পর শূন্যপদ পূরণের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠান করে ডিএসই। সর্বশেষ ২০১৬ সালে শেয়ারহোল্ডার পরিচালক নির্বাচনের মাধ্যমে ডিএসইর পর্ষদে আসেন স্টক এক্সচেঞ্জটির সাবেক সভাপতি রকিবুর রহমান।