প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ : গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে সড়কে ট্রাক আটকে ১১ হাজার ১৬০ লিটার সয়াবিন তেল লুটের ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে ময়মনসিংহের ফুলপুর থানা পুলিশ। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত চারটি টর্চলাইট, ১০টি মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেল, চেক ও নগদ ১৩ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন ঢাকার খিলগাঁও এলাকার মৃত আসাদ মিয়ার ছেলে মো. আরিফ মিয়া (২৫), সবুজবাগ এলাকার ইলিয়াস আলীর ছেলে আজগর আলী (২০), একই এলাকার ইমান আলীর ছেলে মো. শাকিব (২০), বরগুনা সদর উপজেলার মৃত ইউনুস আলীর ছেলে মো. আব্দুল খালেক (৪০)।
ফুলপুর থানা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এর আগে শুক্রবার (২৬ আগস্ট) রাতে ঢাকার খিলগাঁও, সবুজবাগ ও কদমতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এ বিষয়ে ফুলপুর থানার ওসি মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, গত ১৫ আগস্ট রাতে নারায়ণগঞ্জ থেকে ১১ হাজার ১৬০ লিটার (৬০ ড্রাম) তেল কেনেন গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ আল মুজাহিদ। ওইদিন রাতেই তেল ট্রাকে লোড করে গাজীপুরের শ্রীপুরের উদ্দেশে রওনা দেন প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার ফারুক মিয়া। ট্রাকটি রূপগঞ্জ এলাকায় আসতেই একটি প্রাইভেটকার ট্রাকের পথরোধ করে। চালক গাড়ি থামালে ডিবি পরিচয়ে ট্রাকে ওঠে ডাকাতরা। তারা চালক রুহান মিয়া, ম্যানেজার ফারুক মিয়া ও চালকের সহকারীর চোখ-মুখ বেঁধে প্রাইভেকারের পেছনে রাখেন। পরে ডাকাতদলের একজন ট্রাকটি চালিয়ে ময়মনসিংহের ত্রিশালে আসেন। সেখানে ট্রাক থেকে তেল অন্য ট্রাকে নিয়ে ম্যানেজার, চালক ও সহকারীকে সড়কে ফেলে চলে যান।
ওসি আরও জানান, ১৬ আগস্ট ভোরে ম্যানেজার ফারুক মিয়া ত্রিশাল থানায় সয়াবিন তেল লুটের বিষয়টি জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাকটি জব্দ করে। পরে ম্যানেজার ফারুক মিয়ার কথামতো বিষয়টি ফুলপুর থানা পুলিশকে জানায় ত্রিশাল থানার পুলিশ। ওইদিন রাতেই ফুলপুর থানা পুলিশ উপজেলার ভাইটকান্দি ইউনিয়নের বড় চিলাগাই এলাকার শাহজাহান সাজুর দোকান থেকে ৪৪ ড্রামে আট হাজার ১৮৪ লিটার তেল উদ্ধার করে।
এ ঘটনার পর গত ২০ আগস্ট তেলের মালিক আব্দুল্লাহ আল মুজাহিদ বাদী হয়ে ফুলপুর থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে পার্শ্ববর্তী হালুয়াঘাট উপজেলা থেকে বাকি ১৬ ড্রাম তেল জব্দ করা হয়।
ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তারা পেশাদার ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।