‘ডেঙ্গুতে এক দিনে ভর্তি ১ হাজার ৩৪ রোগী, মৃত্যু পাঁচজনের’ শীর্ষক যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, গতকালের শেয়ার বিজে, তা নিঃসন্দেহে উদ্বেগের। আমাদের প্রতিবেদক জানিয়েছেন, বুধবার পর্যন্ত এ বছর মশাবাহিত এ রোগে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩ হাজার ১৫৪ জনে। বুধবার মারা যাওয়া পাঁচজনসহ এ বছর এই রোগে মোট ৪২৭ জন মৃত্যুবরণ করেছেন ।
ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হওয়ার পর মানুষ নানাভাবে সতর্ক হয়েছে, রাষ্ট্রও প্রতিকারে বিপুল ব্যয়ে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে, তা সত্ত্বে ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে যাওয়া চিন্তার বিষয়। দেশের পার্বত্য অঞ্চল বিশেষ করে চট্টগ্রামে একটা সময় ম্যালেরিয়া মানে ছিল রীতিমতো আতঙ্ক। প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় মশাবাহিত এ রোগের প্রকোপে চরমভাবে ভুগতে হতো সেখানকার জনগোষ্ঠীকে। গত দুই আড়াই দশকে যোগাযোগব্যবস্থা ও আর্থসামাজিক উন্নয়নের ফলে সেখানকার স্বাস্থ্যব্যবস্থাও তুলনামূলকভাবে উন্নত হয়েছে। এরপরও ম্যালেরিয়া আর প্রাণঘাতী রোগ নয়। ম্যালেরিয়ায় রোগীর মারা গেলেও সেটিকে কমই ভয় পায় সাধারণ মানুষ। কিন্তু এত প্রচার, সতর্কতা সত্ত্বেও ডেঙ্গু আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে একপ্রকার অবজ্ঞাই করেছে যেন! মশাবাহিত রোগটিতে নাকাল নগরবাসী।
এখন ডেঙ্গুর মৌসুম নয়। তবু পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে, সেদিক দিয়ে বান্দরবানের পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। এখন মানুষ আঙিনা নোংরা রাখে না, কোথাও পানি জমে না; সবাই আগের চেয়ে অনেক সচেতন। গণপরিবহনে এখন মশার উপদ্রব লক্ষণীয়। এটির ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধির বড় কারণ হতে পারে। বৈশ্বিক মহামারি কভিডকালে আমাদের গণপরিবহনে মশারোধী ওষুধ স্প্রে করা হতো। এখন তা করা হয় না। এ ব্যাপারে বাস মালিক সমিতি উদ্যোগ নিলে সুফল পাওয়া যেতে পারে। প্রয়োজনে তা কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে, তা স্থানীয় প্রশাসন তদারকি করবে। এ ব্যাপারে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই। বাস মালিক, চালক ও সহযোগীদের এবং অবশ্যই যাত্রীদের সচেতন করা জরুরি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা বেশি জরুরি। অভিজাত কিংবা বস্তি এলাকা হোক, সর্বত্রই এ বিষয় নিশ্চিত করতে হবে। প্রত্যেকে ব্যক্তিগতভাবে ঘরের আশপাশ, ঝোপঝাড় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাতে হবে। ডেঙ্গু মশাবাহিত রোগ। ফলে এখানে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের কোনো বিকল্প নেই। সেখানে সর্বস্তরের মানুষসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও তরুণদের সম্পৃক্ত করতে হবে।
সেখানকার স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও বেশি গতিশীল করে তুলতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তৎপরতা জরুরি। আমরা মনে করি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সংস্থা সবার মিলে একটি সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণ করলে মশাবাহিত রোগ তা ম্যালেরিয়া কিংবা ও ডেঙ্গু যা-ই হোক না কেন; নিয়ন্ত্রণ করা দুঃসাধ্য নয়।




