আতাউর রহমান: দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ড্যাফোডিল কম্পিউটারস এবং ইনটেক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) সঙ্গে বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এজন্য আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় ও বেলা সাড়ে ১২টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সিকিউরিটিজ কমিশন ভবনের ৫ম তলায় দুটি সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে। সম্প্রতি এ বিষয়ে জানিয়ে দুটি কোম্পানির এমডির কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ড্যাফোডিল কম্পিউটারস এবং ইনটেক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের সব সদস্যকে উল্লিখিত সময় অনুযায়ী সভায় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। সভার সভাপতি এসআরএমআইসির কমিশনার সভা করার জন্য অনুমতি দিয়েছেন। যেখানে কমিশনের এসআরএমআইসি বিভাগের নির্বাহী পরিচালক, পরিচালক, অতিরিক্ত পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন বলে জানানো হয়েছে।
আরও বলা হয়েছে, ড্যাফোডিল কম্পিউটারসের সভা আজ সকাল সাড়ে ১১টায় এবং ইনটেকের সভা বেলা সাড়ে সাড়ে ১২টায় আগারগাঁও কমিশন ভবনের ৫ম তলায় অনুষ্ঠিত হবে। সেই সঙ্গে কোম্পানি দুটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিঠিতে উল্লিখিত কোম্পানির ব্যক্তিদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ড্যাফোডিল কম্পিউটারসের কোম্পানি সচিব মো. মনির হোসেন শেয়ার বিজকে বলেন, সভায় যাওয়ার বিষয়ে আমরা একটি চিঠি পেয়েছি। আগামীকাল (আজ) আমরা সভায় যাব। তবে কী বিষয়ে সভা অনুষ্ঠিত হবে, তা চিঠিতে উল্লেখ না থাকায় আমাদের জানা নেই।
ড্যাফোডিল কম্পিউটারসের গত ৩১ মার্চ ২০২৩ সমাপ্ত তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি হিসাব বছরের ২০২২-২৩ তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি ১৭ পয়সা আয় হয়েছে। গত বছর একই সময়ে শেয়ারপ্রতি ১৮ পয়সা আয় হয়েছিল। অন্যদিকে তিন প্রান্তিকে কোম্পানিটির আয় হয়েছে ৫৮ পয়সা। গত বছর একই সময়ে ৫৩ পয়সা আয় হয়েছিল। গত ৩১ মার্চ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ১৩ টাকা ৩৭ পয়সা।
কোম্পানিটি গত ৩০ জুন, ২০২২ সমাপ্ত হিসাববছরে শেয়ারহোল্ডারদের ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। সর্বশেষ বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৬৭ পয়সা। আগের বছর শেয়ারপ্রতি ৭০ পয়সা আয় হয়েছিল।
এদিকে কোম্পানিটি গত ৩০ জুন ২০২১ সমাপ্ত বছরে শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি। এছাড়া গত ৩১ মার্চ ২০২২ শেষে তৃতীয় প্রান্তিকের পর থেকে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
এর আগে ইনটেকের পরিচালনা পর্ষদ চলতি বছরে তারল্য সংকটের কারণে অব্যবহƒত জমি লিজ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কোম্পানিটি ময়মনসিংহের তারাকান্দায় ৩০ একর জমি লিজ দেবে। কোম্পানিটি বছরে প্রতি একর জমিতে ৭০ হাজার টাকা নেবে। তারা ৫ বছরের (মার্চ ২০২৩ সাল থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৮ পর্যন্ত) জন্য বিশ্বাস অ্যাগ্রো ফিশারিজ লিমিটেডে জমি লিজ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
গত বছরের জুলাইয়ে ইনটেক লিমিটেডের ৫ জন সাবেক পরিচালকসহ বর্তমান ১ জন পরিচালক ও সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালককে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য গোপনীয়তার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কোম্পানির প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে অন্ধকারে রাখার দায়ে ১ কোটি টাকা জরিমানা করে বিএসইসি। যারা পর্ষদে থাকাকালীন বিএসইসির ২০১১ সালে জারিকৃত ন্যূনতম ২ শতাংশ শেয়ার ধারণের নির্দেশনাও পরিপালন করেনি।
দোষী ব্যক্তিরা হলেনÑইনটেক লিমিটেডের বর্তমান পরিচালক এটিএম মাহবুবুল আলম, সাবেক পরিচালক মো. শহীদুল আলম, মো. আরিফুর রহমান, মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ, মো. আশিকুর রহমান, শামসুল আলম ও সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা আমিনুল ইসলাম বেগ।
তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন সুবিধাভোগী ব্যবসা নিষিদ্ধকরণ বিধিমালায় তালিকাভুক্ত প্রতিটি কোম্পানির কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্যের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ৩০ মিনিটের মধ্যে বিএসইসি ও উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে পাঠানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এছাড়া দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় ও একটি অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশ করতে হয়। এ সত্ত্বেও ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) আলোচ্যসূচিতে থাকা কোম্পানির রিসোর্ট প্রজেক্টের বিষয়ে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য যথাসময়ে প্রকাশ করেনি। এছাড়া ২০১২ সালের ১৭ মে এজিএমের সাধারণ আলোচ্যসূচিতে ভিন্ন খাতে ব্যবসা সম্প্রসারণ সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনাকে দায়ী করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ডিএসই লিস্টিং রেগুলেশনস ২০১৫-এর ২৪ ধারা এবং কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর ৫১ ধারার শিডিউল ১-এর পরিপন্থি কাজ করা হয়েছে।
এর আগে কোম্পানির তিন বছরের আর্থিক বিবরণীর ওপর বিশেষ নিরীক্ষা পরিচালনা করে বিএসইসি। কোম্পানিটির ২০১৮-১৯, ২০১৯-২০ এবং ২০২০-২১ অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদনের ওপর বিশেষ নীরিক্ষা চালানোর জন্য জি কিবরিয়া অ্যান্ড কোং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসকে নিয়োগ দেয় বিএসইসি। বিশেষ নিরীক্ষক বিগত তিন বছরে ইনটেকের আর্থিক বিবরণীর বস্তুনিষ্ঠতা পরীক্ষা করে। কোম্পানিটি ওই সময়ে যে মুনাফা ও শেয়ারপ্রতি আয় দেখিয়েছে তা যথাযথ ছিল কি না তা যাচাই করে। পাশাপাশি কোম্পানিটির সম্পদ ও দায়-দেনাও খতিয়ে দেখে।