Print Date & Time : 31 August 2025 Sunday 2:49 am

ঢাকার পেট্রলপাম্পগুলোয় তেল ফুরিয়ে আসছে, অনেকগুলো বন্ধ

শেয়ার বিজ ডেস্ক:রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পেট্রলপাম্প থেকে ডিজেল, পেট্রল ও অকটেনের মতো জ্বালানি তেল সরবরাহ কমে গেছে। পাম্পের নিজস্ব মজুত থেকে বিক্রি করছে তারা। বেশিরভাগ পাম্পের মজুত ফুরিয়ে গেছে। এ কারণে পাম্প বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

রাজধানীতে রাত পৌনে ৮টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ছয়টি পেট্রলপাম্প ঘুরে দেখা যায়, পাঁচটি পুরোপুরি বন্ধ। অনেকেই তেল নিতে এসে ফিরে যাচ্ছেন। সূত্র: প্রথম আলো।

কল্যাণপুরের সাহিল ফিলিং স্টেশন দুপুরের পর থেকে তেল দিতে পারেনি। একই এলাকার সোহরাব সার্ভিস স্টেশনে শনিবার রাতেই তেল শেষ হয়ে যায়। অন্যতম বড় ফিলিং স্টেশন খালেক সার্ভিস স্টেশন আজ বিকাল থেকে তেল দিতে পারছে না। আর কল্যাণপুরের কমফোর্ট ফিলিং স্টেশনের সামনে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রেখেছে ‘তেল নেই’ লিখে। ঢাকার অন্যতম বড় পাম্প আসাদগেটের তালুকদার ফিলিংও বন্ধ দেখা যায়। পাঁচটি পেট্রলপাম্পের কর্মীরা জানান, তারা আজ ডিপো থেকে তেল আনতে পারেননি, তাই মজুত শেষ।

তবে আসাদগেটের সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনে রাত ৮টায় তেল বিক্রি করতে দেখা যায়। সেখানে ছিল লম্বা লাইন।

এদিকে দাবি পূরণ না হওয়ায় ধর্মঘট অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন পেট্রলপাম্প মালিকদের একাংশ। তবে তাদের এই ধর্মঘট প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন মালিকদের আরেক অংশ।

তিন দফা দাবি পূরণে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল পেট্রলপাম্প মালিক সমিতির একটি অংশ। এর মধ্যে একটি দাবি পূরণ করা হয়েছে। তবে তাদের মূল দাবি, জ্বালানি তেলে কমিশন বাড়ানো। ২০১৬ সাল থেকে এ দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। নতুন করে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। একটি অংশ তা মেনে নিলেও আরেকটি অংশ তা না মেনে ধর্মঘট শুরু করে।

আন্দোলনরত মালিক সমিতির মহাসচিব মিজানুর রহমান গতকাল সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আলোচনার জন্য ডাকা হয়নি। তাই জ্বালানি তেল উত্তোলন বন্ধ থাকবে। সোমবার থেকেই অনেক পাম্প থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ হতে পারে। পরদিন বেশিরভাগ পাম্প তেল দিতে পারবে না। পেট্রলপাম্প থেকে গ্রাহক তেল না পেলে তার জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে।’ ডিপো থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহে আন্দোলনকারীরা বাধা দিচ্ছে, এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, মালিকদের সঙ্গে বিভিন্ন দাবিতে শ্রমিকেরাও যুক্ত হয়েছেন। তারা ডিপো ঘেরাও করে রেখেছেন। কেউ তেল বের করতে পারবে না। শুধু জরুরি বিবেচনায় উড়োজাহাজে ব্যবহƒত জেট ফুয়েল পরিবহন বিকালে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

মালিকদের অভিযোগ, ২০১৬ সালের মার্চে সরকারের সঙ্গে বৈঠকে ১২ দফা দাবি জানান পেট্রলপাম্প মালিকেরা। তাৎক্ষণিকভাবে তিনটা মেনে নেয়া হয়। এরপর আরও কয়েকটা মেনে নেয়া হয়েছে। পাঁচটা দাবি বাকি রয়ে যায়। এর মধ্যে অন্যতম কমিশন বাড়ানো। কিন্তু এটি নিয়ে বারবার সময় পিছিয়েছে সরকার। কমিশন বাড়াতে চায় না জ্বালানি তেল সরবরাহকারী সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। প্রতি লিটারে নির্ধারিত কমিশন পায় তারা। ডিজেলে দুই টাকার কিছু বেশি আর পেট্রল ও অকটেনে তিন থেকে চার টাকা কমিশন পায় তারা। এটি তেলের দামের সাড়ে সাত শতাংশ করার দাবি তাদের। এটি নিয়ে সমঝোতা করে কিছুটা কমাতেও রাজি আছেন তারা। তবে সরকার একটি পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় নিলেও আন্দোলনকারী পক্ষের সঙ্গে কোনো বৈঠক হয়নি।

তবে গতকাল রোববার সংবাদ সম্মেলন করে এ ধর্মঘট প্রত্যাহারের আহ্বান জানান নিবন্ধিত সংগঠন পেট্রলপাম্প মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হক। তিনি বলেন, গ্রাহকদের ভোগান্তিতে ফেলতে একটি অংশ ধর্মঘট করছে। তারা সমিতির কেউ নন।

মালিকদের বড় অংশ তাদের সঙ্গে নেই। কিন্তু তাদের বাধায় ডিপো থেকে তেল নিতে পারছেন না মালিকেরা। এতে পেট্রলপাম্পে তেল সরবরাহ কমে গেছে। তিনি বলেন, যেহেতু সরকার ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দাবি মানার আশ্বাস দিয়েছে, তাই এখন আন্দোলন করার যুক্তি নেই।

সরকার অনুমোদিত পরিবেশকদের নিয়মিত জ্বালানি তেল সরবরাহ করে বিপিসির অধীন থাকা তিন রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা। এ জ্বালানি তেল কিনে নিয়ে পরিবেশকেরা নিজস্ব পেট্রলপাম্প থেকে ডিজেল, পেট্রল ও অকটেন বিক্রি করে গ্রাহকের কাছে।

গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার কয়েকটি পেট্রলপাম্প ঘুরে জ্বালানি তেল না থাকার চিত্র দেখা গেছে। এর মধ্যে তেজগাঁও এলাকার বড় পেট্রলপাম্প সাউদার্ন আজ অকটেন সরবরাহ করতে পারেনি। এখানকার এক কর্মকর্তা বলেন, সকালে কিছু পেট্রল দিতে পেরেছেন। বিকালে শুধু ডিজেল ছিল তাদের কাছে। শনিবার রাত আড়াইটা পর্যন্ত ভিড় ছিল তাদের পাম্পে। আজ তাদের পাম্পে ডিপো থেকে তেল আসেনি।

ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য অকটেন নিতে আজ ঢাকার চারটি পেট্রলপাম্পে ঘুরেছেন একজন গণমাধ্যমকর্মী। তিনি বলেন, তিনটিতে কোনো পেট্রল পাওয়া যায়নি। একটি পাম্প থেকে মাত্র ১০ লিটার নিতে পেরেছেন। বেসরকারি একটি সংস্থায় কর্মরত আসিফ রহমান আজ সকালে তিনটি পেট্রলপাম্প ঘুরে তেল কিনতে পারেননি।

এ বিষয়ে বিপিসির পরিচালক (বিপণন) অনুপম বড়ুয়া গতকাল বলেন, দাবি কিছু মানা হয়েছে, বাকিটা প্রক্রিয়াধীন। এর মধ্যে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া অযৌক্তিক। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে জ্বালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সোমবার কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাম্পে জ্বালানি তেল সরবরাহ কমে গেছে। পাম্পগুলো মজুত থেকে তেল দিচ্ছে। যদিও খুলনায় ধর্মঘটের কথা শুনে বেশি করে তেল কেনায় মজুত শেষ হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এম শামসুল আলম বলেন, ‘এভাবে ভোক্তাদের জিম্মি করে কমিশন বাড়ানোর চাপ দিতে পারেন না পেট্রলপাম্প মালিকেরা। বিদ্যমান কমিশনে তেল বিক্রি করতে রাজি না হলে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হোক। এরপর উš§ুক্ত আহ্বানের মাধ্যমে নতুন করে লাইসেন্সের আবেদন নিয়ে পেট্রলপাম্প চালু করতে পারে সরকার।’