প্রতিনিধি, সাভার (ঢাকা) : বিএনপি ঘোষিত হরতালের জেরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যান চলাচল সীমিত রয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন মহাসড়কে চলাচলকারী সাধারণ যাত্রীরা। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে মহাসড়কের সাভারের নবীনগর থেকে ধামরাইয়ের বারবাড়িয়া এলাকায় খোঁজ নিয়ে এ তথ্য জানা যায়। এসব বাসস্ট্যান্ডে সাধারণ যাত্রীদের গণপরিবহনের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
সরেজমিনে গিয়ে মহাসড়কের অন্যতম ব্যস্ত কালামপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বহু যাত্রীকে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। তারা কেউ কেউ দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করছেন। স্বল্প দূরত্বের কিছু বাস চললেও তাতে ভাড়া হাঁকানো হচ্ছে বেশি।
ব্যবসায়িক প্রয়োজনে নবীনগর যেতে কালামপুর বাসস্ট্যান্ডে এসে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন আবুল কালাম। তিনি বলেন, দেড় ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি, বাস নেই। এমনিতে ভাড়া ২০ টাকা। কিন্তু আজকে চাইছে ৫০ টাকা করে। বাসই নেই তেমন।
বাথুলি এলাকা থেকে সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য অপেক্ষারত সুমন হোসেন বলেন, রাস্তায় গাড়ি কম। অনেকক্ষণ পরপর বাস এলেও সেগুলোয় প্রচুর মানুষ। ওঠা যায় না। একটা ক্লাস মিস হয়ে গেছে।
উপজেলার বারবাড়িয়া, সুতিপাড়া, জয়পুরা ও ঢুলিভিটা এলাকায়ও অনেককে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, সকালে অফিস টাইমে কিছু বাস চলাচল করলেও পরে তা সীমিত করা হয়। মহাসড়কের অন্যতম প্রধান পরিবহন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শুভযাত্রা, নীলাচল বাস তেমন দেখা যায়নি। সেলফি বাসও চলাচল করছে সীমিত। তবে সেগুলোও ছিল যাত্রীতে পরিপূর্ণ। স্বল্প দূরত্বে চলাচলের জন্য মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল করতে দেখা যায়।
মানিকগঞ্জ জেলা নীলাচল পরিবহনের সড়ক ইনচার্জ দেবেন্দ্র চক্রবর্তী চন্ডি বলেন, গাড়ি আছে। কিছুটা কম। হরতালের কথা শুনে অনেকেই চালাচ্ছে না। হরতালের কথা শুনে অনেক মালিক ভয় পায়। তবে গাড়ি আছে, তবে আগের তুলনায় কম। যে কয়টা গাড়ি চলছে, সেগুলোতে প্রচুর যাত্রীর ভিড় আছে।
গোলড়া হাইওয়ে থানার ওসি সুখেন্দ্র বসু বলেন, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে এমনিতেই গাড়ি থাকে না, তার পরও আজকে হরতাল থাকায় স্বাভাবিকভাবেই কম থাকবে। গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক আছে, তবে হরতাল-অবরোধের কারণে গাড়ি কম থাকতে পারে।