Print Date & Time : 31 August 2025 Sunday 8:43 am

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে জোড়াতালি

শাহরিয়ার সিফাত, টাঙ্গাইল: ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ঈদযাত্রায় যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে সড়ক পরিবহন ও যোগাযোগমন্ত্রীর নির্দেশে ইতোমধ্যেই প্রায় শেষ হয়েছে খানখন্দ সংস্কারকাজ। জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে, আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে অধিক গুরুত্ব দিয়ে এবারের সংস্কারকাজ শেষ করা হয়েছে। আসন্ন ঈদে বাড়ি ফেরা যাত্রীদের রাস্তার কারণে কোনো ভোগান্তিতে পড়তে হবে না বলেও দাবি তাদের।

রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ২৩টি জেলার গাড়ি চলাচল করে এই মহাসড়কে। সাধারণত প্রতিদিন গড়ে ১৫ হাজার যানবাহন চলাচল করলেও ঈদে এর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়। ফলে প্রতি ঈদে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজটের। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে বিরক্তি চরমে পৌঁছায় যাত্রীরা। ব্যস্ততম এ মহাসড়কে যানবাহনের চাপে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হয় খানাখন্দের। সেইসঙ্গে প্রতি বছর ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুবাহী ট্রাকের চাপে ভোগান্তির সেই মাত্রা পৌঁছে যায় চরমে।

কয়েকদিনের বৃষ্টিতে মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশের এলেঙ্গা থেকে গোড়াই পর্যন্ত প্রায় ৪৬ কিলোমিটারের বিভিন্ন অংশে সৃষ্টি হয়েছিল বড় বড় খানাখন্দ। বৃষ্টিতে মহাসড়কের ধেরুয়া, গোড়াই, পাকুল্ল্যা, পৌলি, রসুলপুর, বিক্রমহাটী, রাবনা বাইপাস, তারুটিয়া, ঘারিন্দা রেলস্টেশনসহ বেশ কয়েকটি পয়েন্টে এইসব গর্তের কারণে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট, ঘটছে দুর্ঘটনা।

গত ৯ আগস্ট সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ১০ দিনের মধ্যে মহাসড়কে খানাখন্দ মেরামত করার নির্দেশ দেন। তারপরই মহাসড়কে জোরাতালির কাজ শুরু করে টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। তবে ১০ দিনের মধ্যে মেরামত কাজ শেষ করতে পারেনি সওজ। গত শনিবার মহাসড়কের এলেঙ্গা থেকে মির্জাপুরের গোড়াই পর্যন্ত সড়কে মেরামত কাজ শেষ হয়েছে। এলেঙ্গাতেও শেষ পর্যায়ে রয়েছে মেরামত কাজ।

গত শনিবার ঢাকা থেকে বগুড়াগামী রাইসুল নামে এক ট্রাকচালক জানান, একসময় রাস্তা খারাপ বলে এই মহাসড়কে যানজট হতো। কিন্তু গত কদিন এই মহাসড়কে যে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে তা মূলত রাস্তার জন্য নয়, কিছু চালকের গাফিলতির জন্য। আগে যাওয়ার প্রবণতা থেকে আমরা যখন ওভারটেক করি তখন বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ির সঙ্গে হয় দুর্ঘটনা ঘটে, আর নয়তো গতি কমিয়ে সাইড দিতে হয়। অনেক সময় সেখানে যানজট লেগে যায়, যা কমতে তিন-চার ঘণ্টাও বসে থাকতে হয়। দুই দিন ধরে তাই হচ্ছে।

সাজ্জাদ নামের অপর এক বাসচালক জানান, মহাসড়কে এখন প্রচুর গরুর ট্রাক চলাচল করছে। এসব ট্রাক লক্কড়ঝক্কড় হওয়ায় প্রায়ই নষ্ট হয়। তখনই যানজটের সৃষ্টি হয়।

মহাসড়কে চলাচলকারীরা জানান, গত বছরগুলোর তুলনায় এবার অনেকটাই ভালো মহাসড়কের হাল। তবে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও পশুবাহী ট্রাক বেড়ে যাওয়ায় এই সড়কে খানাখন্দের সৃষ্টি হচ্ছে। তাই ঈদের সময় বৃষ্টি হলে ভোগান্তির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কে এম নুরুল আলম জানান, মন্ত্রী নির্দেশ দিলেও প্রচুর বৃষ্টি থাকায় ১০ দিনের মধ্যে সড়ক মেরামত শেষ করা সম্ভব হয়নি। তবে এখন সেটা শেষ হয়েছে। ঈদের আগে মহাসড়কের চারলেনে উন্নীতকরণ কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে ফের বৃষ্টি হলে ও গাড়ির অধিক চাপে খানাখন্দের সৃষ্টি হলেও তারা তা তৎক্ষণাৎ মেরামত করবেন। সেজন্য ঈদের আগে ও পরের ১৫ দিন মহাসড়কে সওজের টিম থাকবে।

এদিকে যানজট নিরসনে গত ঈদের মতোই ব্যপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ। পুলিশ সুপার মাহবুব আলম জানান, মহাসড়কে যানজট নিরসনে এবার ঈদে ৭৫০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবেন। তাদের মধ্যে ৪৫টি মোবাইল পেট্রোল, ৪৫টি পিকেটসহ মোটরসাইকেল টিম থাকবে। ছয়টি সেক্টরে ভাগ করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপাররা তাদের তদরকি করবেন। এছাড়া মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশের পাশে মির্জাপুরের দেওহাটায় একটি গরুর হাট রয়েছে। এই গরুর হাটে আমাদের বিশেষ টিম থাকবে, যাতে মহাসড়কে এর কোনো প্রভাব না পড়ে।