শেয়ার বিজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন তাইওয়ানে ৫০০ মিলিয়ন (৫০ কোটি) ডলারের অস্ত্র সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। খবর: রয়টার্স।
চীনের বিরোধিতা সত্ত্বেও তাইওয়ানকে এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্টের বিশেষ ক্ষমতা বা পিডিএ প্রয়োগ করে জো বাইডেন তাইওয়ানের কাছে অস্ত্রের এ চালান পাঠাবেন।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ৩৫ বার পিডিএ প্রয়োগ করে প্রেসিডেন্ট বাইডেন ইউক্রেনকে কয়েকশ কোটি ডলারের অস্ত্র দিয়েছেন।
পিডিএ প্রয়োগ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই দেশের যেকোনো সম্পদ বিদেশি কোনো রাষ্ট্রকে দিতে পারেন। এর মাধ্যমেই প্রথমবারের মতো তাইওয়ানকে ৫০ কোটি ডলারের অস্ত্র সরবরাহ করতে ইউক্রেন পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে।
তাইওয়ানকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন একটি দ্বীপ হিসেবে বিবেচনা করে বেইজিং। এমনকি দ্বীপটিকে চীনের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে একত্রীকরণের ঘোষণা দেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় চীন তাইওয়ানের ওপর বেইজিংয়ের শাসন মেনে নিতে চাপ বাড়িয়েছে। তাইওয়ান চীনের এমন চাপের জবাবে জানিয়েছে, তারা শান্তি চায়, কিন্তু আক্রান্ত হলে জবাব অবশ্যই দেবে। তাইওয়ান সরকার নিজেদের স্বায়ত্তশাসিত একটি দ্বীপ হিসেবে দাবি করে আসছে। তারপরও ওয়াশিংটন তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। এবার তাদের অস্ত্র সাহায্য করতে চলেছে হোয়াইট হাউস। অন্যদিকে তাইওয়ানকে অস্ত্র সরবরাহের তীব্র বিরোধিতা করেছে চীন।
গত শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে চীনের বিরুদ্ধে উসকানি দিচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, মার্কিন সরকার তাইওয়ানকে একটি ‘বারুদের গুদামে’ পরিণত করছে বলে মন্তব্য করেছে বেইজিং।
গত বছরের আগস্টে মার্কিন কংগ্রেসের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইপে সফর ঘিরে চীন ও তাইওয়ানের উত্তেজনা মাত্রা ছাড়ায়। এ কারণে একের পর এক চীনা আকাশযান তাইওয়ানের আকাশসীমায় ঢুকেছে। ২০২২ সালে চীনের আকাশযান এক হাজার ৭২৭ বার তাইওয়ানের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করে। আগের বছর এ সংখ্যা ছিল ৯৬০, ২০২০ সালে যা ছিল ৩৮০।
গত বছর তাইওয়ানের আকাশসীমায় এক হাজার ২৪১টি চীনা যুদ্ধবিমান অনুপ্রবেশ করেছিল। এর মধ্যে পারমাণবিক বোমা বহনে সক্ষম এইচ-৬ যুদ্ধবিমানও ছিল। ২০২১ সালে এ সংখ্যা ছিল ৫৩৮টি।