শেয়ার বিজ ডেস্ক: কভিডকালে ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম বাহন হয়ে উঠেছে ডিজিটাল প্রযুক্তি। এ ডিজিটাল যন্ত্রের বাহক হলো চিপ বা মাইক্রোচিপ। আর এ মাইক্রোচিপ তৈরির অন্যতম বাজার তাইওয়ান। চীনের বেশ কিছু প্রযুক্তি কোম্পানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় তাইওয়ানের চিপ জায়ান্টগুলোর কদর আরও বেড়ে গেছে। ফলে চীনের আধা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটির চিপনির্মাতা কোম্পানিগুলো কর্মী সংকটে ভুগছে। এ অবস্থায় এ খাতে যাদের ডক্টরেট ডিগ্রি আছে তাদের ক্ষেত্রে অপার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে দেশটির চাকরির বাজারে। কোম্পানিগুলোও কর্মীদের বেতন বাড়িয়ে দিয়েছে। খবর: নিক্কেই এশিয়া, রয়টার্স।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত দুই বছরের কভিডের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে চিপনির্মাতা কোম্পানিগুলো উম্মাদ হয়ে দক্ষ কর্মী খুঁজছে। কভিডের কারণে চিপ উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী এর মারাত্মক প্রভাব পড়ে। চিপ জায়ান্টগুলো চাইছে, চলতি ২০২২ সালের শেষ নাগাদ চিপ উৎপাদন আগের অবস্থায় নিয়ে আসতে। এছাড়া বিশ্বজুড়ে চিপ সরবরাহ বাড়াতে চায় তারা। ফলে উন্নত চিপ মেকিংয়ের কেন্দ্র তাইওয়ানের চেয়ে বেশি চাপ আর কোথাও নেই। তাই প্রকৌশলীদের পাশাপাশি যারা স্নাতক পাস তাদেরও কদর বাড়ছে সেখানে।
মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞ, শিল্পনির্বাহী এবং এমনকি সরকারি কর্মকর্তারা একমত যে, বর্তমানে চিপশিল্প খাতে প্রতিভার ঘাটতি তাদের দেখা সবচেয়ে গুরুতর পরিস্থিতি। এ সংকট দিনকে দিন আরও ঘনীভূত হচ্ছে। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বের শীর্ষ মোবাইল চিপ কোম্পানি মিডিয়াটেকের চেয়ারম্যান টিসাই মিং-কায় বলেন, উচ্চমানের চিপ তৈরিতে প্রতিভার ঘাটতি ভবিষ্যতে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের সামগ্রিক বিকাশের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।
তাইওয়ান ইনস্টিটিউট অব ইকোনমিকস রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, তাইওয়ানের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে গত বছরের শেষ পর্যন্ত ২৩ দশমিক চার মিলিয়ন জনসংখ্যার মধ্যে দুই লাখ ৯০ হাজার জনের কাজের সুযোগ হয়েছে। মাত্র দুই বছর আগে ২০১৯ সালে সেখানে কাজ করত দুই লাখ ২৫ হাজার মানুষ।
তাইওয়ানের সবচেয়ে বড় দুই চিপনির্মাতা প্রতিষ্ঠান তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি (টিএমএসসি) এবং মিডিয়াটেক চলতি বছর ১০ হাজারের বেশি কর্মী নিয়োগ দেবে, যাদের মধ্যে অগ্রাধিকার পাবেন তাইওয়ানের তরুণরা।
বিশ্বের চতুর্থ চিপনির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড মাইক্রোইলেকট্রনিকস জানিয়েছে, চলতি বছর দ্বীপটির এক হাজার ৫০০ জনকে নিয়োগ দেবে তারা। ইউরোপের বৃহত্তম চিপমেকিং সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক এএসএমএল বলেছে, বিশ্বব্যাপী অতিরিক্ত চার হাজার জনের মধ্যে তাইওয়ান এক হাজার কর্মী নেবে।
তাইওয়ানে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের চিপনির্মাতা মাইক্রোন, ইন্টেল, কোয়ালকম, এনভিডিয়া এবং এএমডি, নোভেটেক, রিয়েলটেক এবং ফিসন ইলেকট্রনিকসের মতো শীর্ষ চিপনির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের দুই হাজারের বেশি চাকরির জন্য বিজ্ঞপ্তি রয়েছে লিংকড ইনসহ স্থানীয় নিয়োগ প্ল্যাটফর্মে।
দেশটির বৃহত্তম স্থানীয় নিয়োগ প্ল্যাটফর্মের সমীক্ষা অনুসারে, চিপশিল্পের পদের জন্য মোট শূন্যপদের সংখ্যা গত বছর ডিসেম্বরে ৩৪ হাজারে পৌঁছেছে, যা দুই বছর আগের তুলনায় ৭৭ শতাংশ বেশি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে প্রতিভার জন্য এত ক্ষুধা তারা কখনও দেখেননি।
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং ওয়েনের প্রশাসন আগামী ১০ বছরে চিপশিল্পকে সমৃদ্ধ করতে শিক্ষা খাতে ৩০০ মিলিয়ন ডলার খরচ করার উদ্যোগ নিয়েছে। শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অধীনে চারটি সেমিকন্ডাক্টর গ্র্যাজুয়েট স্কুল খোলারও কথা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকায় আলিবাবা টেনসেন্ট: এদিকে চীনের টেনসেন্ট হোল্ডিংস লিমিটেড এবং আলিবাবা গ্রুপ হোল্ডিং লিমিটেডের নাম যোগ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সর্বশেষ ‘কুখ্যাত বাজার’ তালিকায়।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির অফিস বলছে, তারা ৪২টি অনলাইন বাজার এবং ৩৫টি অফলাইন বাজার চিহ্নিত করেছেন, যেগুলো ট্রেডমার্ক জালিয়াতি বা কপিরাইট পাইরেসির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। চীনভিত্তিক অনলাইন বাজার বাইডু ওয়াংপান, ডিএইচগেট, পিনডুওডুও এবং টাওবাও এ তালিকায় আগে থেকেই রয়েছে।
এ তালিকাভুক্তির পরপরই বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি সুরক্ষায় নিজের গোটা প্ল্যাটফর্মে সরকারি সংস্থার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছে আলিবাবা। টেনসেন্ট জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে একেবারেই একমত নয়, তবে এ বিষয়টি সমাধানের জন্য কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।