শেয়ার বিজ ডেস্ক : মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙেছে দেশের কয়েক জেলায়। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপদাহে হাঁসফাঁস অবস্থা এসব জেলার মানুষের। গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল চুয়াডাঙ্গায় ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর পরের অবস্থানে ছিল রাজশাহীতে ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া গতকাল বগুড়ায় ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি, কুষ্টিয়ায় ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও রাজধানীতে ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে। দিনের তীব্র তাপদাহের সঙ্গে রাতেও গরমের তীব্রতায় ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টসহ বেড়েছে বিভিন্ন রোগের প্রকোপ। এতে হাসপাতালে বৃদ্ধি পাচ্ছে রোগীর সংখ্যা।
প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য নিয়ে প্রতিবেদন-
জানা গেছে, গরমের ক্ষিপ্রতায় পুড়ছে চুয়াডাঙ্গা, তীব্র তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে জনজীবন। একদিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা বেড়েছে শূন্য দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তীব্র তাপপ্রবাহে শ্রমিক, দিনমজুর, রিকশা-ভ্যানচালকরা অস্থির হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে কৃষক ও খেটে খাওয়া মানুষ। শহরের কোর্টরোড-বড়বাজার সড়কে পিচ গলে যেতে দেখা গেছে।
গতকাল শনিবার বিকাল ৩টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা আর্দ্রতা ছিল ১৬ শতাংশ; যা চলতি মৌসুমে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।
আগামী ১৫ তারিখ পর্যন্ত তাপপ্রবাহ থাকতে পারে বলে জানিয়ে চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান বলেন, আগামী সোমবার থেকে তাপমাত্রা একটু কমতে পারে। এছাড়া ১৫ মে পর্যন্ত তাপপ্রবাহ চলমান থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে বৃষ্টির কোনো আভাস নেই।
চুয়াডাঙ্গা সড়ক বিভাগের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী (সওজ) মুহাম্মদ মনজুরুল করিম বলেন, বিভিন্ন স্থানে পিচ গলে যাচ্ছে বলে জেনেছি। সেখানে আমরা বালু ছিটিয়ে দিচ্ছি। এতে যান চলাচলে সামান্য বিঘ্ন ঘটতে পারে। আমরা সব সময় তদারকি করছি যেন কোনো সমস্যা না ঘটে।
চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ বলেন, তীব্র তাপপ্রবাহে বয়স্কদের হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে সবচেয়ে বেশি। ৩৮ ডিগ্রি তাপমাত্রা পার হলেই ঝুঁকি থাকে। এ জন্য অতি প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া বাইরে না বের না হওয়া উত্তম।
এদিকে, রাজশাহীতে তাপমাত্রা ৪১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে, যা চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ। গতকাল রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৬২ শতাংশ, যা গরমের অনুভূতিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এই তাপপ্রবাহের কারণে জনজীবনে দেখা দিয়েছে চরম অস্বস্তি।
চলমান এই তাপপ্রবাহে বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও শ্রমজীবী মানুষদের দুর্ভোগ বেড়েছে। চিকিৎসকরা এ সময় হাইড্রেটেড থাকতে ও প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যেতে পরামর্শ দিচ্ছেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন রাজশাহী অঞ্চলে তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। তবে ১২ মে’র পর থেকে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপদাহে হাঁসফাঁস অবস্থা মানুষের।
অন্যদিকে, কুষ্টিয়ায় তাপদাহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে গরমের ক্ষিপ্রতা। ভ্যাপসা গরমে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। দিনের বেলায় তীব্র তাপদাহের সঙ্গে রাতেও গরমের তীব্রতা থাকছে। এতে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টসহ বেড়েছে বিভিন্ন রোগের প্রকোপ। ফলে হাসপাতালে বৃদ্ধি পাচ্ছে রোগীর সংখ্যা।
কুষ্টিয়া আবহাওয়া অফিস জানায়, গতকাল শনিবার বিকালে জেলার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড। এর আগে শুক্রবার কুষ্টিয়া জেলার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯ দশমিক ডিগ্রি ৫ সেলসিয়াস। আগামী ৭২ ঘণ্টায় বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই।
কুমারখালী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুন আর রশিদ বলেন, শনিবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত কুষ্টিয়া জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড। এর আগে শুক্রবার কুষ্টিয়া জেলার একই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
কুষ্টিয়া জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডাক্তার হোসেন ঈমাম জানান, ‘তীব্র তাপদাহ এবং ভ্যাপসা গরমের কারণে রোগীরা নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসছেন। এর মধ্যে শিশু রোগীর সংখ্যা বেশি। এ ধরনের গরমে মানুষের সমস্যা হওয়া স্বাভাবিক, তবে কিছু নিয়ম মেনে চললে নিরাপদ থাকা যায়। বাইরে বের হলে, রোদে গেলে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। রোদে ছাতা, ক্যাপ ব্যবহার করতে হবে।’
এছাড়া, বগুড়ায় একদিনের ব্যবধানে মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙেছে। গতকাল বেলা ৩টায় জেলায় ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এর আগের দিন শুক্রবার জেলায় ৩৯ ডিগ্রি তাপমাত্রার রেকর্ড করা হয়।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন বগুড়া আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক শাহ আলম। তিনি জানান, বগুড়ায় গরমের মাত্রা বেড়েই চলছে। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙেছে। আজ জেলায় ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে; যা এই মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড। এর আগের দিন জেলায় ৩৯ ডিগ্রি তাপমাত্রার রেকর্ড করা হয়েছিল।
এদিকে প্রচণ্ড গরমে নাকাল বগুড়ার সাধারণ মানুষের জনজীবন। শ্রমজীবী মানুষ রয়েছে চরম ভোগান্তিতে। প্রখর রোদ উপেক্ষা করে যাত্রী বয়ে নিয়ে যাচ্ছে রিকশাচালকরা। যাত্রাপথে ছাতা মাথায় দিয়ে তাপ থেকে বাঁচার চেষ্টা করছেন অনেকেই। স্বস্তি পেতে শ্রমজীবী মানুষ রাস্তার পাশে জিরিয়ে নিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ হাতমুখে পানি দিয়ে ঠাণ্ডা হওয়ার চেষ্টা করছেন। আর শিশু-কিশোররা গরম থেকে রেহাই পেতে মাতছে জলকেলিতে।
