Print Date & Time : 29 August 2025 Friday 9:42 pm

দাপুটে অবস্থানে আর্থিক খাতের শেয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে কিছুদিন ধরেই বাড়ছে আর্থিক খাতের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর। দর বাড়ায় বিনিয়োগকারীরাও ঝুঁকছেন এ খাতের শেয়ারের প্রতি। এ কারণে দাপুটে অবস্থানে আছে আর্থিক খাতের শেয়ার।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাংক ও আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোতে এখন লভ্যাংশ ঘোষণার মৌসুম চলছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর লভ্যাংশের হারও অন্যান্য খাতের চেয়ে ভালো। এ সময় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও এ খাতের শেয়ারে বিনিয়োগ করেন। এ কারণে স্বল্পমেয়াদি মুনাফার লক্ষ্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে বিনিয়োগ করছেন অনেকেই।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবু আহমেদ শেয়ার বিজকে বলেন, ‘নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশের ঘোষণার সময় চলছে। তা সামনে রেখে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের এসব কোম্পানির শেয়ার কেনাবেচা করছে।’

তিনি বলেন, ‘আর্থিক খাতের বেশ ভালো কিছু কোম্পানি বাজারে তালিকাভুক্ত আছে। অন্যান্য দুর্বল কোম্পানির মতো এসব কোম্পানির শেয়ারে কারসাজি হওয়ার আশঙ্কা কম।’

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক রকিবুর রহমান শেয়ার বিজকে বলেন, ‘নন-ব্যাংক আর্থিক খাতের বেশিরভাগ কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন অনুযায়ী পারফরম্যান্স ভালো। আর যাদের পারফরম্যান্স ভালো সেগুলোর দর বাড়ছে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’

আর্থিক খাতের কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারদর পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহের রোববার আইডিএলসি ফাইন্যান্সের শেয়ারদর ছিল ৬৮ টাকা, পরবর্তী সময়ে তা বেড়ে ৬৯ দশমিক ৮০ টাকায় বেচাকেনা হয়েছে। কোম্পানিটি গত ২০১৫ সালের সমাপ্ত হিসাববছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল। যার প্রকৃত লভ্যাংশের হার দাঁড়িয়েছে তিন দমশিক ৯৩ শতাংশ।

লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের শেয়ারদর চলতি মাসের প্রথম দিন ছিল ৬২ টাকা ৫০ পয়সা, যা বেড়ে সর্বোচ্চ ৬৭ টাকা ৪০ পয়সায় বেচাকেনা হয়েছে। যদিও গতকাল রেকর্ড ডেটের পর প্রথম লেনদেনের দিন মুনাফা সমন্বয়ের পরেও দর বেড়েছে। কোম্পানিটি গত বছর বিনিয়োগকারীদের জন্য ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল। যার লভ্যাংশের প্রকৃত হার দাঁড়িয়েছে পাঁচ দশমিক ১৭ শতাংশ।

গত সপ্তাহের শুরুতে উত্তরা ফাইন্যান্সের শেয়ারদর ছিল ৬৭ টাকা ৭০ পয়সা, যা গতকাল রোববার কোম্পানির শেয়ার ৭১ টাকা ২০ পয়সায় বেচাকেনা হয়েছে। কোম্পানিটি ২০১৫ সালের সমাপ্ত বছরে বিনিয়োগকারীদের ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ দেয়। যার লভ্যাংশের প্রকৃত হার দাঁড়ায় চার দশমিক ৯৩ শতাংশ।

এদিকে জিএসপি ফাইন্যান্সের শেয়ারদর গত ২২ ফেব্রুয়ারি ছিল ২৭ টাকা ৫০ পয়সা। এরপর থেকে বেশিরভাগ সময়ই কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ছে। কোম্পানির শেয়ারদর গতকাল ৩৬ টাকা ৩০ পয়সায় বেচাকেনা হয়েছে। গত বছর কোম্পানির লভ্যাংশের পরিমাণ ছিল সাড়ে ১৫ শতাংশ। যার প্রকৃত লভ্যাংশ হার দাঁড়ায় ১০ দশমিক ৩৩ শতাংশ। একই চিত্র ফনিক্স ফাইন্যান্সের শেয়ারদরে। কোম্পানিটির শেয়ারদর ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে বেশ কিছুদিন বেড়ে সর্বোচ্চ ৩৬ টাকা ৮০ পয়সায় বেচাকেনা হয়েছে। কয়েকদিন দর কমার পর আবার তা বাড়তে থাকে। গতকাল কোম্পানির শেয়ারদর ৩৪ টাকা ৯০ পয়সায় বেচাকেনা হয়েছে। কোম্পানিটি গত বছর বিনিয়োগকারীদের জন্য ২০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল। যার প্রকৃত লভ্যাংশের হার দাঁড়িয়েছে নয় দশমিক ৫৭ শতাংশ।

ফারইস্ট ফাইন্যান্সের শেয়ারদর গত ৫ মার্চ ছিল ১৩ টাকা ৪০ পয়সা। কোম্পানির শেয়ারদর টানা বেড়ে গতকাল ১৫ টাকা ২০ পয়সায় বেচাকেনা হয়েছে। কোম্পানিটি গত বছর বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল। যার প্রকৃত লভ্যাংশের হার দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ১০ পয়সা।

বে-লিজিং লিমিটেডের শেয়ারদর গত ২২ ফেব্রুয়ারি ছিল ২৬ টাকা ৮০ পয়সা। গতকাল কোম্পানির শেয়ারদর ৩১ টাকা ৯০ পয়সায় বেচাকেনা হয়েছে। গত বছর কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য ১৫ শতাংশ। যার প্রকৃত লভ্যাংশের হার দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

রয়েল সিকিউরিটিজ হাউজে ট্রেড করেন বিনিয়োগকারী ইমরান হোসেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর লভ্যাংশের সময়। তাই আমি এ খাতের কয়েকটি কোম্পানির শেয়ার কিনেছি। কয়েকদিনে বেশ মুনাফা হয়েছে। বেশ কিছুদিন ধারণ করা লংকাবাংলার শেয়ার গত বৃহস্পতিবার বিক্রি করে দিয়েছি, এতে কিছুটা মুনাফা হাতে পেয়েছি। এসব শেয়ারে যেমন কম সময়ে মুনাফা লাভ করা যায়, তেমনি লভ্যাংশও পাওয়া যাবে বলে কেনাবেচা করি।’