দিনব্যাপী ‘অধ্যায়’ এর বৈচিত্র্যময় পিঠা উৎসব উৎযাপন

প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার : পিঠা শুধু লোকজ খাদ্য নয়, এটা বাংলা ও বাঙালির লোকজ ঐতিহ্য। বলতে গেলে বাঙালির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ পিঠা। তবে, আধুনিকতার ছোঁয়ায় পারিবারিক ও সমাজ জীবন থেকে পিঠা তৈরির প্রচলন হ্রাস পাচ্ছে। তাই বাঙালির ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করতে দ্বিতীয়বারের মতো মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শীতকালীন পিঠা উৎসবের আয়োজন করে ‘অধ্যায়’ নামের একটি সংগঠন।

শুক্রবার (১০ ফেব্রুয়ারি) শহরের জেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী পিঠা উৎসবের উদ্বোধন করেন মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খোদেজা খাতুন। এসময় উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নারী ভাইস চেয়ারম্যান মিতালি দত্ত, বালাগঞ্জ কলেজের সহকারী অধ্যাপক ছড়াকার অবিনাশ আচার্য, লেখক ও ছড়াকার সজল দাস, শাহ আরিফ আলী নাসিম প্রমূখ। সন্ধ্যার পর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য ড. মো. আব্দুস শহীদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সুলতান মোহাম্মদ ইদ্রিস লেদু।

এবারের অধ্যায়ের পিঠা উৎসবটি উৎসর্গ করা হয়েছে শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত রনধীর কুমার দেব, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব প্রয়াত আবু সিদ্দিক মুসা, মলয় রায় ভানু, মৌসুমী নাগ মৌকে। এঁরা অধ্যায়ের পূর্বের অনুষ্টানগুলোতে উপস্থিত ছিলেন। এসময় আমন্ত্রিত অতিথিরা বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। শীতকালীন পিঠা উৎসবে অন্তত ১০টি স্টল বসানো হয়। এ সব স্টলে রকমারি পিঠার পসরা সাজিয়ে রাখা হয়। উদ্বোধনের পর থেকে প্রতিটি স্টলেই ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়। দেশীয় সংস্কৃতিকে ধারণ করা এই পিঠা উৎসবে এসে তারা বিভিন্ন স্বাদের পিঠা উপভোগ করেন। পিঠার স্বাদ উপভোগের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনও করা হয়।

অধ্যায় সংগঠনের সদস্য প্রজ্ঞা পারমিতা চৌধুরী বলেন, ‘দ্বিতীয়বারের মতো অধ্যায়ের পিঠা উৎসব হচ্ছে। শ্রীমঙ্গলের মতো শহরে পিঠা উৎসব হওয়া এটা অনেক বড় ব্যাপার। আমরা সবাই খুবই আনন্দিত, পরিবারের সবাই এই আনন্দে অংশগ্রহণ ও উপভোগ করছেন। পিঠা উৎসবে অনেক দর্শক সমাগম ঘটেছে। শুধু পিঠা উৎসবই নয় তার পাশাপাশি দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হচ্ছে। দর্শকরা আনন্দের সহিত উদযাপন করছেন।’

পিঠা উৎসবে আসা নারায়ন দেব রায় বলেন, ‘পিঠাপুলি আমাদের গ্রাম বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য। আধুনিক যান্ত্রিক যুগে এসে পিঠার ঐতিহ্য ক্রমশ ম্লান হয়ে আসছে। পিঠা উৎসবের মতো দেশীয় সংস্কৃতি চর্চায় অংশ নিয়ে ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে।’

অধ্যায় সংগঠনের আহ্বায়ক ভূপেন সেন বলেন, ‘ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশ, ষড়ঋতুর শীতকালে প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে পিঠা উৎসব। এই পিঠা উৎসবকে কেন্দ্র করে আমরা দ্বিতীয়বারের মতো এবারও আয়োজন করেছি পিঠা উৎসব। যদিও আমরা অধ্যায় পিঠা উৎসব ২০২০ সাল থেকে শুরু, কিন্তু করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘ দুইবছর আমরা পিঠা উৎসব আয়োজন করতে পারিনি। এবারের আয়োজন অনেক কষ্টসাধ্য ছিল। তারপরও আমরা সাধ্যমতে চেষ্টা করেছি এবারের আয়োজনটা আপনাদের সামনে তুলে ধরতে। আগামীতে আরো ভালো করে বড় পরিসরে এই পিঠা উৎসবে উৎযাপন করা হবে।’