নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি অর্থবছরে প্রথম দুই মাসে অর্থাৎ জুলাই-আগস্ট মাসে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তিন হাজার ৮৩৭ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। গত অর্থবছরে একই সময়ে এ ঋণ বিতরণের পরিমাণ ছিল দুই হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে কৃষিতে এক হাজার ১৬৩ কোটি টাকা বা ৪৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। কভিড মহামারি এবং সাম্প্রতিক বিশ্ব পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে কৃষির গুরুত্ব অধিকভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে। তাই কৃষি খাতে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের মাধ্যমে সহায়তা করতে বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে। এজন্য নতুন অর্থবছরে কৃষিঋণের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। আর নতুন অর্থবছরে প্রথম দুই মাসে ঋণ বিতরণ অনেক ভালো। আগামীতে আরও বাড়বে এ খাতে বিতরণ।
জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে কৃষি খাতে ব্যাংকগুলোর ৩০ হাজার ৯১১ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। গত অর্থবছর ব্যাংক খাতে ২৮ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। গত অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেশি এবার ঋণ বিতরণ করবে ব্যাংকগুলো।
তথ্য বলছে, চলতি বছরে প্রথম মাস জুলাইতে কৃষি খাতে বিতরণ করা হয়েছে এক হাজার ৬৬৪ কোটি টাকা। আর সবশেষ আগস্ট মাসে দুই হাজার ১৭৩ কোটি টাকার ঋণ পায় কৃষক।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে রাষ্ট্রায়ত্ত আটটি ব্যাংকে কৃষি খাতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ হাজার ৭৫৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রথম দুই মাসে লক্ষ্যমাত্রার ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ বিতরণ করা হয়েছে। আর বেসরকারি ৪১টি ব্যাংকের কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৯ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা। আলোচিত সময়ে এসব ব্যাংক ঋণ বিতরণ করেছে ১৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের দুই মাসে চার হাজার ১২৩ কোটি টাকার ঋণ শোধ করেছেন কৃষকরা। গত বছরের একই সময়ের চেয়ে আদায় বেড়েছে ৭৫৪ কোটি টাকা। গত বছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে আদায় করা হয়েছে তিন হাজার ৩৬৯ কোটি টাকা।
বর্তমানে ব্যাংক খাতে কৃষিঋণের স্থিতি বা পরিমাণ ৫০ হাজার ২৩৫ কোটি টাকা। যার মধ্যে আগস্ট পর্যন্ত কৃষি খাতে খেলাপি ঋণ চার হাজার ৪৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৮ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ।
কৃষিঋণের মধ্যে দুই ভাগে অর্থাৎ শস্য ও নন-ফার্ম (যেমন: গবাদিপশু ও মৎস্য খামার) খাতে ঋণ দেয়া হয়। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে শস্যে তিন হাজার ২৪১ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া নন-ফার্মে ৫৯২ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।