নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: ২৩৪ কোটি টাকা ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করায় ইস্পাত খাতের প্রতিষ্ঠান শীতলপুর অটো রি-রোলিং মিলস লিমিটেডের বিরুদ্ধে অর্থঋণ আদালতে মামলা করে ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড। এ মামলায় আদালত গত ১৫ মে এক আদেশে প্রতিষ্ঠানের মালিকদের দেশ ত্যাগের নিষেধাজ্ঞা দেন। এরপর গতকাল দেশত্যাগ নিষেধাজ্ঞা কাটাতে পাঁচ কোটি টাকা জমা করে এ প্রতিষ্ঠানটি।
অর্থঋণ আদালত ও ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের শীতলপুর এলাকায় অবস্থিত ইস্পাত খাতের প্রতিষ্ঠান শীতলপুর অটো রি-রোলিং মিলস লিমিটেড। ৩০ বছর আগে সীতাকুণ্ডের শীতলপুরে শীতলপুর অটো রি-রোলিং মিলস লিমিটেডের বাণিজ্যক উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির মালিকানায় চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন জসিম উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নাজিম উদ্দিন এবং পরিচালক পদে রয়েছে জানে আলম, মোহাম্মদ হোসাইন ও মাহবুবুল আলম। প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা তিন লাখ টন। যদিও উৎপাদিত হতো ৫০ হাজার টনের মতো। প্রতিষ্ঠানটি বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনায় অন্যান্য ব্যাংকের মতো ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড থেকে ঋণ সুবিধা নেয়। করোনারকাল থেকে নানা অজুহাতে ঋণ পরিশোধে গড়িমসি করা শুরু করে। এর মধ্যে বেশ কয়েক কিস্তি পরিশাধে ব্যর্থও হয়। আর এক বছর ধরে নিয়মিত ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হয়। ফলে গত ১১ এপ্রিল শীতলপুর অটো রি-রোলিং মিলস ব্যাংকটির আগ্রাবাদ শাখায় ২৩৪ কোটি ৫৪ লাখ ৭৬ হাজার ৭২৭ টাকা ঋণখেলাপি হয়ে পড়ে। এ ঋণের বিপরীতে সীতাকুণ্ডে ১১৫ ডেসিমেল, শীতলপুরের ৪৪ ডেসিমেল ও চট্টগ্রাম শহরের উত্তর কাট্টলিতে ৩৮ দশমিক ৫০ ডেসিমেল জমি বন্ধকি আছে। এসব বন্ধকি সম্পত্তি ব্যাংক নিলামে বিক্রির চেষ্টা করে। কিন্তু আগ্রহী ক্রেতা ও প্রতিষ্ঠান নিলামে অংশগ্রহণ না করায় বিক্রি হয়নি। পরে চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতে গত ১১ এপ্রিল মামলা করা হয়, যার মামলা নং ১৮৮/২৩। এ মামলায় আদালত গত ১৫ মে এক আদেশে প্রতিষ্ঠানের মালিকদের দেশ ত্যাগের নিষেধাজ্ঞা দেন। এরপর গতকাল দেশত্যাগ নিষেধাজ্ঞা কাটাতে প্রতিষ্ঠানটি পাঁচ কোটি টাকা প্রদান করে।
ব্যাংক ও ইস্পাত সংশ্লিষ্টরা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে শীতলপুর অটো রি-রোলিং মিলস লিমিটেডের রড বিক্রি অনেকাংশ কমেছে। যদিও কয়েক বছর আগে জিপিএইচ ইস্পাতের অধীনে রড বানাত। প্রতিষ্ঠানটির সম্প্রসারিত প্রকল্প উৎপাদনে আসার পর রড বানানো বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বর্তমানে উৎপাদন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম সীমিত আকারে চলছে। এতে বিভিন্ন ব্যাংকের বিনিয়োগ ঝুঁকিতে আছে, যা নিয়ে বেশ চিন্তিত ইস্পাত কারখানাটির সঙ্গে লেনদেন থাকা ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তারা।
সাম্প্রতিক সময়ে আলাপকালে খেলাপি ঋণের বিষয়ে শীতলপুর অটো রি-রোলিং মিলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন শেয়ার বিজকে বলেন, ওয়ান ব্যাংকের ঋণ নিয়মিত করার জন্য আমরা আলোচনা করেছি। এরই মধ্যে আমরা ঋণ পুণঃতফসিল করার জন্য প্রস্তাব দিয়েছি। আমরা ঋণখেলাপি তালিকা থেকে বের হয়ে আসার জন্য চেষ্টা করছি। যদিও এলসি জটিলতায় কাঁচামাল সংকটে জন্য বিক্রিও কমেছে।
অপরদিকে ওয়ান ব্যাংক লিমিটেডের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, ইস্পাত খাতের প্রতিষ্ঠান শীতলপুর অটো রি-রোলিং মিলস লিমিটেড বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনায় আমাদের আগ্রাবাদ শাখা থেকে ঋণ সুবিধা নেয়। করোনারকাল থেকে নানা অজুহাতে ঋণ পরিশোধে গড়িমসি করা শুরু করে। আর এক বছর ধরে নিয়মিত ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হয়। ফলে গত এপ্রিলে শীতলপুর অটো রি-রোলিং মিলস ২৩৪ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ আদায়ে অর্থঋণ আদালতে মামলা করি। এ মামলা চলমান আছে। এরই মধ্যে তারা ঋণ রি-শিডিউলের জন্য আবেদন করেছে। কিছু পেমেন্ট দিয়েছে। আশা করছি হয়তো আরও ভালো করবে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতের বেঞ্চ সহকারী রেজাউল করিম শেয়ার বিজকে বলেন, শীতলপুর অটো রি-রোলিং মিলস লিমিটেডে ওয়ান ব্যাংক লিমিটেডের আগ্রাবাদ শাখায় খেলাপি ছিল। তাদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২৩৪ কোটিরও বেশি। আর খেলাপি পাওনা আদায়ে চলতি বছরের এপ্রিলে অর্থঋণ আদালতে মামলা করা হয়েছিল। এ মামলায় আদালত গত ১৫ মে এক আদেশে প্রতিষ্ঠানের মালিকদের দেশ ত্যাগের নিষেধাজ্ঞা দেন। এরপর গতকাল দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা কাটাতে পাঁচ কোটি টাকা জমা করে। পাশাপাশি ঋণটি পুনঃতফসিল করার জন্য প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।