শেয়ার বিজ ডেস্ক: দেশীয় চিপনির্মাতা প্রতিষ্ঠাগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে নতুন একটি আইন করতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এ আইনের বিল পাস হলে যুক্তরাষ্ট্রের সেমিকন্ডাক্টর তথা চিপশিল্প বাড়তি সুবিধা পাবে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, আগামী মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট বাইডেন এ বিলে স্বাক্ষর করবেন। সেমিকন্ডাক্টর বাজারে চীনের বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রকে শক্ত প্রতিযোগী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতেই এ পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়। খবর: রয়টার্স।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বৈদ্যুতিক গাড়ি থেকে শুরু করে সমরাস্ত্র, ওয়াশিং মেশিন ও ভিডিও গেমসহ বাজারের প্রায় সব ইলেকট্রনিক পণ্যে বহুল ব্যবহƒত সেমিকন্ডাক্টর চিপের ঘাটতি মেটানোর লক্ষ্য নিয়েই নতুন আইন করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার, যাতে প্রেসিডেন্ট বাইডেন মঙ্গলবার স্বাক্ষর করবেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প খাতের নীতিমালার বিবেচনায় নতুন আইনটি একটি বড় পদক্ষেপ হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। যুক্তরাষ্ট্রে সেমিকন্ডাক্টর নিয়ে গবেষণা এবং উৎপাদনের জন্য পাঁচ হাজার ২০০ কোটি ডলারের তহবিল বরাদ্দ রাখা হয়েছে নতুন আইনে। এ ছাড়াও চিপ উৎপাদন খাতে বিনিয়োগের ওপর কর ছাড়ের সুযোগ থাকছে এতে। আইনের বিষয়ে মন্তব্য করে বাইডেন বলেন, বিলটি যুক্তরাষ্ট্রে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের চেষ্টা আরও শক্তিশালী করবে।
নতুন আইনের অধীনে চীনের বিপরীতে শক্ত অবস্থানে পৌঁছাতে আগামী ১০ বছরের জন্য বৈজ্ঞানিক গবেষণা খাতে ২০ হাজার কোটি ডলার বরাদ্দের খবর জানিয়েছে রয়টার্স। কংগ্রেস পরে তহবিলের জোগান দিতে প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো নির্মাণ করবে বলে উঠে এসেছে ওই প্রতিবেদনে।
অন্যদিকে নতুন আইনটির বিরোধিতা করেছে চীন। ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনের দূতাবাস ‘কঠোরভাবে’ বিলের বিরোধিতা করে উদ্যোগটি ‘শীতল যুদ্ধের মানসিকতা’ বলে মনে করিয়ে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রতিনিধিদের অনেকেই ব্যক্তিমালিকানাধীন খাতে সরকারি ভর্তুকির বিরোধিতা করলেও চীন ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন যে স্থানীয় চিপনির্মাতাদের নানাভাবে পুরস্কৃত করছে, সে বিষয়ে অবগত আছেন। অন্যদিকে চীনের প্রযুক্তিকে জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করছেন দেশটির জনপ্রতিনিধিরা; মহামারির প্রভাবে নাজুক সরবরাহ ব্যবস্থাও এ খাতে স্বনির্ভরতার গুরুত্ব তুলে ধরেছে তাদের কাছে।
গতকাল শুক্রবার দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন খাতে সরকারি ভর্তুকির আকার সীমিত করে আনা হবে এবং উৎপাদক কোম্পানিগুলোকে সরকারি তহবিল ব্যবহার করে বাড়তি সুবিধা নিতে দেয়া হবে না।