নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের উন্নয়ন ও জিডিপিতে আমাদের (মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়) ভূমিকা অপরিসীম বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।
শনিবার (২৭ মে) রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ এনিমেল হাজবেন্ড্রি অ্যাসোসিয়েশনের ১১তম দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও সেমিনারে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী বলেন, কৃষির উন্নয়ন না হলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ সরকার কৃষির প্রতি গুরুত্ব দেয়ায় দেশের জিডিপি বেড়েছে। দেশের উন্নয়ন হয়েছে। দেশকে এগিয়ে নিতে কৃষি ও প্রাণিসম্পদের ভূমিকা অপরিসীম।
দেশের মূল প্রাণিজ আমিষের ঘাটতি কিন্তু আমাদের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সেক্টর থেকেই আসে মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে অপরিহার্য ভূমিকার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখতেও সাহায্য করে মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।
তিনি বলেন, বেকারত্ব দূর হওয়া, খাবারের জোগান দেয়া, মাছ ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বিদেশে রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও এ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা অসীম।
রেজাউল করিম বলেন, আমাদের ফিশারিজ সেক্টরে কিছু প্রতিবন্ধকতা আছে। আমরা সেটি দূর করার চেষ্টা করছি। একটা সময় এই সেক্টরে কাদা ছোড়াছুড়ি অনেক বেশি ছিল। এখন অনেকাংশে কমে এসেছে। আমরা সবাই মিলে কাজ করছি।
কৃষিক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী সব সময় সজাগ ছিলেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘করোনাকালীন প্রধানমন্ত্রী সব প্রোজেক্টের দেখভাল করেছেন। তার কাছে যে প্রোজেক্ট নিয়েই গিয়েছি তিনি সে প্রোজেক্ট পাস করে দিয়েছেন। উল্টো বলেছেন আরও বড় বড় প্রোজেক্ট নিয়ে তার কাছে যেতে। তিনি সব সময় মাছ, মাংস ও প্রাণিসম্পদের দিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।’
কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী ৪৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ কৃষিতে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে আর এজন্যই কৃষির উন্নয়নে আমাদের আওয়ামী লীগ সরকারকেই প্রয়োজন। কেননা কৃষির যত উন্নয়ন হয়েছে সব এই সরকারের আমলেই হয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেই আমাদের দরকার। তিনি থাকলেই দেশের কৃষির ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব।
এখন আগের মতো গরু দিয়ে জমি মাড়াই করার সময় নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, গরু দিয়ে জমি মাড়াই করে, ফসল হাতে কেটে ঘরে তোলার দিন শেষ। এখন মেশিনের মাধ্যমে আধুনিক পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদন ও উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে কৃষকদের কষ্ট লাঘব হয়েছে। ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের অনেক দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা শঙ্কা করেছিল করোনায় বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় নীতি এবং সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে মহামারি সত্ত্বেও দেশে খাদ্য ঘাটতি দেখা দেয়নি। বরং কোনও কোনও ক্ষেত্রে খাদ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে। প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার আমরা করছি। ফলে খাদ্য জাতীয় পণ্য তথা ধান, গম, ভুট্টা, মাছ, মাংস, দুধ ও ডিম এমন উৎপাদন হয়েছে এবং এর গুণগতমান এত ভালো যে বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশ থেকে অনেক কিছু আমদানি করছে।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশে উৎপাদিত মাছ এখন বিশ্বের ৫২টি দেশে রফতানি হয়। পৃথিবীর অনেক দেশ বাংলাদেশ থেকে মাংস আমদানি করতে চাইছে। দেশে উৎপাদিত নানাধরনের খাদ্য সামগ্রী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে যাচ্ছে।’
বাংলাদেশের উৎপাদিত ওষুধ পৃথিবীর বহু দেশে রফতানি হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ওষুধ শিল্পে যান্ত্রিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে অভাবনীয় উন্নয়ন হয়েছে। দেশের স্বাস্থ্য সেবা ও অন্যান্য গবেষণায় যে উন্নয়ন হয়েছে তা বিশ্বের বিস্ময়।’
রেজাউল করিম বলেন, ‘বর্তমানে দেশে শিশু মৃত্যু-মাতৃ মৃত্যুর হার কমেছে, গড় আয়ু বেড়েছে। এর অন্যতম কারণ সরকার দেশে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবারের জোগান দিতে পারছে, উপযুক্ত চিকিৎসা সেবা দিতে পারছে ও মানুষের প্রশান্তির জন্য অন্য যেসব সহযোগিতা দরকার তা দিতে পারছে। প্রান্তিক পর্যায়ে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এক সময় বিপন্ন ছিল। এখন প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে।’
দেশের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘নিজের টাকায় পদ্মা সেতু, কর্ণফুলী টানেল, মেট্রোরেল, ঢাকা-কক্সবাজার অত্যাধুনিক রেল সংযোগসহ অনেক উন্নয়ন এখন দৃশ্যমান। দেশে কোনও মানুষ খাদ্যের অভাবে থাকে না ও চিকিৎসার অভাবে কোনও মানুষ মারা যায় না। দেশের প্রতিটি বিভাগে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে। প্রতিটি জেলায় কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করা হচ্ছে। মানুষকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এর সবই সম্ভব হয়েছে দেশের মানুষের সদিচ্ছা, রাষ্ট্রীয় উপযুক্ত পলিসি ও সরকার প্রধানের নিরলস প্রচেষ্টায়।’
এসময় এনিমেল হাজবেন্ড্রি অ্যাসোসিয়েশনের প্রফেসর ড. মো. নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নাহিদ রশীদ, বাংলাদেশ কৃষক লীগের সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দ, ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মো. রেয়াজুল হক, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এনিমেল হাজবেন্ড্রি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. ছাজেদা আখতার।
অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এনিমেল হাজবেন্ড্রি এসোসিয়েশনের মহাসচিব ড. অসীম কুমার দাস, আরভিএন্ডএফসি পরিদফতরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আব্দুল বাকী, এসিআই এগ্রিবিজনেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এফ. এইচ. আনসারি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. ইফতেখার হোসেন।