Print Date & Time : 21 April 2026 Tuesday 11:43 pm

দেশের এখন ব্যবসায়ী পার্টনার খুঁজতে বিদেশ যেতে হয়: বিএসইসি চেয়ার‍ম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগে বাংলাদেশের মন্ত্রীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেতেন সাহায্য নিয়ে আসতে। যে মন্ত্রী যতো বেশি বিদেশি সাহায্য আনতেন, তাঁর ক্রেডিট ততো বেশি হতো। পরিস্থিতি বদলে গেছে, বাংলাদেশ এখন আর সাহায্যের জন্য বিদেশ যায় না, ব্যবসায়ী পার্টনার খুঁজতে বিদেশ যায়।

মঙ্গলবার (৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।

তিনি বলেন, এখনও বিশ্বের অনেক দেশ বাংলাদেশকে বন্যা-খরা পীড়িত দারিদ্র ভূখন্ড হিসেবেই জানে। দেশের কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি দেশের বিরুদ্ধেই বিদেশিদের কাছে বদনাম করে। এজন্য বিদেশিরাও আমাদের ছোট করে দেখে। আমরা যখন বিদেশিদের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের কথা বলি তাঁরা অনেকেই বিশ্বাস করতে চায় না। পরে গুগলে অনুসন্ধান করে দেখে বিশ্বাস করে।

এ সময় শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, আগামী মাসে আমরা প্যারিস, তুলুজ, বার্লিন এবং ফ্রাঙ্কফুর্টে ইনভেস্টমেন্ট সামিটের আয়োজন করছি। এ সামিটে ওইসব দেশের দূতাবাসগুলো আমাদের সহযোগিতা করছে। একসময় আমরা প্যারিসে সাহায্য নিতে যেতাম। আর এখন সেখানে বিসনেস পার্টনার খুঁজতে যাচ্ছি। এ সময় দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। জানান, খুব শীঘ্রই আফ্রিকার কিছু দেশে ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজ ও এগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ শিফট করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। মারিশাসকে কেন্দ্র করে আফ্রিকার ১৪০ কোটি মানুষকে লক্ষ্য রেখে কাজ করা হবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, পড়াশোনার আর ব্যবসা-বাণিজ্যের প্র্যাকটিক্যাল কাজের অনেক পার্থক্য রয়েছে। ইথিকস নিয়ে আমরা যেভাবে কাজ করতে চাই, বাস্তবতার নিরিখে অনেক কিছুই করা সম্ভব হয় না। সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশের দক্ষ ও মেধাবী মানবসম্পদ লাগবে। তাই সেদিকে মনোযোগ দেয়ার পরামর্শও তার। ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান ড. হাসিনা শেখের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আব্দুল মোনায়েম এবং কমিউনিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাশিহুল হক চৌধুরী।