ধনিকশ্রেণি থেকে প্রাপ্য কর আহরণে উদ্যোগ নিন

যে কোনো দেশে আদর্শ কর ব্যবস্থা হলো প্রত্যক্ষ কর ব্যবস্থা। অর্থাৎ যে ব্যক্তি বেশি অর্থ উপার্জন করবেন, তিনি আনুপাতিক হারে বেশি কর পরিশোধ করবেন। কিন্তু আমাদের দেশে প্রত্যক্ষ কর এখনও আজস্ব আহরণের এক নম্বর খাতে পরিণত হতে পারেনি। যদিও ধনী ব্যক্তির সংখ্যা বৃদ্ধির দিক দিয়ে বাংলাদেশ ওপরের দিকে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কর আহরণ ব্যবস্থায় সংস্কার সাধনের মাধ্যমে ধনিকশ্রেণির কাছ থেকে বাড়তি কর আদায়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক।

দৈনিক শেয়ার বিজে গতকাল ‘গরিবের ওপর কর না বাড়িয়ে ধনীদের চাপ দিন’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনের তথ্য মতে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমিতি ভ্যাট-ট্যাক্স আরোপের মাধ্যমে দরিদ্র, নিন্মবিত্ত ও নিন্ম মধ্যবিত্তদের ওপর চাপ বাড়ানোর সংস্কৃতি বন্ধ করে কর আদায়ে বিত্তবান-ধনীদের ওপর যুক্তিসঙ্গত চাপ প্রয়োগের পরামর্শ দিয়েছে।

অর্থনীতি সমিতির এ প্রস্তাব অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত বলে মনে করি। সরকারের পক্ষ থেকে সবসময় একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে জোর দেয়া হয়। কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে অবশ্যই বৈষম্যের বিলোপ সাধন করতে হবে। আর বৈষম্যের বিফোর সাধনের প্রধান উপায় হলো ধনিকশ্রেণির কাছ থেকে অধিক হারে কর আদায় করা। কিন্তু আমাদের দেশে অনেক ধনী ব্যক্তিই তাদের কাছে প্রাপ্য উপযুক্ত পরিমাণের কর পরিশোধ না করে পার পেয়ে যান। মূলত কর কাঠামোর দুর্বলতার কারণেই এমনটি হয়ে থাকে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এ ছাড়া কর আদায়ের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দুর্নীতি পরায়ণতাও যথাযথ পরিমাণে কর আহরণে অন্তরায় হিসেবে কাজ করে বৈকি।

বাংলাদেশ সরকার দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে যে রাজস্ব আহরণ করে তার ৮০ শতাংশেরও বেশি আসে এনবিআরের মাধ্যমে। এ সংস্থাটি তিনটি উৎস থেকে রাজস্ব আহরণ করে। এগুলো হলোÑআয়কর, মূল্য সংযোজন করা (মূসক) বা ভ্যাট এবং বিভিন্ন ধরনের শুল্ক। এর মধ্যে আয়কর হচ্ছে প্রত্যক্ষ কর, যা করদাতার কাছ থেকে সরাসরি আদায় করা হয়। এ ক্ষেত্রে যার যত আয় বা যার যত বেশি সম্পদ, তাকে তত বেশি কর দিতে হবে। আধুনিক বিশ্বের আদর্শ কর কাঠামোর দেশগুলোয় রাজস্ব আহরণের সবচেয়ে বড় উৎসই হচ্ছে এই প্রত্যক্ষ কর। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ চিত্র ভিন্ন। এখানে এখনও রাজস্বের সবচেয়ে বড় খাত ভ্যাট। এ ছাড়া শুল্ক খাত থেকেও এখনও পর্যন্ত বিপুল পরিমাণে রাজস্ব আহরণ হয়ে থাকে। এ দুটি উৎসের করভার ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষের ওপর পড়ে থাকে। তাই এ ব্যবস্থায় সংস্কার হওয়া উচিত। এমন একটি কর কাঠামো দাঁড় করানো প্রয়োজন, যেখানে কর প্রদানের যোগ্য ব্যক্তির থেকে উপযুক্ত পরিমাণে কর আহরণের মাধ্যমে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা হয়। সরকার বিষয়টি বিবেচনা করে দেখবে বলে আমাদের বিশ্বাস।