লেনদেন বেড়ে ৮০০ কোটিতে

নামমাত্র উত্থানে বিমার আধিপত্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের পুঁজিবাজারে সূচকের নামমাত্র উত্থানের মধ্য দিয়ে গতকাল রোববার লেনদেন শেষ হয়েছে। সেই সঙ্গে আগের দিনের তুলনায় টাকার অঙ্কে লেনদেন বেড়ে সাড়ে ৮০ কোটি টাকার ঘরে পৌঁছেছে। এদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন হওয়া বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর অপরিবর্তিত ছিল। এদিন উত্থানে বিমা খাতের আধিপত্য ছিল। গতকাল সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে সূচক বৃদ্ধিতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ও কেনার চাপ বেশি ছিল আলোচ্য খাতে। ফলে এ খাতে সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে। অপরদিকে এদিন উত্থানেও বিনিয়োগকারীদের বিমুখ ও শেয়ার বিক্রির চাপ বেশি ছিল পাট খাতে। ফলে আলোচ্য খাতটিতে শুধু দর কমেছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল বিমা খাতের শেয়ারদর বেড়েছে ২ দশমিক ৩০ শতাংশ। এদিন খাতটিতে মোট ৫৭টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। লেনদেন হওয়া শেয়ারের মধ্যে ২৮টির দর বেড়েছে এবং ২২টির দর কমেছে। দ্বিতীয় স্থানে ছিল সেবা ও আবাসন খাতের শেয়ার। খাতটিতে শেয়ারদর বেড়েছে ১ দশমিক ৭০ শতাংশ। ১ দশমিক ৭০ শতাংশ শেয়ারদর বেড়ে তৃতীয় স্থানে ছিল ভ্রমণ ও অবকাশ খাত। গতকাল টেলিকমিউনিকেশন, সিরামিক, ব্যাংক, মিউচুয়াল ফান্ড এবং আর্থিক খাতে শেয়ারদর বৃদ্ধির বা কমার কোনো পরিবর্তন হয়নি।

এদিকে গতকাল বিনিয়োগকারীদের বিক্রির চাপ থাকায় পাট খাতের শেয়ারদর সবচেয়ে বেশি কমেছে। খাতটিতে শেয়ারদর কমেছে ১ শতাংশ। শেয়ারদর কমায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল বস্ত্র খাত। খাতটিতে শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ শেয়ারদর কমেছে। শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ শেয়ারদর কমে তৃতীয় স্থানে ছিল ট্যানারি খাত।

অন্যদিকে গতকাল লেনদেনের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে বিমা খাতে। খাতটিতে ডিএসইর মোট লেনদেনের ৫৫ দশমিক ৭০ শতাংশ লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে ডিএসইর মোট লেনদেনের ৮ দশমিক ৭০ শতাংশ লেনদেন হয়েছে। তৃতীয় স্থানে থাকা ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে ডিএসইর মোট লেনদেনের ৪ দশমিক ৯০ শতাংশ লেনদেন হয়েছে। ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ লেনদেন হওয়া ওষুধ ও রসায়ন খাত রয়েছে চতুর্থ স্থানে।

ডিএসইর তথ্য মতে, রোববার বাজারে লেনদেন হওয়া ৩২৬ কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৬৩টির। বিপরীতে কমেছে ৯৪টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ১৬৯টি কোম্পানির শেয়ারের। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ৯ দশমিক ২৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩১১ পয়েন্টে। ডিএসইর অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস শরিয়াহ সূচক ২ দশমিক ২২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৬২ পয়েন্টে। ডিএস-৩০ সূচক ৬ দশমিক ২৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৪০ পয়েন্টে।

এদিন ৩২৬টি কোম্পানির ১৫ কোটি ৮৩ লাখ ৮ হাজার ৩৯৭টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে, যা টাকার অঙ্কে ৮৬৭ কোটি ৬৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৬৯৭ কোটি ৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। অর্থাৎ লেনদেন আগের দিনের চেয়ে বেড়েছে।

ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে ছিল প্রভাতি ইনস্যুরেন্সের শেয়ার। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার। তৃতীয় অবস্থানে ছিল ইন্টার্ন হাউজিংয়ের শেয়ার।

এরপরের তালিকায় ছিল ফু-ওয়াং ফুড, ইউনিক হোটেল, কন্টিনেন্টাল ইনস্যুরেন্স, মেঘনা লাইফ ইন্সু্যুরেন্স, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ, রূপালী লাইফ এবং সোনালী পেপার লিমিটেডের শেয়ার।

আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রধান সূচক ২৩ দশমিক ৮৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৬৫০ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৬৬টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৫১টির, কমেছে ৫২টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ৬৩টির দাম।

দিন শেষে সিএসইতে ৬ কোটি ৯৭ লাখ ৮৯ হাজার ১৩৬ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১১ কোটি ৫৮ লাখ ২২ হাজার ৯৯৫ টাকার শেয়ার।