নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের ঘটনার ১১ বছর পরও মামলাটি আপিল বিভাগে আটকে থাকায় নিহতদের পরিবারগুলো ন্যায়বিচারের অপেক্ষার অবসান হয়নি। উল্টো মামলা নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন তারা। আদালতে রায় ঘোষণার পর দীর্ঘ সময়েও তা কার্যকর না হওয়ার পেছনে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের অনীহা ছিল বলে অভিযোগ নিহত পরিবারগুলোর সদস্য ও বাদীপক্ষের আইনজীবীর।
নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) আবুল কালাম আজাদ জানান, সাত খুনের ঘটনায় তিন বছরের মাথায় ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত এই মামলার রায়ে সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন ও র্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ২৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা উচ্চ আদালতে যান। পরে ২০১৮ সালের আগস্টে উচ্চ আদালত ১৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। এরপর আপিল করা হয়। কিন্তু গত সাত বছর ধরেই মামলাটি শুনানির অপেক্ষায় আছে।
দীর্ঘ বছরেও এই মামলার আসামিরা শাস্তি না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে নিহত কাউন্সিলর নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি বলেন, ‘নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের যদি শাস্তি না হয়, তাহলে অপরাধীরা আরও সাহস পেয়ে যাবে। নিম্ন-উচ্চ আদালতে রায় হওয়ার পরও তা কার্যকর হচ্ছে না। অপরাধীদের শাস্তি না হওয়ায় আমরা সবসময় আতঙ্কে থাকি।
বাদীপক্ষের আইনজীবী ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে বিচারিক আদালত মামলাটির রায় ঘোষণা করেছেন ২০১৭ সালে। এরপর কয়েকজনের সাজা কমালেও পূর্ণাঙ্গ রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। আমরা ভেবেছিলাম, এই রায় কার্যকর হলে দেশে যে হত্যা, গুমের যে সংস্কৃতি চালু হয়েছিল, সেটি বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকার আসামিদের দিয়ে অ্যাপিলেট ডিভিশনে রিভিশন আবেদন দাখিল করায়; কিন্তু এখন পর্যন্ত এই রিভিশন আপিলের শুনানি আর হয়নি। আমরা আশা করি, দেরিতে হলেও এই মামলার বিচার কার্যক্রম দ্রুত শেষ করতে অন্তর্বর্তী সরকার নির্দেশনা দেবে।’ মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা খুবই আন্তরিক। বর্তমান সরকারও চাচ্ছে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই মামলাটির রায় চূড়ান্ত করতে।’
প্রমঙ্গত, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক (লিংক রোড) থেকে অপহরণের শিকার হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজন। তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীতে ভেসে ওঠে তাদের মরদেহ। হত্যাকাণ্ডের শিকার অন্যরা হলেনÑনজরুলের সহযোগী তাজুল ইসলাম, বন্ধু সিরাজুল ইসলাম লিটন, মনিরুজ্জামান স্বপন, স্বপনের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম ও আইনজীবী চন্দনের গাড়িচালক ইব্রাহিম।




