নিজস্ব প্রতিবেদক: গতকাল শনিবার সকালে ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে রাজধানীসহ দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলা। অন্যদিকে সিলেটের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে খোদ নিউজিল্যান্ডকে কাঁপিয়ে দেয় বাংলাদেশ। ২০২১ সালের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জেতা দলটি প্রথম টেস্টেই বাংলাদেশের কাছে হেরে গেছে ১৫০ রানের বিরাট ব্যবধানে।
ম্যাচটা বাংলাদেশ জিততে পারত গত শুক্রবারই। বিশেষ করে ৩৩২ রানের লক্ষ্যে দ্বিতীয় ইনিংস খেলতে নেমে ৬০ রানে নিউজিল্যান্ডের পঞ্চম উইকেট পড়ে যাওয়ার পর মনে হচ্ছিল এই টেস্ট হয়তো পঞ্চম দিনের সূর্য দেখবে না। কিউই ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে মুহুর্মুহু আবেদন তুলছিলেন বাংলাদেশের বোলার-ফিল্ডাররা। কোনোটায় ব্যাটসম্যান আউট হয়ে যাচ্ছেন, কোনোটা ভয় ধরিয়ে দিচ্ছে ব্যাটসম্যানের মনে।
ব্যতিক্রম ছিল কিছুটা আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে মিচেলের প্রতিরোধের চেষ্টা। টম ব্লান্ডেল, গ্লেন ফিলিপস, কাইল জেমিসনরা ছোট ছোট সঙ্গ দিয়ে গেছেন তাকে। এই করে করেই একশ পার, শেষে এসে ইশ সোধিকে নিয়ে তো মিচেল পার করে দিলেন দিনটাই। শেষ এক ঘণ্টায় লড়াইটা হয়ে উঠেছিল এমন যে, বাংলাদেশ চায় নিউজিল্যান্ডকে অলআউট করে চতুর্থ দিনে ম্যাচ শেষ করতে। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের পণÑম্যাচ যে করেই হোক পঞ্চম দিনে নিতে হবে। ‘এ নিয়ে কী হয়. কী হয়’ একটা অবস্থায় পার হয়েছে শুক্রবারের শেষ বেলা। শেষ পর্যন্ত চতুর্থ দিন শেষে মিচেলের ৮৬ বলে অপরাজিত ৪৪ রানের সুবাদে শুক্রবার ‘জয়’ হয়েছে নিউজিল্যান্ডেরই।
তার মধ্যেই শেষ দিনে এসে নিউজিল্যান্ডের নতুন লড়াইÑ৩ উইকেটে যতদূর নিয়ে যাওয়া যায় টেস্টটাকে। বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল যথারীতি যত তাড়াতাড়ি শেষ করা যায় টেস্ট, মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের পর সিলেটেও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মেতে ওঠা যায় আরেকটি জয়োৎসবে।
সেই উৎসবের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে এক ঘণ্টা ২৬ মিনিট। প্রথম সাফল্যটা আসতে আসতেই ১০ম ওভার। ধৈর্যের পরীক্ষায় হার মেনে নাঈম হাসানকে সুইপ করেছিলেন ততক্ষণে অর্ধশত (৫৮) করে ফেলা মিচেল। ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে সেটাই দারুণ এক ক্যাচ হয়ে গেলে তাইজুল ইসলামের হাতে। ম্যাচটাকে পঞ্চম দিনে নিয়ে আসায় মিচেলের ১২০ বলে খেলা ৫৮ রানের ইনিংস এবং ইশ সোধির সঙ্গে তার ৩০ রানের রাত পার করা জুটিটাকে বিশেষভাবে মনে রাখবে নিউজিল্যান্ড।
এর ৮ ওভার পর দ্বিতীয় সাফল্যটা আসে সেই তাইজুলের হাত ধরে, সাউদিকে শর্ট মিড উইকেটে জাকির হাসানের ক্যাচ বানিয়ে। টেস্টে ১২তম পঞ্চম উইকেট পাওয়ার আনন্দে মাতা তাইজুল মাঠেই অভিনন্দন পেয়েছেন প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যান ইশ সোধিরও। এরপর তাইজুলের আরেকটি উইকেটে ৭২তম ওভারের প্রথম বলে হয়ে যায় জয়ের আনুষ্ঠানিকতা। ইশ সোধির এই ক্যাচটাও নিয়েছেন জাকির। দ্বিতীয় ইনিংসে ৭৫ রানে ৬ উইকেটসহ টেস্টে তাইজুলের উইকেট হলো ১০টি। এক টেস্টে ১০ উইকেট তিনি নিলেন এ নিয়ে দ্বিতীয়বার।
বাংলাদেশের কাছে ঘরের মাঠে কিউইদের প্রথম হারানো টেস্টটা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। টেস্টে বাংলাদেশের স্মরণীয় জয়গুলোর একটি হয়ে গেছে এটি। বাংলাদেশের এখন পর্যন্ত জেতা ১৮টি টেস্টের মধ্যে দেশের বাইরের ছয়টিতে জিম্বাবুয়ে ছাড়াও জয় রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। তার মধ্যে সেরা গত বছর জেতা মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্ট। ঘরের মাঠে যদিও বাংলাদেশ হারিয়েছে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দলকে, তবু সব মিলিয়ে মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে ৮ উইকেটে পাওয়া জয়টাই সবচেয়ে এগিয়ে।
ঘরের মাঠে খেলা হলেও উইকেট থেকে এই টেস্টে অন্তত বাংলাদেশ বাড়তি কোনো সুবিধা পায়নি। চতুর্থ দিনের উইকেটেও ব্যাটিংটা প্রথাগতভাবে কঠিন মনে হয়নি। দুই ইনিংসে তাইজুলের ৮ উইকেট দেখে কারও মনে হতে পারে বাংলাদেশের স্পিনাররা ভালো সহায়তা পেয়েছেন উইকেট থেকে।
প্রথম ইনিংসের মতো কাল দ্বিতীয় ইনিংসেও ৪ উইকেট নিয়ে কিউই ব্যাটসম্যানদের ব্যাটে শিকল পরিয়ে রেখেছিলেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল। দুই অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাঈম হাসানও বেশি রান নিতে না দিয়ে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের চাপে রেখেছিলেন। তাইজুলের উইকেটগুলো হতে পারে সেটারই সুফল। আরও ২ উইকেট নিয়ে টেস্টটাকে নিজের করে নিলেন তিনি।