নিত্যপণ্যে প্যাকেজ ভ্যাট প্রস্তাব বিবেচনায় নিন

অসহনীয় যানজট, জলাবদ্ধতা, অপ্রতুল অবকাঠামো, এসএমই খাতে অপর্যাপ্ত ঋণপ্রবাহ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, ডলারের মূল্যের অস্থিরতা, আমদানি-রপ্তানি ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা, উচ্চ সুদহার, ভ্যাট ও করের হার বৃদ্ধি এবং জটিল রাজস্ব ব্যবস্থাপনার কারণে রাজধানীর পুরান ঢাকার ব্যবসায়ীরা বিশেষ করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা সাম্প্রতিক সময়ে নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছেন। বিদ্যমান সমস্যাগুলোর আশু সমাধানে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর প্যাকেজ ভ্যাট ব্যবস্থা প্রবর্তন করার দাবি জানিয়েছেন তারা। পুরান ঢাকার ব্যবসা-বাণিজ্যের বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত মতবিনিময় সভায় শনিবার পুরান ঢাকার বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংগঠনের নেতা এবং কয়েকটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

ভ্যাট আইন জনবান্ধব করতে এখন থেকেই ব্যবসায়িক সংগঠনসহ অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করা উচিত বলে আমরা মনে করি। ভ্যাটের হার অবশ্যই এমনভাবে নির্ধারণ করতে হবে যেন তা ব্যবসায়ী ও সরকারের জন্য ভারসাম্যপূর্ণ হয়। ভোক্তা বিশেষ করে ক্রেতারা যে ভ্যাট দেন, সেটা সরকারের কোষাগারে জমা হওয়ার বিষয়ও নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের মনে আছে, ১৯৯১ সালে আমাদের দেশে ভ্যাট আইন পাস হয়। তখন উৎপাদন, আমদানি ও অল্প কয়েকটি সেবায় এটি আরোপ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে মূল বৈশিষ্ট্য ক্ষুণœ করে খুচরা পর্যায়ে এটি আরোপ করা হয়।

ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুনত্ব এসেছে, এসেছে চ্যালেঞ্জও। আমাদের কর-জিডিপির অনুপাত কম হওয়ায় কর-ব্যবস্থার ভিত্তি প্রসারিত হওয়া উচিত। এটি ঠিক, জনগোষ্ঠীর নগণ্য অংশ সরকারের রাজস্বের প্রয়োজনীয়তা মেটাতে পারে না। ফলে করের জালের আওতা বাড়াতে হবে। পরিশোধব্যবস্থা সহজ হলেই সংশ্লিষ্টরা যথানিয়মে করদানে উদ্বুদ্ধ হবে, কর ফাঁকির প্রবণতাও কমবে।
সরকারের উদ্দেশ্য ছিল মৌলিক চাহিদা খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবাÑএসব বাদ দিয়ে অন্য সবকিছু করের আওতায় নিয়ে আসা হবে। একই সঙ্গে সহনীয় হার নির্ধারণ করা। কিন্তু হার সহনীয় হলেও পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতায় এর সুফল পাচ্ছিল না রাষ্ট্র। এখন যেহেতু ব্যবসায়ীদের একটি অংশ প্যাকেজ ভ্যাট আরোপই শ্রেয়তর ভাবছেন, তাই এ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

বিশ্বের কমবেশি ১৬০টি দেশে ভ্যাট আছে। বৈশ্বিক গড় হার, কিন্তু ১৬ দশমিক ৫। অর্থাৎ আমাদের হার বৈশ্বিক গড় হারের চেয়ে কম। কর-ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো গেলে, নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এটিকে করদাতাবান্ধব করতে পারলে ভ্যাট নিয়ে ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের অস্বস্তি থাকবে না। যতই দারিদ্র্য বিমোচন করা হোক না কেন, উন্নয়ন-প্রবৃদ্ধি যতই ফলাও করে প্রচার হোক না কেন আমরা জানি দেশের মানুষ কতটা সক্ষমতা অর্জন করতে পেরেছে। এখনও দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক সুরক্ষা কমসূচি গ্রহণ করতে হয়। টিসিবির সাশ্রয়ী মূল্যের নিত্যপণ্যের লাইনে দাঁড়াতে হয় অভিজাত বলে পরিচিত মানুষদেরও। ক্ষুদ্র ও নি¤œপুঁজির ব্যবসায়ীদের জীবিকা নির্বাহের লড়াইয়ে টিকিয়ে রাখতে প্যাকেজ ভ্যাট পদ্ধতি চালু করতে হবে। তাহলে উপকৃত হবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পও।