নির্ধারিত দামে চামড়া বিক্রি নিশ্চিত করুন

প্রতিবছর ঈদুল আজহার আগে চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দেয় সরকার। কিন্তু নির্ধারিত দামে চামড়া বিক্রি হওয়ার নজির তেমন নেই। প্রত্যাশিত দাম না পেয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে শত শত চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলে প্রতিবাদ জানানোর নজিরও আছে।

ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রির টাকা কেবলই এতিম ও হতদ্ররিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করতে হয়। তাই বেশি দামে বিক্রি করা গেলে গরিবরাই উপকৃত হয়। দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, ‘গরিবের হক’ হিসেবে পরিচিত কোরবানির চামড়ার ন্যায্য দাম থেকে গরিবরা বঞ্চিত হয়ে আসছে বরাবরই। এবার চামড়ার দাম কমানোর জন্য কয়েকটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে। তাদের কারসাজিতে চামড়ার প্রকৃত দাম পাওয়া যায় না। এই দাম না পাওয়ার কারণে একদিকে যেমন গরিবরা বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি দেশ থেকে চামড়া পাচার হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। সরকার চামড়ার দাম নির্ধরণ করে দেয়। কিন্তু নির্ধারিত দামে চামড়া বিক্রি হচ্ছে কি না, সেদিকে প্রশাসনিক তদারকি দেখা যায় না। এমন নয় যে ব্যবসায়ীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্ধারিত দামে চামড়া বিক্রি করেন।

বছরের প্রায় ৬৫ শতাংশ চামড়া ঈদুল আজহায় সংগৃহীত হয়। বলা যায়, এ সময়কার চামড়া দিয়েই চামড়াশিল্প টিকে আছে। কোরবানির চামড়ার ওপর যেমন চামড়াশিল্প টিকে থাকে, তেমনি এটি থেকে প্রাপ্ত অর্থে মাদরাসা ও এতিমখানার উল্লেখযোগ্য খরচের জোগান আসে। দরিদ্র মানুষও এটি থেকে অর্থ পায়। তাই চামড়া কেবল শিল্পটি টিকিয়ে রাখে না, এর সামাজিক আবেদনও রয়েছে।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করেই চামড়ার দাম নির্ধারণ করে সরকার। অভিযোগ রয়েছে, ব্যবসায়ীদের স্বার্থই রক্ষিত হয় তাতে। অথচ ব্যবসায়ীরাই নির্ধারিত দামে চামড়া কেনেন না। সংঘবদ্ধ চক্রের কারসাজিতে ক্ষতিগ্রস্ত হন মৌসুমি ক্ষুদে ব্যবসায়ীরা। কোরবানির সময় চামড়া কেনাবেচায় জড়িত হন অনেক কর্মহীন তরুণ। এ সময় তারা চামড়া সংগ্রহ ও বিক্রির মাধ্যমে কিছুটা হলেও আর্থিকভাবে লাভবান হন। তারা পরিশ্রম করে বৈধ উপায়ে ব্যবসা করেন। তারা কোনো কারসাজির শিকার হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হন, এটিও কাম্য নয়।

এবার প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়া ঢাকায় ৪৭-৫২ টাকা, ঢাকার বাইরে ৪০-৪৪ টাকা, খাসির চামড়া সর্বত্র ১৮-২০ টাকা এবং বকরির চামড়া সর্বত্র ১২-১৪ টাকা ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, চামড়ার স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারদর, চাহিদা, সরবরাহ, রপ্তানির সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, কোরবানির চামড়াকে ‘গরিবের হক’। গরিবদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। চামড়া কেনা নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীদের জন্য ব্যাংক প্রয়োজনীয় অর্থঋণ মঞ্জুর করেছে। সরকার চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। তারাও চায় নির্ধারিত দামে চামড়া বিক্রি হোক। তাই চামড়া নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে কি না, তা দেখভালেও দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। নির্ধারিত দামে কোরবানির চামড়া বিক্রি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।