নিজস্ব প্রতিবেদক:বর্তমান নির্বাচন কমিশন সাম্প্রতিক সময়ে অনুষ্ঠিত ৫টি নির্বাচনে নিরপেক্ষতা ও সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ফোরামের (এএমএফ) নেতারা। ঢাকায় সফররত ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে গতকাল মঙ্গলবার মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন তারা।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্ব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, নির্বাচনী পরিবেশ, রাজনৈতিক দলের অবস্থানসহ বিভিন্ন বিষয় সরেজমিন দেখতে ঢাকায় অবস্থান করছেন নির্বাচনবিষয়ক অনুসন্ধানী মিশন ইইউর প্রতিনিধিরা।
গতকাল সকালে প্রতিনিধিদলের ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকাস্থ ইইউ দূতাবাসে এএমএফ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তারা।
এএমএফের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ আবেদ আলীর নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন ইএমএফের উপদেষ্টা ও সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, ফোরামের পরিচালক ডুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হাবিবুর রহমান ও বুয়েটের উপ-উপাচার্য ড. আব্দুল জব্বার খান।
সাক্ষাৎকালে ইএমএফ নেতারা বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি স্থানীয় নির্বাচনগুলোয় ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। এ কারণে সিসি ক্যামেরা ব্যবস্থাসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে। এছাড়া গাইবান্ধা উপনির্বাচনে অনিয়মের দায়ে নির্বাচন বাতিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছে।
সম্প্রতি পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দেশের একটি বৃহৎ রাজনৈতক দল অংশ না নিলেও এ দলের সমর্থিত সাবেক কাউন্সিলর ও স্থানীয় নেতাদের বড় একটি অংশ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন এবং অনেকেই নির্বাচিত হয়েছেন।
এতে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, সাহসিকতা ও সক্ষমতা প্রমাণ হয়। যেসব স্থানীয় নির্বাচন সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে এতে সরেজমিন পর্যবেক্ষণে লক্ষ্য দেখা গেছে, নির্বাচনে সরকার কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করেনি বা প্রভাব ফেলেনি। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সরকার নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে।
শুধু ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচন নয়, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮-এর নির্বাচনের ফল ও পরাজিত বিরোধী দলের বিভিন্ন অভিযোগ বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন ইএমএফ নেতারা।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচনবিষয়ক অনুসন্ধানী মিশনের প্রতিনিধিদের অভিনন্দন জানিয়ে ইএমএফ নেতারা বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ না হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের নির্বাচনে ইইউর আগ্রহকে আমরা ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে দেখছি। তবে আমাদের নির্বাচনী পদ্ধতি বা প্রক্রিয়া নিয়ে বাইরের হস্তক্ষেপ এ দেশের সাধারণ মানুষ সমর্থন করে না।
ইইউ প্রতিনিধিদল ইভিএম বিষয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর বিরোধিতা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছে। আগামী নির্বাচনে ইএমএফের পর্যবেক্ষণের প্রস্তুতি বিষয়ে জানতে চেয়েছে। ইইউ প্রতিনিধি হিসেবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের সুযোগ রয়েছে কি না, তাও জানতে চেয়েছে।
মতবিনিময়কালে চেলেরি রিকার্ডোর নেতৃত্বে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের মধ্যে ছিলেন দিমিত্র ইওয়ানু, আলভেস ক্রিটিনা ডস রামোস, মিলার ইয়ান জেমস, শ্যামেন ক্রিস্টোফার ও ম্যারি-হেলেন এন্ডারলিন।