Print Date & Time : 30 August 2025 Saturday 5:06 am

নীলফামারীতে ধর্ষনের পর হত্যার দায়ে একজনের মৃত্যুদন্ড

প্রতিনিধি, নীলফামারী : নীলফামারীর জলঢাকায় এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার ১৩ বছর পর প্রধান আসামি মাহমুদার রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আজ বুধবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে আসামির অনুপস্থিতিতে নীলফামারী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মনছুর আলী এ রায় দেন।

মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত মাহমুদার নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার দুন্দিবাড়ী পশ্চিম পাড়া গ্রামের আফান উদ্দিনের ছেলে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের ৯ সেপ্টেম্বর বাড়িতে একা পেয়ে ওই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করেন মাহমুদার রহমান। ধর্ষণের ঘটনা জানাজানির ভয়ে তাকে হত্যা করে ঘটনা অন্য দিকে প্রভাবিত করা উদ্দেশ্যে উড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঘরের তীরের সঙ্গে ঝুলিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় ওই স্কুলছাত্রীর বাবা বাড়িতে এসে তাকে দেখতে পেল জোরে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যান মাহমুদার। পরে ঘরে গিয়ে মেয়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মাহমুদারের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মামলাটি তদন্ত শেষে ২০১০ সালের ১৪ ফেব্রয়ারি আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান হোসেন। আদালত সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আজ বুধবার এই সাজা প্রদান করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) রমেন্দ্র নাথ বর্ধন বাপ্পী জানান, আদালত ৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। মামলার শুরু থেকে আসামি পলাতক থাকায় আত্মসমর্পণের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তিও প্রদান করা হয়।

ইতির বড় ভাই শরিফুল ইসলাম লাবলু বলেন, দীর্ঘ ১৩ বছর পর আইনি লড়াই ও আদালতের রায়ে আমরা খুশি। তবে এই মামলার বাদী আমার বাবার মৃত্যু হওয়ায় এই রায় দেখতে পেলেন না।

সরকার কতৃক নিয়োজিত আসামী পক্ষের আইনজীবি আব্দুল লতিব সরকার বলেন, এই মামলায় আসামী পক্ষের লোকজন আদালতে (আসামী পলাতক) উপস্থিত না থাকায় কোন ধরনের আইনী সহায়তা প্রদান করা সম্ভব হয়নি।