নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের পুঁজিবাজারে সূচকের পতনের মধ্য দিয়ে গতকাল সোমবারের লেনদেন শেষ হয়েছে। সেই সঙ্গে আগের দিনের তুলনায় টাকার অঙ্কে লেনদেন কমে ৫০০ কোটি টাকার ঘরে নেমে এসেছে। এদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর অপরিবর্তিত ছিল। গতকাল সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে সূচক পতনেও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ও কেনার চাপ বেশি ছিল বিমা খাতে। ফলে এদিন আলোচ্য খাতটিতে দর সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। অন্যদিকে এদিন শেয়ার বিক্রির চাপ বেশি ছিল কাগজ ও মুদ্রণ খাতে। ফলে আলোচ্য খাতটিতে দর সবচেয়ে বেশি কমেছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল বিমা খাতের শেয়ারদর বেড়েছে শূন্য দশমিক ৮০ শতাংশ। এদিন খাতটিতে মোট ৫৭টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। লেনদেন হওয়া শেয়ারের মধ্যে ২৭টির দর বেড়েছে এবং ১৬টির দর কমেছে। দ্বিতীয় স্থানে ছিল বিবিধ খাতের শেয়ার। খাতটিতে শেয়ারদর বেড়েছে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ। শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ শেয়ারদর বেড়ে তৃতীয় স্থানে ছিল সেবা ও আবাসন খাত। গতকাল টেলিকমিউনিকেশন, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক, সিরামিক, প্রকৌশলী, ব্যাংক এবং আর্থিক খাতে শেয়ারদর বৃদ্ধির বা কমার কোনো পরিবর্তন হয়নি।
এদিকে গতকাল বিনিয়োগকারীদের বিক্রির চাপ থাকায় কাগজ ও মুদ্রণ খাতের শেয়ারদর সবচেয়ে বেশি কমেছে। খাতটিতে শেয়ারদর কমেছে ১ দশমিক ৬০ শতাংশ করে। শেয়ারদর কমায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল আইটি খাত। খাতটিতে দর কমেছে শূন্য দশমিক ৯০ শতাংশ। শূন্য দশমিক ৭০ শতাংশ শেয়ারদর কমে তৃতীয় স্থানে ছিল পাট খাত।
লেনদেনের দিক থেকে গতকাল সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে। খাতটিতে ডিএসইর মোট লেনদেনের ২২ দশমিক ৪০ শতাংশ লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বিমা খাতে ডিএসইর মোট লেনদেনের ২২ দশমিক ৩০ শতাংশ লেনদেন হয়েছে। তৃতীয় স্থানে থাকা বিবিধ খাতে ডিএসইর মোট লেনদেনের ৮ দশমিক ৩০ শতাংশ লেনদেন হয়েছে। ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ লেনদেন হওয়া ওষুধ ও রসায়ন খাত রয়েছে চতুর্থ স্থানে।
ডিএসইর তথ্য মতে, সোমবার বাজারে লেনদেন হওয়া ৩২৪টি কোম্পানির মধ্যে ১০৩টির শেয়ারের দাম কমেছে। বেড়েছে ৫৮টি কোম্পানির শেয়ার। আর অপরিবর্তিত রয়েছে ১৬৪ কোম্পানির শেয়ার। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ৩ দশমিক ৭৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩০৭ পয়েন্টে। ডিএসইর অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস শরিয়াহ সূচক ১ দশমিক ৮১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৭২ পয়েন্টে। আর ডিএস-৩০ সূচক ৩ দশমিক ২৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৪৩ পয়েন্টে।
এদিন ৩২৪ প্রতিষ্ঠানের ১২ কোটি ৪০ লাখ ৪৮ হাজার ৭৬২টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে, যা টাকার অঙ্কে ৫৭৭ কোটি ৫ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৬১০ কোটি ৬৫ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। আগের দিনের চেয়ে লেনদেন কমেছে।
ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে ছিল ফু-ওয়াং ফুডের শেয়ার। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের শেয়ার। তৃতীয় অবস্থানে ছিল জেমিনি সি ফুডের শেয়ার। এরপরের তালিকায় ছিল যথাক্রমে রূপালী লাইফ, ইয়াকিন পলিমার, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স, রয়েল টিউলিপ সি পার্ল বিচ, এমারাল্ড অয়েল, ইস্টার্ন এবং কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের শেয়ার।
অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রধান সূচক ৩১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৬৩১ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৪৮টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৩২টির, কমেছে ৬২টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৪টির দাম। দিন শেষে সিএসইতে ১৩ কোটি ১১ লাখ ১৬ হাজার ৯২৭ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর আগের লেনদেন হয়েছিল ১২ কোটি ৩০ লাখ ২৪ হাজার ৮৮৫ টাকার।