পতনের বাজারে অধিকাংশ মৌলভিত্তির শেয়ারে ধস

শেখ আবু তালেব: পুঁজিবাজারকে পতনের হাত থেকে ফিরিয়ে আনতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো দফায় দফায় বৈঠক করছে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সঙ্গে। একই সঙ্গে বৈঠক করছে পুঁজিবাজারের অংশীজনের সঙ্গে। কিন্তু এত আলোচনার মাঝেও গত সপ্তাহে নেতিবাচক ধারায় লেনদেন শেষ করেছে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এ সময় অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর পতন হয়েছে।
লেনদেনে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ আগের সপ্তাহের চেয়ে কমে যাওয়ায় প্রধান সূচক ডিএসইএক্স হারিয়েছে ৪৫ পয়েন্ট। বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কমায় লেনদেনও কমেছে আগের সপ্তাহের চেয়ে।
এ সময়ে বড় মৌলভিত্তির খাতের অধিকাংশ শেয়ারের দর পতন হয়েছে। তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আর্থিক খাতের সিকিউরিটিজের মধ্যে প্রায় সবগুলো শেয়ারদরই ইতিবাচক ধারায় লেনদেন শেষ করেছে। শুধু ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার দর পতন হয়েছে আগের চেয়ে শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ। সাধারণ বিমা খাতের শেয়ার সবচেয়ে বেশি এক দশমিক ৯৬ শতাংশ গেইন করেছে। এ সময়ে ব্যাংক খাত শূন্য দশমিক ৭৮ শতাংশ গেইন করেছে। এর পাশাপাশি মিউচুয়াল ফান্ড শূন্য দশমিক ৬০ শতাংশ ও জীবনা বিমা খাত শূন্য দশমিক ৫৯ শতাংশ গেইনারে ছিল।
অন্যদিকে অ-আর্থিক খাতের সিকিউরিটিজের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ছাড়া সবগুলো খাতের পতন হয়েছে শেয়ারদরে। এ সময়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৩৩ শতাংশ গেইন করে। এই খাতের মধ্যে সবচেয়ে লোকসানে ছিল টেলিকম খাত দুই দশমিক ৬০ শতাংশ। পাশাপাশি লোকসান গুনে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত দুই দশমিক ৫৫ শতাংশ এবং ওষুধ খাত দুই দশমিক ২১ শতাংশ।
ডিএসইর তথ্য বলছে, গত সপ্তাহে ৩৫৩টি সিকিউরিটিজ লেনদেনে অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে শেয়ারদর বৃদ্ধি পায় ১২২টির, কমে ১৯৫টির, অপরিবর্তিত ছিল ৩৩টির এবং লেনদেন হয়টি তিনটি সিকিউরিটিজের। শেয়ারদর পতনের সঙ্গে ডিএসইর বাজার মূলধন হারিয়েছে আগের সপ্তাহের চেয়ে তিন হাজার ৭১৩ কোটি টাকা।
ডিএসইর মোট লেনদেন তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি ২০ শতাংশ অবদান রাখে ব্যাংক খাত। এরপরই প্রকৌশল খাত ১৩ শতাংশ, বস্ত্র খাত ১১ শতাংশ, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত তিন শতাংশ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত ১০ শতাংশ, সিমেন্ট দুই শতাংশ, সিরামিক তিন শতাংশ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান তিন শতাংশ, ওষুধ খাত ৯ শতাংশ, আইটি খাত তিন শতাংশ। এছাড়া জীবন বিমা খাত এক শতাংশ ও সাধারণ জীবন বিমা খাত অবদান রাখে। ডিএসইর লেনদেনও আগের সপ্তাহের চেয়ে কমেছে ৩১ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
একক কোম্পানি হিসেবে গত সপ্তাহে ডিএসইতে সর্বোচ্চ গেইনারে ছিল ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটি সর্বোচ্চ ১৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ শেয়ারদর বৃদ্ধি পায়। এরপরই আইএফআইসি ব্যাংকের শেয়ারদর বৃদ্ধি পায় ১১ দশমিক ২১ শতাংশ। শেয়ারদর বৃদ্ধিতে তৃতীয় অবস্থানে ছিল এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ মিউচুয়াল ফান্ড। এর শেয়ারদর বৃদ্ধি পায় ৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
অন্যদিকে দরপতনের শীর্ষে ছিল এসএস স্টিল। কোম্পানিটি গত সপ্তাহে শেয়ারদর হারিয়েছে ১০ দশমিক ১৮ শতাংশ। এছাড়া ১০ দশমিক শূন্য আট শতাংশ দর হারিয়ে তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং। এছাড়া দুলামিয়া কটন স্পিনিং মিলস দর হারিয়েছে ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, নেতিবাচক ধারায় লেনদেন শেষে গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের পরে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ-সংক্রান্ত কয়েকটি নতুন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এমন সিদ্ধান্তে পুঁজিবাজারে কেমন প্রভাব পড়ে তা দেখা যাবে সামনের দিনগুলোতে।