পতন ঠেকাল ব্যাংক খাত

মো. আসাদুজ্জামান নূর: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল সূচকের সামান্য উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। সূচকে যোগ হয়েছে মাত্র ছয় পয়েন্ট। টাকার অঙ্কে লেনদেনের পরিমাণও সামান্য কমেছে। সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি অবদান ছিল ব্যাংক খাতের। সূচক উত্থানে বেশি ভূমিকা রাখা ১০টি কোম্পানির মধ্যে ছয়টি এ খাতের।

গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ২৬১ কোটি টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল এক হাজার ২৬৬ কোটি টাকা। চলতি বছর ৩ জানুয়ারি থেকে লেনদেন প্রতিদিন টানা হাজার কোটি টাকার বেশি হয়েছে। টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি ১৬ দশমিক ৫১ শতাংশ লেনদেন হয়েছে প্রকৌশল খাতে। এরপর বিবিধ খাতে ১০ দশমিক ৪৫, বস্ত্র ৯ দশমিক ৩৬, ওষুধ ৯ দশমিক ৩৩ ও ব্যাংক আট দশমিক ৫৯ শতাংশ।

টাকার অঙ্কে লেনদেনে পঞ্চম অবস্থানে থাকলেও ভালো দিন গেছে ব্যাংক খাতে। ৮২ শতাংশ ব্যাংকের শেয়ারের দর বেড়েছে এদিন। এছাড়া ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাতের ৬৯ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে। তাছাড়া দর বৃদ্ধি হয়েছে সাধারণ বিমা ও খাদ্য খাতেও।

গতকাল শুরুতে সূচক বেড়ে গিয়েও এক পর্যায়ে দুপুর ১২টার আগে ৬ হাজার ৯৯৬ পয়েন্টে নেমে আসে সূচক। তবে শেষ আড়াই ঘণ্টায় সেখান থেকে বেড়ে সূচক দাঁড়ায় ৭ হাজার ২৩ পয়েন্টে। এছাড়া অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস শূন্য দশমিক ২৫ পয়েন্ট বেড়েছে। আর ডিএস৩০ সূচক শূন্য দশমিক ৪২ পয়েন্ট হ্রাস পেয়েছে।

দিন শেষে সূচকের অবস্থান ধরে রাখায় প্রধান ভূমিকা ছিল ব্যাংক খাতের। যে ১০টি কোম্পানি সূচকে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট যোগ করেছে, তার মধ্যে ছয়টিই ব্যাংক। এদিন বেড়েছে ১৬৬টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের দর, কমেছে ১৭২টির। দর পাল্টায়নি ৪২টির।

সূচকের উত্থানে বেশি ভূমিকা ছিল সদ্য তালিকাভুক্ত ইউনিয়ন ব্যাংকের। কোম্পানির শেয়ারদর ৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ বৃদ্ধিতে সূচক বেড়েছে ৪ দশমিক ৪৬ পয়েন্ট। এনআরবিসির দর ৬ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধিতে সূচক বেড়েছে ৪ দশমিক ৪৫ পয়েন্ট। এছাড়া ওয়ালটন, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, আইএফআইসি ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, সোনালী পেপার ও সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার ব্যাংক সূচক বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানিই সূচক বাড়িয়েছে ২৯ দশমিক ৩৯ পয়েন্ট।

অন্যদিকে বেশ কয়েকটি কোম্পানির দরপতন হয়। এতে নি¤œমুখী হয় সূচক। কোম্পানিগুলোর মধ্যে লাফার্জহোলসিম সিমেন্ট, আর এ কে সিরামিকস, পাওয়ার গ্রিড, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন, তিতাস গ্যাস, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স, বিএসআরএম লিমিটেড, আইসিবি, ইউনিলিভার ও বিএসআরএম স্টিল উল্লেখযোগ্য। এই ১০টি কোম্পানি সূচক কমিয়েছে ৩৬ দশমিক ৭৬ পয়েন্ট।