পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেনের দাম বৃদ্ধির পরই দেশব্যাপী বাড়তি ভাড়া নেয়া শুরু করেন গণপরিবহন শ্রমিকরা। সরকারের নির্দেশনার অপেক্ষা করেননি তারা। এরপর পরিবহন মালিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর মন্ত্রণালয় শনিবার রাতে দূরপাল্লার পথে কিলোমিটারপ্রতি ৪০ পয়সা ও নগর পরিবহনে ৩৫ পয়সা ভাড়া নির্ধারণ করে। এর আগে সারাদেশে দিনভর ছিল গণপরিবহনের সংকট। অঘোষিত কর্মবিরতি পালন করেন পরিবহন শ্রমিকরা।
সরকারের নির্দেশনামতো সাধারণ মানুষের যাতায়াতের প্রধান বাহন বাসের ভাড়া বেড়েছে সর্বোচ্চ ২২ শতাংশ। অর্থাৎ ৫০০ টাকা ভাড়া হলে এখন তা ১১০ টাকা বেড়ে ৬১০ টাকা হবে। পণ্যবাহী যানের ভাড়া নির্ধারণ করা না হলেও মালিকেরা এরই মধ্যে বাড়তি ভাড়া আদায় শুরু করেছেন। ভাড়া বৃদ্ধির ধাক্কায় ঊর্ধ্বমুখী নিত্যপণ্যের বাজারে যৌক্তিক কারণেই আরও বেশি চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দেশের জ্বালানির ৬৫ শতাংশের ভোক্তা পরিবহন খাত। গণপরিবহন ও পণ্যবাহী যানের প্রায় পুরোটাই ডিজেলনির্ভর। গণপরিবহনের মূল ব্যবহারকারী নি¤œ ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ। সরকার শুধু গণপরিবহনের ভাড়া নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু বাস্তবত গণপরিবহনের ভাড়া মালিক-শ্রমিকের ইচ্ছায় বাড়ে। এটি নতুন বিষয় নয়। এবারও ব্যতিক্রম ঘটেনি। সরকার নগরে ১৬ দশমিক ৫০ শতাংশ ভাড়া বাড়ালেও গণপিরিবহন কর্মীরা বাড়িয়েছে ৫০ শতাংশ। বাড়িয়ে ক্ষান্ত হয়নি, যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারও করছে। কেউ এমনও বলেছেন, ‘মালিকরা বেশি লাভ করে ভাবলে নিজে বাস কিনে রাস্তায় নামান।’
এর আগে গত বছরের নভেম্বরে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর সারাদেশে বাসের ভাড়া গড়ে ২৭ শতাংশ বাড়ায় সরকার। তবে তখন পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের বিরুদ্ধে সরকার-নির্ধারিত হারের বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ ওঠে। ৯ মাসের মাথায় আবারও দূরপাল্লার পথে ২২ শতাংশ আর নগরে বাসভাড়া বেড়েছে প্রায় সাড়ে ১৬ শতাংশ।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ নগর পরিবহনে প্রতি কিলোমিটার ৩৫ পয়সা ভাড়া বেড়ে এখন দুই টাকা ৫০ পয়সা হয়েছে। বর্তমানে প্রতি কিলোমিটার ভাড়া দুই টাকা ১৫ পয়সা। মিনিবাসে বর্তমানে দুই টাকা পাঁচ পয়সা। এটি বাড়িয়ে করা হয়েছে দুই টাকা ৪০ পয়সা। বাস-মিনিবাসে সর্বনি¤œ ভাড়া আগের মতোই যথাক্রমে ১০ ও আট টাকা থাকছে।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর গণপরিবহনে ভাড়া কত বাড়তে পারে, তার একটি ধারণা দিয়েছিল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। শনিবার মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতি কিলোমিটারে বাসভাড়া সর্বোচ্চ ২৯ পয়সা আর লঞ্চে ৪২ পয়সা বাড়তে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত সরকার নিজেদের হিসাব ধরে রাখতে পারেনি।
সাধারণ মানুষ কতভাবে ভোগান্তির শিকার হবে! সরকার নগরের গণপরিবহনে নির্ধারিত ভাড়া আদায় নিশ্চিত করে না। আবার সংঘবদ্ধ পরিবহন শ্রমিকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করবে, এক জাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে জনসাধারণ। সড়কে নানা অনিয়মের কারণে মামলা ও জরিমানার নজির আছে। কিন্তু অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারণে দোষী গণপরিবহন মালিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা হয় খুবই কম। হলেও তারা বাস চলাচলই বন্ধ করে দেন। জনগণ নানামুখী চাপে এক সীমাহীন দুর্ভোগে রয়েছে। এখন সরকারের উচিত হবে অন্তত সরকারি নির্দেশনা মেনে যাতে গণপরিবহন ভাড়া আদায় হয়, তা নিশ্চিত করা।