Print Date & Time : 30 August 2025 Saturday 7:20 pm

পরীক্ষার দাবিতে ফোকলোর বিভাগে সভাপতির কক্ষে তালা

প্রতিনিধি,রাবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ফোকলোর বিভাগে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্সের ডিস-কলিজিয়েট হওয়া ৩১ শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় বসতে না দেওয়ায় বিভাগে ভাংচুরসহ সভাপতির কক্ষে তালা দিয়ে আন্দোলন করেন মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা।

রোববার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবনে বিভাগের সামনে আন্দোলনে করেন তারা।

বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্সের মোট ৪৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩১ জন শিক্ষার্থী ডিস-কলিজিয়েট হয়েছে। বাকি ১৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে একজন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে যোগদান করে। বাকি ১২ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে আজ (২৪ সেপ্টেম্বর) মাস্টার্সের চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু হয়। এদিকে পরীক্ষা শুরু হলে বিভাগের ১২২ নং কক্ষে যেখানে মাস্টার্স পরীক্ষা চলছিলো সেই কক্ষে ভাংচুরসহ ফোকলোর বিভাগের গেটে তালা ঝুলিয়ে ফোকলোর বিভাগের সভাপতিকে সরকার বিরোধী আখ্যা দিয়ে স্লোগান দিতে থাকে।

এসময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবি পেশ করেন। দাবি গুলো হল- মাস্টার্সের পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত করতে হবে। সকল শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে অনতিবিলম্বে নতুন করে মাস্টার্স পরীক্ষা ঘোষণা করা। মাস্টার্সের পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস প্রদান করাসহ, সকল কোর্সের জন্য পর্যাপ্ত ক্লাস গ্রহণ করতে হবে। শিক্ষকদের খেয়াল খুশিমত ক্লাস নেয়ার অপসংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে, ফর্ম পূরণের জন্য কমপক্ষে এক সপ্তাহ সময় দিতে হবে। বিভাগের উন্নয়ন ফি বাবদ অতিরিক্ত ফি প্রত্যাহার করতে হবে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. আসাবুল হক, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ড. জাহাঙ্গীর আলম সাউদ ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা তাদেরকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন। পরে সভাপতির সাথে প্রক্টরিয়াল বডি আলোচনা করে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, সভাপতির কক্ষে আমরা সবাই গিয়েছিলাম। তিনি আমাদের দুই-তিনজন প্রতিনিধির সাথে কথা বলতে চাইলে আমরা রাজি হই। বিভাগের সভাপতি আমাদেরকে জানান একাডেমিক সভা ডাকা হয়েছে সেখানে সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদেরকে জানাবেন।

এবিষয়ে ফোকলোর বিভাগের সভাপতি ড. মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ৩১ জন শিক্ষার্থী ডিস-কলেজিয়েট হয়েছে। তাদেরকে পরীক্ষায় বসতে সুযোগ না দেওয়ায় তারা আন্দোলন করেন। তাদের মধ্যে অনেকেই একদিনও ক্লাস করেনি। এবিষয়ে আমরা প্রশাসনের সাথে কথা বলেছি। আমাদের বিভাগে সভা ডাকা হয়েছে। সেখানে তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।