পর্যটকে মুখর শ্রীমঙ্গল, টানা ৩ দিনের ছুটিতে পরিপূর্ণ হোটেল-রিসোর্ট

রুপম আচার্য্য, মৌলভীবাজার : টানা তিন দিনের ছুটিতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পর্যটকের ঢল নেমেছে। ইটপাথরের শহর ছেড়ে একটু স্বস্তি পেতে পর্যটকেরা ছুটে আসেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ এই লীলাভূমিতে। পর্যটকদের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। হোটেল-রিসোর্ট মালিকরা জানিয়েছেন, বেশিরভাগ হোটেল-রিসোর্ট-কটেজ পর্যটকে পরিপূর্ণ। ফাঁকা নেই একটি রুমও। এ ছাড়া চা বাগানসহ শহরের বিভিন্ন বিনোদন স্পটগুলোয় পর্যটকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন বয়সের লোকজন পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পর্যটন এলাকার চায়ের দোকান ও রেস্তোরাঁয় ভিড় দেখা গেছে। শ্রীমঙ্গলের বধ্যভূমি ৭১, বাংলাদেশ চা গবেষণা কেন্দ , রাবার বাগান, বিটিআরআই চা বাগান, চা কন্যার ভাস্কর্য, নীলকণ্ঠ সাত রঙের চা কেবিন, বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনসহ শ্রীমঙ্গলের অসংখ্য পর্যটন স্পট প্রচুর পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। এ ছাড়া মৌলভীবাজার জেলার অন্যান্য পর্যটন কেন্দ ছাড়াও শ্রীমঙ্গল উপজেলার পার্শ^বর্তী কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ, নূরজাহান চা বাগান এবং মাধবপুর লেকেও পর্যটকে মুখর ছিল।

বালিশিরা রিসোর্টের পরিচালক (পরিচালনা ও প্রশাসন) জাহানারা আক্তার বলেন, ‘ব্যাপক পর্যটক সমাগম রয়েছে। তা ছাড়া দর্শনার্থীও যারা রুমে অ্যাকোমোডেশন লাভ করতে না পারলেও লাঞ্চ ও ডিনারে এসেছেন। সেইসঙ্গে সুইমিং পুল চালু হওয়ায় প্রচুর দর্শনার্থী দিনভর চারপাশে ঝিরি ও সুইমিং পুলের পাশে সময় কাটাচ্ছেন। এ বছর বৈশাখ মাসে এক দুদিন বৃষ্টি হওয়ায় এ খবর যেন ঢাকা পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। মনে হচ্ছে শ্রীমঙ্গলের বৃষ্টি এদেশের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আনন্দদায়ক ব্যাপার।’

জাহানারা বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমদের বালিশিরা রিসোর্টে ১ ও ২ তারিখ শতভাগ পরিপূর্ণ রয়েছে। আজ শনিবার ৬০ শতাংশ বুকিং নিশ্চিত হয়েছে। আশা করি এটি উন্নীত হবে এবং ৮০ ভাগ বুকিং কমপ্লিট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও গ্র্যান্ড সেলিম রিসোর্টের মালিক সেলিম আহমেদ বলেন, ‘টানা তিন দিনের ছুটি থাকলেও পর্যটক মূলত থাকে দুদিন। তবে পর্যটক উপস্থিতি মোটামুটি ভালো। পর্যটক দিন দিন শ্রীমঙ্গলমুখী হচ্ছেন, এটা অবশ্যই ভালো দিক। শ্রীমঙ্গলে পর্যটক আসবে এবং অর্থনীতির পরিবর্তন ঘটবে। স্থানীয় বেকারত্বের সমস্যা অনেকটা কমে গেছে।

তিনি বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী দেশে ভিসা বন্ধ রয়েছে, মালদ্বীপে ঘুরতে যাবে সেটাও অনেক ব্যয়বহুল। তা ছাড়া দেশের বাইরে যাওয়ার তো সামর্থ্য অধিকাংশের নেই! একটা সময় দেখা গেছে, শুধু মধ্যবিত্তরাই দেশের ভেতর ঘুরে বেড়াত, কিন্তু এখন দেশের সব শ্রেণির মানুষই দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। শ্রীমঙ্গলে ঘুরতে আসছেন, ছোট-বড় সব ধরনের হোটেল-কটেজে সব শ্রেণির মানুষ অবস্থান করছেন।’