মো. মিজানুর রহমান: পশ্চিম পাকিস্তানিদের অত্যাচার, নির্যাতন আর বঞ্চনার হাত থেকে বাঙালি জাতিকে রক্ষার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে এদেশের মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছিল যুদ্ধজয়ের রক্তাক্ত অধ্যয়ে, সৃষ্টি করেছিল গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। দীর্ঘ নয় মাসের নজিরবিহীন রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকাল ৪টা ৩১ মিনিটে (কোনো কোনো বর্ণনায় ৪টা ২১ মিনিটে) পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশের জš§ হয়। দেড় হাজার বছর আগে কর্ণাটক থেকে আগত সেন রাজাদের হাতে পাল রাজাদের পতনের মধ্য দিয়ে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়। এরপর মোগল, পাঠান, পর্তুগিজ, ওলন্দাজ, ব্রিটিশ এবং পাকিস্তানের শত শত বছরের শোষণ আর বঞ্চনার অবসান ঘটে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ডাকে। এজন্য বাঙালি জাতিকে অনেক বেশি মূল্য দিতে হয়েছে। ৩০ লাখ শহিদের রক্ত আর ২ লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে আমাদের এ স্বাধীনতা।
সব শঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের মিয়ানওয়ালি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বঙ্গবন্ধু লন্ডনে পৌঁছান। তারপর দিল্লি হয়ে ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু তার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশে আসেন। ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু অস্থায়ী সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং নতুন মন্ত্রিপরিষদ গঠন করে দেশ গঠনে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
স্বাধীনতার লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক মুক্তি। তাই তিনি কালবিলম্ব না করে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের অর্থনীতি ও অবকাঠামো পুনর্গঠনের লক্ষ্যে অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রাম শুরু করলেন। বঙ্গবন্ধু দেখলেন, নয় মাসের যুদ্ধে পাকিস্তানিরা এদেশে পোড়ামাটি নীতি গ্রহণ করে ছিল, সর্বত্র ছিল পাকিস্তানির বাহিনীর ধ্বংসলীলার ক্ষতচিহ্ন। তারা এদেশের যোগাযোগব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস করেছে। হাজার হাজার গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে। তাদের নিষ্ঠুর অত্যাচারে ১ কোটি মানুষকে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে আশ্রয় নিতে হয়েছিল। এসব শরণার্থীরা তাদের বাড়িতে এসে দেখে কিছুই নেই, সব পুড়িয়ে দিয়েছে পাকসেনারা। একদিকে দীর্ঘদিন কলকারখানা বন্ধ, অন্যদিকে কৃষকও দীর্ঘদিন তার জমিতে ফসল ফলাতে পারেননি। এমনই এক অভূতপূর্ব পুনর্বাসনের চ্যালেঞ্জ এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির পুনর্গঠন ছিল বঙ্গবন্ধুর সামনে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। তিনি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চালু করতে গেলেন চট্টগ্রাম বন্দর, সেখানে পাকসেনারা মাইন বসিয়ে রেখেছে। বন্দরকে চালু করতে হলে মাইন পরিষ্কার করতে হবে। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন বঙ্গবন্ধুর অনুরোধে এই কঠিন কাজটি সম্পন্ন করে আমাদের চট্টগ্রাম বন্দরটি ব্যবহার উপযোগী করে দেয়। বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে দেখলেন বাংলাদেশ ব্যাংকে মাত্র ১৮ ডলার আছে। ভারত তখন সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার দেয়। এছাড়া সুইডেন ও কানাডা বাংলাদেশকে ডলার ও গোল্ড দিল। এই ডলার দিয়ে বাংলাদেশ আইএমএফ ব্যাংকে চাঁদা দিয়ে সদস্য হলো। আর ব্যাংকে গোল্ড থাকায় নিজস্ব মুদ্রা অর্থাৎ টাকা ছাপানোর সুযোগ পেল।
মার্কিন কূটনৈতিক জনসন বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে উল্লেখ করেছিল। পরে এটাকেই হেনরি কিসিঞ্জার উল্লেখ করায়, তৎকালীন বিশ্বে বাংলাদেশ তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে ব্যাপক প্রচার পায়। সে সময়ে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেকেই শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। তার মধ্যে প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ অস্টিন রবিনসন তার ‘ইকোনমিক প্রসপেক্টাস অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক গ্রন্থে বাংলাদেশের টিকে থাকা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির তুলনায় জনসংখ্যার প্রবৃদ্ধি বেশি থাকায় দেশের ভবিষ্যৎকে ম্যালথাসিয়ান স্ট্যাগনেশনের সঙ্গে তুলনা করেন; যার পরিণতি দুর্ভিক্ষ ও মৃত্যু। হিউজ ফারেন বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ঠিক হতে ২০০ বছর লাগবে। বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে নিয়ে প্রথম যে রিপোর্ট করল সেখানে উল্লেখ্য করা হয়েছিল এদেশের জিডিপি শতকরা ১২ ভাগ পেছনের দিকে অর্থাৎ ১২ পারসেন্ট ঋণাত্মক। মাথাপিছু আয় ৮৫-৮৬ ডলারের বেশি হবে না। সব জায়গা থেকে শুধু নেতিবাচক কথা। ৭০ দশকে বাংলাদেশের পরিচিতি ছিল দারিদ্র্য, দুর্যোগ আর রাজনৈতিক অস্থিরতার দেশ হিসেবে। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশকে খাদ্য ঘাটতি, দুর্ভিক্ষ আর প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত জনপদ হিসেবে চিনেছেন বিশ্ববাসী। বিশ্বের নামকরা গণমাধ্যমে প্রথম থেকেই বাংলাদেশকে দেখানো হতো অত্যন্ত দরিদ্র একটি দেশ হিসেবে, যেখানে দেশের লোক খাবার পাচ্ছে না। আর দেখানো হতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর বন্যার ছবি। পশ্চিমা বিশ্ব সর্বদাই বাংলাদেশের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দেন। বঙ্গবন্ধু এসব অপপ্রচারকে গুরুত্ব না দিয়ে দৃঢ়কণ্ঠে সবাইকে জানিয়ে দিলেন ‘বাংলাদেশ এসেছে, বাংলাদেশ থাকবে।’
বঙ্গবন্ধু দেশ গড়ায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানালেন। শুরু হলো আর এক যুদ্ধ। দেশ গড়ার কাজ। বঙ্গবন্ধু সরকারের উল্লেখযোগ্য কাজ ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসন, ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা, মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র সমর্পণ, স্বাধীন বাংলার প্রশাসনিক পদক্ষেপ, ভারতীয় বাহিনীকে দ্রুত তাদের দেশে প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা করা, সংবিধান প্রণয়ন করা, ’৭৩ সালের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা, পরিকল্পিতভাবে দেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ। এছাড়া জাতিসংঘের সদস্যপদসহ অধিকাংশ আন্তর্জাতিক সংস্থা বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের মতো সংস্থার সদস্যপদ গ্রহণ, সশস্ত্রবাহিনী পুনর্গঠন, ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফ, ৫০০ চিকিৎসককে গ্রামে পদায়ন করা, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা, কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন গঠন ও শিক্ষানীতি প্রণয়ন হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে। মাত্র সাড়ে তিন বছরের শাসনামলে বঙ্গবন্ধুর অক্লান্ত পরিশ্রমে দেশ যখন ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে, তখনই ঘাতক চক্রের হাতে নির্মমভাবে সপরিবারে শহিদ হন ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। থমকে দাঁড়ায় বাংলাদেশ।
জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে তলাবিহীন ঝুড়ি হতে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। স্বাধীনতা-পরবর্তী বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের যে পরিচিতি আর ভাবমূর্তি ছিল সেটি গত ৫ দশকে পাল্টেছে বহুভাবে এবং অহংকার ও অগ্রগতির অনেক জায়গা আছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতিকে দেখা হচ্ছে ডেভেলপমেন্ট মিরাকল হিসেবে। কেউ কেউ বলছেন, ডেভেলপমেন্ট প্যারাডক্স বা উন্নয়নের একটা ধাঁধা। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের অনেক দেশের কাছেই উন্নয়নের দৃষ্টান্ত। গত অর্ধশতাব্দীতে বিশেষ করে বঙ্গবন্ধুর সাড়ে তিন বছরের শাসনামল এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১৭ বছরের দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার ২৭১ গুণ বেড়েছে আর মাথাপিছু আয় বেড়েছে তিনশত গুণেরও বেশি। মাথাপিছু আয় এখন ২ হাজার ৫৫৪ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৪১তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক লিগটেবল ২০২১, সিইবিআরের মতে, ২০৩৫ সালে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ২৫তম অর্থনৈতিক শক্তি। বিদেশি সাহায্যনির্ভর দেশ থেকে বাংলাদেশ এখন তার পার্শ্ববর্তী দেশকে (শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ) ঋণ সহায়তা দেয়ার সক্ষমতা অর্জন করেছে। দেশ স্বাধীনের সময় বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ছিল ৪৭ বছর আর এখন এটা বেড়ে হয়েছে ৭৩ বছর। ’৭২ সালে ৮০ শতাংশ লোক ছিল দারিদ্র্যসীমার নিচে, করোনা মহামারির আগে সেটা নেমে এসেছিল ২০ শতাংশে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ৬.৯ থেকে কমে এখন ১.২-এ নেমে এসেছে। মাতৃমৃত্যুর হার কমেছে, শিক্ষার প্রসার বেড়েছে। প্রাথমিক শিক্ষায় এখন ছেলেমেয়ের বৈষম্য নেই। সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটেছে। নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে, বাল্যবিবাহ কমেছে, সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত পাঁচ দশকে প্রতিটি প্রজš§ তার পূর্বের প্রজš§ থেকে ভালো আর্থসামাজিক অবস্থান নিয়ে এগিয়ে চলছে। দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৮.৪ বিলিয়ন (২৪ আগস্ট ২০২১ অনুযায়ী)। বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পেছনেই বাংলাদেশের অবস্থান। বাংলাদেশের পেছনে নিকটতম অবস্থানে আছে পাকিস্তান, তবে তা ২৮ ধাপ পেছনে। দেশীয় অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। সারাদেশেই এখন উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। মেগা প্রকল্পগুলো এখন দৃশ্যমান। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে এলডিসি থেকে উত্তরণের অনুমোদন পেয়ে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছে, যা ২৪ নভেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া, সাফল্যের সঙ্গে দুর্যোগ মোকাবিলা করা, শান্তিরক্ষা মিশনে ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং এ ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিগ্রস্ত দেশের প্রতিনিধি হিসেবে নেতৃত্ব দেয়া এবং তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে উঠে আসা বিশ্বে বাংলাদেশের ইতিবাচক ইমেজ তৈরি হয়েছে। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার আমাদের সাকিব, অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্ব ক্রিকেট চ্যাম্পিয়ন এখন বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে আমরা আমাদের অবস্থান জানিয়েছি বিশ্ববাসীকে। দেশ এখন ৫-এ নেটওয়ার্কের যুগে প্রবেশ করেছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লরে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত আমাদের তরুণ সমাজ। এ সবই বাংলাদেশের সাফল্য।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সেবা খাতের পরিধি বেড়েছে। কিন্তু মানসম্পন্ন সেবা দরিদ্ররা পাচ্ছে না, আবার সকল সেবা পৌঁছানোর ক্ষেত্রেও বৈষম্য রয়েছে। করোনাকালে ডিজিটাল বৈষম্য প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। মানসম্মত শিক্ষা, পুষ্টি নিশ্চিত করা যায়নি। শহর ও গ্রামের মধ্যে অবকাঠামোগত বৈষম্য রয়েছে। এগুলো দূর করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনী ইশতেহার ২০১৮ তার নতুন দর্শন ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ ঘোষণা করেছেন। এতে শহরের সকল সুবিধা গ্রামে পৌঁছে দেয়ার কথা বলা হয়েছে। পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশের থেকেও বাংলাদেশ করোনা অতিমারি দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে। এতে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কম হয়েছে, যা বিশ্বের কাছে প্রশংসিত হয়েছে।
পাঁচ দশকে বাংলাদেশ প্রায় সকল ক্ষেত্রেই বদলে গেছে, বদলায়নি শুধু জাতির পিতার আদর্শ এবং স্বপ্ন থেকে। এই স্বপ্ন ও আদর্শকে ধারণ করে বিশ্বসভায় বাংলাদেশ স্থান পেয়েছে এক অনন্য উচ্চতায়। এরই ধারাবাহিকতায় অর্জিত হবে ২০৪১-এ উন্নত বাংলাদেশ। সেই স্বপ্নের উন্নত বাংলাদেশের চাবি এখন ডিজিটাল বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হাতে।
পিআইডি নিবন্ধ