পাকিস্তানের বেশিরভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ বিপর্যয়

শেয়ার বিজ ডেস্ক: পাকিস্তানে গতকাল সোমবার সকালে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয় হয়েছে। করাচি, লাহোরসহ দেশটির বেশিরভাগ এলাকায় ২২ কোটির বেশি মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। খবর: ডন ও জিও নিউজ।

পাকিস্তানের গণমাধ্যম ডনের খবরে জানা যায়, দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় বলেছে, জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণে এ অবস্থা হয়েছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, আজ (গতকাল) সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে বিদ্যুৎ চলে যায়। দ্রুত সারানোর কাজ চলছে।

জিও নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জ্বালানিমন্ত্রী খুরাম দস্তগীর বলেন, জাতীয় গ্রিডে সমস্যা খুব বড় নয়। শীতে বিদ্যুতের চাহিদা কমে যায়। অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে রাতে বিদ্যুৎব্যবস্থা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়। সকালে আবার চালু করা হয়। পেশোয়ার ও ইসলামাবাদে গ্রিড স্টেশনগুলো আবার চালু করা হয়েছে। ১২ ঘণ্টার মধ্যে দেশজুড়ে বিদ্যুৎব্যবস্থা সচল করা হবে বলে আমি আশ্বস্ত করছি।

গতকাল সকালে চালু করার সময় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ফ্রিকোয়েন্সি ও ভোল্টেজ ওঠানামা হয়। দাদু ও জামশোরো জেলার মাঝামাঝিতে কোথাও এ ঘটনা ঘটে। এ কারণে একের পর এক বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিটগুলো বন্ধ হয়।

ইসলামাবাদ, করাচি, কোয়েটা, পেশোয়ার ও লাহোরে বিদ্যুৎ নেই বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের গণমাধ্যমগুলো। গত বছরের অক্টোবরে পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে

চাপের কারণে পাকিস্তানে প্রায়ই এ ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয় হয়। বিদ্যুৎবিভ্রাটের কারণে দেশটির মেট্রো পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। রাজধানী ইসলামাবাদ ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির ১১৭টি গ্রিড স্টেশনেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, জাতীয় গ্রিড হচ্ছে সারাদেশে বিদ্যুতের একটি সঞ্চালন ব্যবস্থা। প্রকৌশলীরা একে অনেকটা মহাসড়ক বা রেললাইনের সঙ্গে তুলনা করেন। এ ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ উৎপাদকদের কাছ থেকে নিয়ে ক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করা হয়।

এর আগে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে পাকিস্তানজুড়ে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দেয়। ইসলামাবাদসহ প্রধান সব শহর বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হওয়ায় পাকিস্তানজুড়ে নেমে আসে অন্ধকার। পাকিস্তানে এ রকম বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনা অস্বাভাবিক নয়। বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের জন্য অনেকে প্রস্তুতও থাকেন। হাসপাতালসহ জরুরি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাক-আপ হিসেবে ডিজেলচালিত জেনারেটর রাখে সব সময়।

২০১৩ সালে বেলুচিস্তানের একটি পাওয়ার প্ল্যান্টে কারিগরি ত্রুটির কারণে পাকিস্তানের বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ বিকল হয়ে যায়।